কলকাতায় মাইকন, লক্ষ্য ২০৩৭! ভারতীয় ফুটবলের উন্নয়নে বড় পদক্ষেপ কিং স্পোর্টস ম্যানেজমেন্টের
আগামী ১৪ নভেম্বর সেই গৌরবময় ইতিহাসে আরও একটি নতুন অধ্যায় যুক্ত হতে চলেছে। ব্রাজিলের কিংবদন্তি ফুটবলার এবং ইন্টার মিলানের প্রাক্তন তারকা ডগলাস মাইকন কিং স্পোর্টস ম্যানেজমেন্টের গ্লোবাল ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর হিসেবে কলকাতায় আসছেন।
এক্সট্রা টাইম নিউজডেস্ক: ব্রাজিলীয় ফুটবলের প্রতি কলকাতার ভালোবাসা যে অতুলনীয়, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। কসমসের ফুটবলার হিসেবে পেলের কলকাতার মাঠে পা রাখা থেকে শুরু করে সম্প্রতি ব্রাজিল জাতীয় দলের বিরুদ্ধে ভারতের খেলা—একাধিক স্মরণীয় মুহূর্তের সাক্ষী থেকেছে এই শহর। আগামী ১৪ নভেম্বর সেই গৌরবময় ইতিহাসে আরও একটি নতুন অধ্যায় যুক্ত হতে চলেছে। ব্রাজিলের কিংবদন্তি ফুটবলার এবং ইন্টার মিলানের প্রাক্তন তারকা ডগলাস মাইকন কিং স্পোর্টস ম্যানেজমেন্টের গ্লোবাল ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর হিসেবে কলকাতায় আসছেন।
প্রদর্শনী ম্যাচ কিংবা প্রচারমূলক সফরে ফুটবলারদের কলকাতায় আসা নতুন কিছু নয়। তবে কিং স্পোর্টস ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে মাইকনের এই অংশীদারত্ব তাঁর সফরে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য ভারতীয় ক্রীড়াক্ষেত্রের ভিত্তি আরও মজবুত করা—অর্থাৎ, তৃণমূল স্তর থেকে প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের তুলে আনা এবং তাঁদের বিকাশ ঘটানো।
কিং স্পোর্টস ম্যানেজমেন্ট মাইকনকে শুধুমাত্র ব্র্যান্ডের মুখ হিসেবে নয়, বরং তৃণমূল স্তরে ফুটবলের উন্নয়নে সক্রিয় ভূমিকা পালনকারী একজন ব্যক্তিত্ব হিসেবেও তুলে ধরছে। প্রতিভা অন্বেষণ, আবাসিক অ্যাকাডেমির সঙ্গে সমন্বয় এবং দেশজুড়ে যুব ফুটবলারদের উন্নয়নমূলক কর্মসূচি পরিচালনার ক্ষেত্রে সংস্থাটি ইতিমধ্যেই নিজেদের কার্যক্রম প্রসারিত করেছে।
দু'বারের বিশ্বকাপ খেলা এবং উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগজয়ী একজন ফুটবল ব্যক্তিত্বের ভারতীয় ক্রীড়া উন্নয়ন ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত হওয়া দেশের তরুণ খেলোয়াড়দের জন্য গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতার দরজা খুলে দিতে পারে। পেশাদার ফুটবলার হওয়ার স্বপ্ন দেখা ভারতীয় তরুণদের জন্য মাইকনের এই জোট যুব প্রতিভা অন্বেষণের কাঠামোকে আরও শক্তিশালী করবে, উন্নত মানের কারিগরি পরামর্শের সুযোগ করে দেবে এবং আন্তর্জাতিক ফুটবলে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করার পথ প্রশস্ত করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
নিজের প্রজন্মের অন্যতম শক্তিশালী ও গতিশীল রাইট-ব্যাক হিসেবে পরিচিত মাইকন। তাঁর দুরন্ত ওভারল্যাপিং রান, রক্ষণে দৃঢ়তা এবং চোখধাঁধানো গোল ফুটবলপ্রেমীদের স্মৃতিতে চিরস্থায়ী হয়ে রয়েছে। বিশেষ করে, ২০১০ ফিফা বিশ্বকাপে উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে তাঁর অবিশ্বাস্য কোণ থেকে করা গোলটি ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম স্মরণীয় মুহূর্ত। হোসে মরিনহোর ঐতিহাসিক ২০০৯-১০ মরশুমে ইন্টার মিলানের ট্রেবলজয়ী দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন তিনি। মাইকনের বর্ণময় কেরিয়ার সর্বোচ্চ পর্যায়ের পারফরম্যান্স, কৌশলগত শৃঙ্খলা এবং নিরলস অধ্যবসায়ের প্রতীক।
আগামী ১৩ নভেম্বর কলকাতায় পৌঁছবেন মাইকন। পরের দিন, অর্থাৎ ১৪ নভেম্বর, কিং স্পোর্টস ম্যানেজমেন্টের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর হিসেবে নিজের ভূমিকা তুলে ধরবেন তিনি। সেই অনুষ্ঠানেই সূচনা হবে ‘মিশন ২০৩৭’-এর। এই উদ্যোগের লক্ষ্য এমন একদল ভারতীয় ফুটবলার তৈরি করা, যাঁরা ভবিষ্যতে ইউরোপের বিভিন্ন ক্লাবের হয়ে খেলতে পারবেন এবং নিজেদের প্রতিভার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ফুটবলে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করবেন।
এ ছাড়াও, পরিকল্পিত উন্নয়নমূলক কর্মসূচির মাধ্যমে ভারতের ফুটবল পরিকাঠামো পর্যবেক্ষণ ও তার উন্নয়নে ভূমিকা পালন করবেন মাইকন। ক্রীড়া ব্যবসা ও খেলোয়াড়দের প্রতিনিধিত্ব সংক্রান্ত একটি নতুন ডিপ্লোমা কোর্স চালু করা হবে। পাশাপাশি, কলকাতা জুড়ে প্রতিভা অন্বেষণ কর্মসূচির মাধ্যমে ভারতের আগামী দিনের ফুটবল তারকাদের খুঁজে বের করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। ভারত ও ব্রাজিলের মধ্যে ফুটবলার বিনিময় কর্মসূচি চালুর ঘোষণাও করা হবে।
১৪ নভেম্বর যত এগিয়ে আসছে, কলকাতার ফুটবলমহলে উত্তেজনার পারদ ততই চড়ছে। ব্রাজিলের এই কিংবদন্তির সঙ্গে সরাসরি দেখা করার সুযোগ পেয়ে নিঃসন্দেহে উচ্ছ্বসিত হবেন স্থানীয় ফুটবলপ্রেমীরা। তবে এই অনুষ্ঠানের প্রকৃত সাফল্য শুধুমাত্র জমকালো উদ্বোধন বা তারকাখচিত উপস্থিতির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না।
কলকাতায় মাইকনের আগমন এবং কিং স্পোর্টস ম্যানেজমেন্টের যুব উন্নয়ন কর্মসূচির প্রতি তাঁর অঙ্গীকার এক স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে—ভারতীয় ফুটবলের স্বনির্ভরতার লক্ষ্যে এবার তৃণমূল স্তর থেকেই নতুন করে এগিয়ে আসছে ব্রাজিলীয় ফুটবলের এক কিংবদন্তি। আর সেই যাত্রার মূলমন্ত্র একটাই—তৃণমূল স্তরে প্রতিভার বিকাশ, উন্নত প্রশিক্ষণ এবং আন্তর্জাতিক ফুটবলের দরজা ভারতীয় তরুণদের জন্য খুলে দেওয়া।
