অভিষেকেই দুই বা তার বেশি গোল, অনন্য রেকর্ড বিশ্বকাপেও অব্যাহত রাখলেন আর্লিং হালান্ড
প্রথম মঞ্চেই ইতিহাস গড়ার অভ্যাস বহুদিনের। উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগে অভিষেকে হ্যাটট্রিক, Borussia Dortmund-এর হয়ে অভিষেক ম্যাচে হ্যাটট্রিক, Premier League-এ প্রথম ম্যাচে জোড়া গোল, আর এবার বিশ্বকাপ অভিষেকেও ব্রেস।

ফিফা বিশ্বকাপে অধিকাংশ ফুটবলারেরই নিজেদের ছন্দে ফিরতে কিছুটা সময় লাগে। কিন্তু আরলিং হালান্ডের ক্ষেত্রে সেই অপেক্ষা ছিল মাত্র আধ ঘণ্টারও কম।
ইরাকের বিরুদ্ধে নরওয়ের জার্সিতে বহু প্রতীক্ষিত বিশ্বকাপ অভিষেকে নেমেই জোড়া গোল করে ফুটবল বিশ্বের নজর কেড়ে নিলেন হালান্ড। তাঁর দুরন্ত পারফরম্যান্সে নরওয়ে ৪-১ ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে বিশ্বকাপ মঞ্চে একটা বার্তা দিল।
ম্যাচের ২৯ মিনিটে প্রথম গোলটি করেন হালান্ড। দ্রুতগতির এক আক্রমণ থেকে বল জালে জড়ান তিনি। এরপর প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার ঠিক আগে ইরাকের রক্ষণভাগের একটি ভুলের সুযোগ কাজে লাগিয়ে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন এই তারকা স্ট্রাইকার।
তবে এই পারফরম্যান্সের গুরুত্ব শুধু স্কোরলাইনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। ব্যাপারটার আরও গুরুত্ব আছে। ১৯৯৮ সালের পর এই প্রথম ফিফা বিশ্বকাপে খেলতে নামল নরওয়ে। মজার বিষয়, সেই বিশ্বকাপে নরওয়ের শেষ অংশগ্রহণের সময় হালান্ডের জন্মই হয়নি। ফলে গোটা একটি প্রজন্মের নরওয়েজিয়ান সমর্থকদের কাছে এটাই ছিল প্রথম বিশ্বকাপের অভিজ্ঞতা। আর তাঁদের সবচেয়ে বড় তারকা সেই স্বপ্নের রাতকে আরও স্মরণীয় করে তুললেন।
আসলে এমন অভিষেক যেন হালান্ডের ক্যারিয়ারেরই অবিচ্ছেদ্য অংশ। প্রথম মঞ্চেই ইতিহাস গড়ার অভ্যাস বহুদিনের। উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগে অভিষেকে হ্যাটট্রিক, Borussia Dortmund-এর হয়ে অভিষেক ম্যাচে হ্যাটট্রিক, Premier League-এ প্রথম ম্যাচে জোড়া গোল, আর এবার বিশ্বকাপ অভিষেকেও ব্রেস। মঞ্চ যাই হোক না কেন, প্রথম ইমপ্রেশনকে স্মরণীয় করে তুলতেই যেন নামেন হালান্ড।
হালান্ডের গোলের সেলিব্রেশনে নরওয়েতেও নেমে আসে উন্মাদনার ঢেউ। Bergen শহরে তাঁর গোলের সময় এতটাই উচ্ছ্বাস তৈরি হয়েছিল যে, স্থানীয় ভূকম্পবিদরা পরিমাপযোগ্য কম্পনও রেকর্ড করেন। অবশ্য তা কোনও ভূমিকম্প ছিল না; হাজার হাজার সমর্থকের একসঙ্গে লাফিয়ে ওঠার ফলেই সেই কম্পন তৈরি হয়েছিল।
বিশ্বকাপের চাপের মঞ্চে হালান্ড উজ্জ্বল হতে পারবেন কি না, তা নিয়ে যদি কারও কোনও সংশয় থেকেও থাকে, মাত্র ৯০ মিনিটেই তার জবাব দিয়ে দিয়েছেন তিনি। দুই গোল, একটি দাপুটে জয় এবং নতুন করে স্বপ্ন দেখতে শুরু করা একটি জাতি—বিশ্বকাপের অভিষেকে আরলিং হালান্ডের রাতটি সত্যিই ছিল ইতিহাস গড়ার মতো।








