হাইতির বিরুদ্ধে নামার আগে সৎভাবে আত্মসমালোচনার ডাক ব্রাজিল তারকা দানিলোর
বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে মরক্কোর বিরুদ্ধে হতাশাজনক ড্রয়ের পর নিজেদের ভুলত্রুটি নিয়ে সৎ আত্মসমালোচনার প্রয়োজনীয়তার কথা স্বীকার করলেন ব্রাজিলের অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার দানিলো। শুক্রবার গ্রুপ সি-তে ভারতীয় সময় শনিবার ভোরে হাইতির বিরুদ্ধে মাঠে নামার আগে ব্রাজিল শিবিরে বাড়ছে চাপ, কারণ এই ম্যাচেও জয় না পেলে নকআউটের রাস্তা আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে মরক্কোর বিরুদ্ধে হতাশাজনক ড্রয়ের পর নিজেদের ভুলত্রুটি নিয়ে সৎ আত্মসমালোচনার প্রয়োজনীয়তার কথা স্বীকার করলেন ব্রাজিলের অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার দানিলো। শুক্রবার গ্রুপ সি-তে ভারতীয় সময় শনিবার ভোরে হাইতির বিরুদ্ধে মাঠে নামার আগে ব্রাজিল শিবিরে বাড়ছে চাপ, কারণ এই ম্যাচেও জয় না পেলে নকআউটের রাস্তা আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।
নিউ জার্সিতে প্রথম ম্যাচে মরক্কোর বিরুদ্ধে বেশিরভাগ সময়ই পারফরম্যান্সের দিক দিয়ে পিছিয়ে ছিল কার্লো আনচেলত্তির ব্রাজিল। মাঠের প্রায় প্রতিটি বিভাগেই ব্রাজিলের দুর্বলতা প্রকাশ্যে এনে দিয়েছিল মরক্কো। শেষ পর্যন্ত ভিনিসিয়াস জুনিয়রের ব্যক্তিগত নৈপুণ্যই ব্রাজিলকে ১-১ ড্র এনে দেয়।
বুধবার সাংবাদিক সম্মেলনে দানিলো স্পষ্ট ভাষায় বলেন, পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের পারফরম্যান্স প্রত্যাশার ধারেকাছেও ছিল না।
"আমাদের পরিষ্কারভাবে সত্যিটা স্বীকার করতে হবে। উন্নতি করার এবং ভুল শুধরে নেওয়ার সবচেয়ে ভালো উপায় হলো বাস্তবের মুখোমুখি হওয়া এবং যা ঘটেছে, তা খোলাখুলি বিশ্লেষণ করা।"
তিনি আরও বলেন,
"প্রথমার্ধে আমরা আমাদের সামর্থ্য অনুযায়ী খেলতে পারিনি এবং ব্রাজিল জাতীয় দলের কাছ থেকে যে প্রত্যাশা থাকে, তার তুলনায় অনেক নিচে নেমে গিয়েছিলাম।"
মরক্কোর হয়ে প্রথম গোলটি করেন ইসমাইল সাইবারি। গোটা প্রথমার্ধেই আধিপত্য বজায় রেখেছিল আফ্রিকার দলটি এবং ব্রাজিলকে ছন্দ খুঁজে পেতে দেয়নি। পরে ভিনিসিয়াসের অসাধারণ ব্যক্তিগত প্রচেষ্টায় সমতা ফেরে, তবে সেই ড্র আনচেলত্তির জন্য নতুন করে চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিশেষ করে ইতালীয় কোচের দল নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ব্রেন্টফোর্ডের স্ট্রাইকার ইগর থিয়াগোকে প্রথম একাদশে রাখার সিদ্ধান্ত এবং রজার ইবানেজকে রাইট-ব্যাকে খেলানো চমকে দিয়েছিল অনেককেই। কিন্তু এই পরীক্ষামূলক সিদ্ধান্তগুলোর কোনও ইতিবাচক প্রভাব দেখা যায়নি। বরং প্রথমার্ধে বারবার জায়গা তৈরি করে ব্রাজিলের রক্ষণকে বিপাকে ফেলেছিল মরক্কো।
