মোহনবাগান এসজির কোচের দায়িত্ব নিয়ে প্যানোস জানিয়ে দিলেন, তাঁর লক্ষ্য শৃঙ্খলা ও সাহসিকতা দিয়ে ডার্বি জেতা
মোহনবাগান সুপার জায়ান্টের হেড কোচের দায়িত্বে এলেন পানাগিওটিস দিলমপেরিস। প্যানোস নামেই তাঁর পরিচিতি। সের্জিও লোবেরার জায়গায় এলেন এই গ্রিক কোচ। তাঁর সঙ্গে এক বছরের চুক্তি হল সবুজ মেরুনের।

ছবি সৌজন্য মোহনবাগান এসজি
এক্সট্রাটাইম ওয়েব ডেস্ক
মোহনবাগান সুপার জায়ান্টের হেড কোচের দায়িত্বে এলেন পানাগিওটিস দিলমপেরিস। প্যানোস নামেই তাঁর পরিচিতি। সের্জিও লোবেরার জায়গায় এলেন এই গ্রিক কোচ। তাঁর সঙ্গে এক বছরের চুক্তি হল সবুজ মেরুনের। গ্রিসের প্রথম ডিভিশনের বিভিন্ন ক্লাবে কোচিং করিয়েছেন। ভারতে কোচি করাতে আসেন গত বছর। দায়িত্ব নেন পঞ্জাব এফ সি-র। পঞ্জাবে যথেষ্ট আকর্ষনীয় ও কার্যকর ফুবল উপহার দিয়েছিলেন। হেভিওয়েট দল না হলেও নজর কেডে়ছিল তাঁর স্ট্র্যাটেজি। নজর কেড়েছিল তাঁর ভারসাম্যের ফুটবল। মোহনবাগান সুপার জায়ান্টের চুক্তিতে সই করার পর এমবি এসজি মিডিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎকারে প্যানোস যা বললেন......
মোহনবাগান কেবল একটি ফুটবল ক্লাব নয়— একটি ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান, যার সঙ্গে রয়েছে গৌরবময় ইতিহাস, জয়ের সংস্কৃতি এবং এশিয়ার অন্যতম সেরা আবেগপ্রবণ ও অনুরাগী সদস্য সমর্থক। যা ভারতের আর কোনও ক্লাবের নেই।
দল নিয়েও সন্তুষ্ট তিনি। বলেন, আমি বিশ্বাস করি একটি শক্তিশালী এবং প্রতিভাবান দল হাতে পাচ্ছি, যেখানে অভিজ্ঞতা ও দক্ষতার একটি চমৎকার ভারসাম্য আছে। আমার মূল লক্ষ্য সবাইকে সক্ষমতার শীর্ষে নিয়ে গিয়ে সেরাভাবে ব্যবহার করতে। সাফল্য কখনও একক দক্ষতায় আসে না, বরং সঠিক মানসিকতা, শৃঙ্খলা এবং দায়বদ্ধতার মাধ্যমে একটি ঐক্যবদ্ধ দল গড়ে তোলার মধ্য দিয়েই সাফল্য আসে।
পাঞ্জাবের সঙ্গে মোহনবাগানের তফাৎ আছে এখানে সমর্থকদের প্রত্যাশার চাপ সামলাতে হবে। সে প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একটি কথা আছে, Pressure is a privilege। বিশ্বের সব বড় ক্লাবগুলোতেই প্রত্যাশা সবসময়ই আকাশচুম্বী থাকে এবং সেটাই স্বাভাবিক। মোহনবাগান সমর্থকদের এই আবেগই ক্লাবের অন্যতম প্রধান শক্তি। আমাদের দায়িত্ব হলো কঠোর পরিশ্রম, পেশাদারিত্ব এবং এই মহান ক্লাবের মর্যাদার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ পারফরম্যান্সের মাধ্যমে প্রতিদিন তাদের বিশ্বাস অর্জন করা। আমরা হয়তো সব সময় জিতব না,, কিন্তু আমরা এমন একটি দল হয়ে উঠতে চাইব যারা সাহসিকতা, শৃঙ্খলা এবং প্রতিটি ম্যাচ জেতার তীব্র আকাঙ্ক্ষা নিয়ে মাঠে নামবে, লড়াই করবে। এর আগেও এমন কিছু ক্লাবে কাজ করেছি যেখানে সমর্থকরা সাফল্য ছাড়া কিছু বুঝতেন না, তবে মোহনবাগান অনন্য। মোহনবাগান ক্লাবের পরস্পরা হল, আত্মপরিচয়, গর্ব এবং ঐতিহ্যের এক মেলবন্ধন। আমি এখানে কোচিং করতে নামব সেই চ্যালেঞ্জকে সঙ্গে নিয়েই। আমি সেই আবেগের বিস্ফোরিত পরিবেশ অনুভব করার জন্য মুখিয়ে আছি।
দায়িত্ব নেওয়ার পরই ডার্বিতে নামতে হবে। সে প্রসঙ্গে প্যানোস জানান, ফুটবল দাঁড়িয়েই আছে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বিতার ওপর। আর ভারতে আসার পরই জেনে গিয়েছি কলকাতা ডার্বি বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম বৃহত্তম এবং সবচেয়ে ঐতিহাসিক ম্যাচগুলোর একটি। সমর্থক, খেলোয়াড় এবং ক্লাবের সাথে যুক্ত প্রত্যেকের কাছে এর গুরুত্ব কতটা, তা আমি জানি। এই ধরনের ম্যাচের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করার সেরা উপায় কেবল আবেগ নয়, বরং চমৎকার প্রস্তুতি, শৃঙ্খলা এবং আত্মবিশ্বাস নিয়ে মাঠে নামা। আমরা মোহনবাগানের ঐতিহ্যের সাথে মানানসই সাহসিকতা নিয়ে এই ডার্বি জিততে চাইব। ক্লাবের সাফল্যের ধারাবাহিকতা ধরে রাখাি আমার লক্ষ্যয়.
সমর্থকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, এই ক্লাব আপনাদের কাছে কতটা আবেগের তা আমি জানি। এই ক্লাবের জার্সি গায়ে জড়ানোর পর দায়িত্ব কতটা বেড়ে যায়, তাও আমি বুঝি। ক্লাব ম্যানেজমেন্ট, আমার কোচিং স্টাফ এবং খেলোয়াড়দের সঙ্গে নিয়ে আমরা প্রতিদিন কঠোর পরিশ্রম করব যাতে সবুজ মেরুন সমর্থকরা গর্বিত হতে পারেন। আপনাদের সমর্থন আমাদের প্রয়োজন, কারণ দল এবং সমর্থকরা যখন এক হয়ে এগিয়ে চলে, তখনই কাঙ্খিত সাফল্য আসে।








