আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানালেন নেইমার, শেষ হলো ব্রাজিলের এক স্বর্ণযুগ
ব্রাজিলের কিংবদন্তি ফরোয়ার্ড নেইমার ২০২৬ সালের ৫ জুলাই আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা করলেন। ফিফা বিশ্বকাপের রাউন্ড অব ১৬-এ নরওয়ের কাছে ২-১ গোলে পরাজিত হয়ে ব্রাজিল বিদায় নেওয়ার পরই ৩৪ বছর বয়সী এই তারকা নিজের সিদ্ধান্তের কথা জানান।

এক্সট্রাটাইম ওয়েব ডেস্ক
ব্রাজিলের কিংবদন্তি ফরোয়ার্ড নেইমার জুনিয়র আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা করলেন। ফিফা বিশ্বকাপের রাউন্ড অব ১৬-এ নরওয়ের কাছে ২-১ গোলে পরাজিত হয়ে ব্রাজিল বিদায় নেওয়ার পরই ৩৪ বছর বয়সী এই তারকা নিজের সিদ্ধান্তের কথা জানান।
যেদিন রোনাল্ডো জানিয়ে দিলেন যে এটাই তাঁর শেষ বিশ্বকাপ, সেদিনই আর এক মহাতারকা নেইমার জানিয়ে দিলেন তাঁর আন্তর্জাতিক কেরিয়ার শেষ।
নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামেই ২০১০ সালে ব্রাজিলের জার্সিতে সিনিয়র আন্তর্জাতিক অভিষেক হয়েছিল তাঁর। ১৬ বছর পর একই মাঠেই শেষ হয়ে গেল তাঁর আন্তর্জাতিক কেরিয়ারের দীর্ঘ ও গৌরবময় অধ্যায়।
শেষ কয়েক বছর চোট আঘাত তাঁকে বড় বেশি ভুগিয়েছে। বিশ্বকাপেও পুরো ফিট হয়ে আসতে পারেননি। প্রথম থেকে খেলতেও পারেননি। এদিনও মাঠে নেমেছিলেন ৬৭ মিনিটের মাথায়. তবে জীবনের শেষ ম্যাচে পেনাল্টি থেকে একটি গোল পেলেন তিনি।
ম্যাচ শেষে আবেগঘন নেইমার বলেন, "আমি চেষ্টা করেছি। আমি সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। আমার যাত্রা শুরু হয়েছিল এখানেই, মেটলাইফ স্টেডিয়ামে, আর শেষও হলো এখানেই। এখন সব শেষ।"
তিনি ব্রাজিল পুরুষ জাতীয় দলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে কেরিয়ার শেষ করেছেন। দেশের হয়ে ১২৯টি ম্যাচে তিনি করেছেন ৮০টি গোল, যা ব্রাজিলের ফুটবল ইতিহাসে সর্বোচ্চ।
দীর্ঘ আন্তর্জাতিক কেরিয়ারে নেইমার অসংখ্য স্মরণীয় মুহূর্ত উপহার দিয়েছেন। তাঁর অসাধারণ ড্রিবলিং, সৃজনশীলতা, গোল করার দক্ষতা এবং নেতৃত্ব ব্রাজিলকে বহু গুরুত্বপূর্ণ জয় এনে দিয়েছে। যদিও বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন অধরাই থেকে গেল, তবুও দেশের ফুটবল ইতিহাসে অন্যতম সেরা খেলোয়াড় হিসেবে তাঁর নাম চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।
নেইমারের বিদায়ের মাধ্যমে ব্রাজিল ফুটবলের একটি গৌরবময় অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটল। এখন ভক্তদের অপেক্ষা—নতুন প্রজন্ম কীভাবে তাঁর রেখে যাওয়া উত্তরাধিকার বহন করে ব্রাজিলকে আবারও বিশ্ব ফুটবলের শীর্ষে নিয়ে যেতে পারে।