অন্যদিকে, মিডফিল্ডের দুই তারকা ক্যাসেমিরো এবং লুকাস পাকুয়েতাও নিজেদের প্রভাব বিস্তার করতে ব্যর্থ হন। তাঁদের পরিবর্তে দানিলো, ফাবিনহো এবং মাতেউস কুনিয়াকে নামানোর পর ব্রাজিলের খেলার ভারসাম্য অনেকটাই ফিরে আসে।
ফলে হাইতির বিরুদ্ধে ম্যাচের আগে নতুন করে নির্বাচনী ধাঁধায় পড়েছেন আনচেলত্তি। তিনি কি প্রথম ম্যাচের একাদশে আস্থা রাখবেন, নাকি যারা দ্বিতীয়ার্ধে দলকে স্থিতিশীলতা এনে দিয়েছিলেন, তাঁদের সুযোগ দেবেন—সেই প্রশ্নই এখন বড় হয়ে উঠেছে।
তবে দানিলোর মতে, আধুনিক ফুটবলে এমন অনিশ্চয়তা খুবই স্বাভাবিক।
"প্রত্যেক দলেরই কিছু নির্দিষ্ট খেলোয়াড় থাকে। ছয়, সাত কিংবা আটজন নিয়মিত প্রথম একাদশে খেলেন। বাকি তিন-চারজনকে প্রতিপক্ষ, ম্যাচের পরিস্থিতি এবং কৌশল অনুযায়ী বদল করা হয়।"
তিনি যোগ করেন,
"এখনকার ফুটবলে কৌশল সবসময় প্রতিপক্ষের উপর নির্ভর করে বদলে যায়।"
হাইতির বিরুদ্ধে ম্যাচের জন্য আনচেলত্তি এখনও নিজের পরিকল্পনা পুরোপুরি প্রকাশ করেননি। তবে দানিলো জানিয়েছেন, দলের প্রায় ৮০ শতাংশ চূড়ান্ত হয়ে গেছে।
"শুক্রবারের ম্যাচের জন্য প্রায় ৮০ শতাংশ দল ঠিক হয়ে গিয়েছে। এখনও তিন-চারটি জায়গা নিয়ে আলোচনা চলছে।"
এরপর কোচদের নিয়ে হালকা মেজাজে মজাও করেন ব্রাজিলিয়ান ডিফেন্ডার।
"কোচরা একটু পাগলই হন। কখনও কখনও এমন সিদ্ধান্ত নেন, যার কোনও যৌক্তিক ব্যাখ্যাই খুঁজে পাওয়া যায় না।"
তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, শেষ মুহূর্তে দলে জায়গা পাওয়া বা না পাওয়ার সম্ভাবনা খেলোয়াড়দের প্রস্তুতিতে কোনও প্রভাব ফেলে না।
হাইতির বিরুদ্ধে ম্যাচে ব্রাজিল নিঃসন্দেহে ফেভারিট হিসেবে নামবে। কিন্তু মরক্কোর বিরুদ্ধে প্রথম ম্যাচ দেখিয়ে দিয়েছে, শুধু নামের জোরে বিশ্বকাপে কিছুই পাওয়া যায় না। ব্রাজিলের দুর্বলতাগুলো ইতিমধ্যেই প্রকাশ্যে এসেছে এবং দানিলোর বার্তা স্পষ্ট—ঘুরে দাঁড়াতে হলে প্রথমে নিজেদের ভুলগুলোকে সৎভাবে স্বীকার করতেই হবে। ব্রাজিলের কাছে তাই হাইতির বিরুদ্ধে ম্যাচটি শুধু তিন পয়েন্টের লড়াই নয়, বরং নিজেদের আসল পরিচয় ফিরিয়ে আনারও বড় পরীক্ষা।








