১৮ বছর পর আইপিএলে নাইকির প্রত্যাবর্তন, মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের সঙ্গে বড় চুক্তি!
২০২৭ সালের মরসুম থেকে মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের পুরুষদের আইপিএল দল এবং মহিলাদের মহিলা প্রিমিয়ার লিগের দলের সরকারি পোশাক ও ক্রীড়াসামগ্রীর অংশীদার হতে চলেছে নাইকি। এত দিন এই দায়িত্বে ছিল স্কেচার্স। দীর্ঘ ১৮ বছর পর আবারও আইপিএলের কোনও দলের সঙ্গে যুক্ত হতে চলেছে নাইকি। এর আগে ২০০৮ সালে আইপিএলের প্রথম মরসুমে ডেকান চার্জার্সের সঙ্গে এক মরসুমের জন্য যুক্ত ছিল সংস্থাটি।

এক্সট্রাটাইম ওয়েবডেস্ক: দীর্ঘ ছয় বছর পর আবারও ভারতীয় ক্রিকেটের বাণিজ্যিক দুনিয়ায় নিজেদের উপস্থিতি জোরদার করতে চলেছে নাইকি। ২০২০ সালে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে কিট স্পনসরশিপের সম্পর্ক ছিন্ন করার পর এত দিন ক্রিকেট থেকে কার্যত দূরেই ছিল এই আন্তর্জাতিক ক্রীড়াসামগ্রী প্রস্তুতকারী সংস্থা। সেই সময়ে বাজারে নিজেদের অবস্থান শক্ত করেছে প্রতিদ্বন্দ্বী সংস্থাগুলি। ভারতীয় জাতীয় ক্রিকেট দলের পোশাকের দায়িত্ব নিয়েছে অ্যাডিডাস। অন্যদিকে, রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু এবং দিল্লি ক্যাপিটালসের সঙ্গে যুক্ত হয়ে ক্রিকেটকে কেন্দ্র করে নিজেদের পোশাকের বাজার আরও বিস্তৃত করেছে পুমা। এ বার সেই প্রতিযোগিতায় নতুন করে ঝাঁপাতে চলেছে নাইকি।
২০২৭ সালের মরসুম থেকে মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের পুরুষদের আইপিএল দল এবং মহিলাদের মহিলা প্রিমিয়ার লিগের দলের সরকারি পোশাক ও ক্রীড়াসামগ্রীর অংশীদার হতে চলেছে নাইকি। এত দিন এই দায়িত্বে ছিল স্কেচার্স। দীর্ঘ ১৮ বছর পর আবারও আইপিএলের কোনও দলের সঙ্গে যুক্ত হতে চলেছে নাইকি। এর আগে ২০০৮ সালে আইপিএলের প্রথম মরসুমে ডেকান চার্জার্সের সঙ্গে এক মরসুমের জন্য যুক্ত ছিল সংস্থাটি।
নাইকির এই প্রত্যাবর্তনের পিছনে রয়েছে ভারতীয় ক্রিকেটের বদলে যাওয়া বাণিজ্যিক বাস্তবতা। ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট এখন আর শুধু কয়েক মাসের প্রতিযোগিতায় সীমাবদ্ধ নয়। ক্রিকেটকে ঘিরে পোশাক, জুতো, প্রশিক্ষণের সামগ্রী এবং দৈনন্দিন জীবনযাপনের ফ্যাশনের বাজারও ক্রমশ বড় হচ্ছে। আর সেই বাজারে মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের জনপ্রিয়তা নাইকির কাছে বড় সুযোগ।
মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের বিপুল সমর্থকগোষ্ঠী, পরিচিত নীল-সোনালি জার্সি এবং শক্তিশালী বাণিজ্যিক উপস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে ভারতীয় বাজারে নিজেদের প্রভাব আরও বাড়াতে চাইছে নাইকি। দলের সমর্থকদের কাছে পৌঁছনোর পাশাপাশি তরুণ প্রজন্মের পোশাক ও ফ্যাশনের বাজারেও নিজেদের অবস্থান শক্ত করার লক্ষ্য রয়েছে সংস্থাটির।
এই চুক্তি শুধু মাঠে ক্রিকেটারদের গায়ে নাইকির লোগো দেখা যাওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। ম্যাচের জার্সির পাশাপাশি প্রশিক্ষণের পোশাক, সফরের পোশাক এবং সমর্থকদের জন্য বিশেষ নকশার দৈনন্দিন ব্যবহারযোগ্য পোশাক বাজারে আনার পরিকল্পনাও রয়েছে। মুম্বইয়ের রাস্তাঘাটের ফ্যাশন এবং ক্রিকেটের জনপ্রিয়তাকে এক সুতোয় বাঁধতে চাইছে দুই পক্ষই।
২০২৭ সালের প্রতিযোগিতার জন্য মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের নতুন ম্যাচের জার্সি এখনও প্রকাশ করা হয়নি। তবে ক্রিকেটার, কোচ এবং দলের অন্যান্য সদস্যদের ইতিমধ্যেই নাইকির প্রশিক্ষণের পোশাকে দেখা যাচ্ছে।
ভারতে ক্রীড়াপোশাকের বাজার যত দ্রুত বাড়ছে, ক্রিকেটের সঙ্গে যুক্ত থাকার গুরুত্বও তত বাড়ছে। জাতীয় দলের পোশাকের বাজারে সরাসরি উপস্থিত না থাকলেও, মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের মতো জনপ্রিয় ফ্র্যাঞ্চাইজির মাধ্যমে সেই বাজারে নতুন করে প্রভাব বিস্তারের সুযোগ পাচ্ছে নাইকি।
সব মিলিয়ে, এই চুক্তি নাইকির কাছে শুধুমাত্র ক্রিকেটে প্রত্যাবর্তন নয়, বরং ভারতীয় তরুণ প্রজন্মের ফ্যাশন ও জীবনযাত্রার বাজারে নিজেদের অবস্থান আরও মজবুত করার কৌশলগত পদক্ষেপ। ২০২৭ সালের মরসুমে মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের নতুন জার্সিতে নাইকির পরিচিত চিহ্ন কতটা জনপ্রিয়তা পায়, এখন সেদিকেই নজর থাকবে ক্রিকেট ও ক্রীড়াবাণিজ্যের মহলের।








