নীলমের জেদ, কাজলের উত্থান: সিনিয়র বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে দুই রুপোয় নতুন ইতিহাস ভারতের মহিলা কুস্তির
সোনা অধরা থাকল, কিন্তু কাজাখস্তানের আস্তানায় ভারতের মহিলা কুস্তি লিখল এক ঐতিহাসিক অধ্যায়। সিনিয়র বিশ্ব কুস্তি প্রতিযোগিতায় নীলম সিরোহি ও কাজল ধোচক রুপোর পদক জিতে শুধু নিজেদের কেরিয়ারের নতুন দরজা খুললেন না, একই আসরে দুই ভারতীয় মহিলা কুস্তিগিরের ফাইনালে ওঠার নজিরও গড়লেন। এর আগে সিনিয়র বিশ্ব কুস্তি প্রতিযোগিতার ফাইনালে ওঠা একমাত্র ভারতীয় মহিলা ছিলেন অংশু মালিক, যিনি ২০২১ সালে রুপো জিতেছিলেন।

এক্সট্রাটাইম ওয়েবডেস্ক: সোনা অধরা থাকল, কিন্তু কাজাখস্তানের আস্তানায় ভারতের মহিলা কুস্তি লিখল এক ঐতিহাসিক অধ্যায়। সিনিয়র বিশ্ব কুস্তি প্রতিযোগিতায় নীলম সিরোহি ও কাজল ধোচক রুপোর পদক জিতে শুধু নিজেদের কেরিয়ারের নতুন দরজা খুললেন না, একই আসরে দুই ভারতীয় মহিলা কুস্তিগিরের ফাইনালে ওঠার নজিরও গড়লেন। এর আগে সিনিয়র বিশ্ব কুস্তি প্রতিযোগিতার ফাইনালে ওঠা একমাত্র ভারতীয় মহিলা ছিলেন অংশু মালিক, যিনি ২০২১ সালে রুপো জিতেছিলেন।
৫০ কেজি বিভাগে নীলমের রুপো যেন দীর্ঘ লড়াইয়ের স্বীকৃতি। উত্তরপ্রদেশের মথুরার কাছে ফেঞ্চারি গ্রামের ২৬ বছরের এই কুস্তিগিরের পথ মোটেই সহজ ছিল না। দিল্লিতে অনুশীলনে পৌঁছতে প্রতিদিন প্রায় ২০ কিলোমিটার সাইকেল চালাতেন তিনি। শুরুতে পরিবারের আপত্তিও ছিল। কিন্তু সেই জেদই ধীরে ধীরে তাঁকে সিনিয়র বিশ্বমঞ্চের ফাইনালে পৌঁছে দেয়। বেলারুশের নাটালিয়া ভারাকিনা ও কাজাখস্তানের জেইনেপ বায়ানোভাকে হারিয়ে প্রথম বার বিশ্ব ফাইনালে ওঠেন নীলম।
ফাইনালে তাঁর সামনে ছিলেন জাপানের চার বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ও অলিম্পিক সোনাজয়ী ইউই সুসাকি। শেষ লড়াইয়ে পা রাখতে না পারলেও, নীলমের রুপো বহু দিনের অপেক্ষার অবসান ঘটায়।
অন্যদিকে, মাত্র ১৮ বছর বয়সেই সিনিয়র বিশ্বমঞ্চে অভিষেকে ফাইনালে উঠে নজর কেড়েছেন কাজল। টানা দু’বার অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর এবার সিনিয়র স্তরেও নিজের আগমনের বার্তা দিলেন তিনি। সেমিফাইনালে কিরগিজস্তানের আইপেরি মেডেত কিজির বিরুদ্ধে ১-৭ পিছিয়ে থেকেও ১০-৭ ব্যবধানে জয় কাজলের মানসিক দৃঢ়তার প্রমাণ।
৭৬ কেজি বিভাগের ফাইনালে ইউক্রেনের আনাস্তাসিয়া আলপেয়েভার বিরুদ্ধে শেষ পর্যন্ত ৬-৮ ব্যবধানে হারলেও ইতিহাস গড়েছেন কাজল। ভারী ওজনের বিভাগে বিশ্ব কুস্তি প্রতিযোগিতায় পদকজয়ী প্রথম ভারতীয় মহিলা কুস্তিগির তিনি।
নীলমের রুপো দীর্ঘ অধ্যবসায়ের সাফল্য, কাজলের রুপো নতুন প্রজন্মের আগমনের ইঙ্গিত। আস্তানায় দুই রুপো তাই ভারতের মহিলা কুস্তির জন্য শুধু পদক নয়, ভবিষ্যতেরও বড় বার্তা।








