ফ্রান্সকে বাঁচালেন দুয়ে, প্যারাগুয়ের বাধা টপকে কোয়ার্টার ফাইনালে এমবাপেরা
প্যারাগুয়েকে ১-০ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে চলে গেল ফ্রান্স। পেনাল্টি থেকে একমাত্র গোলটি করেন অধিনায়ক এমবাপে।

গৌতম রায়
না অঘটন ঘটেনি। প্রত্যাশামতই প্যারাগুয়েকে ১-০ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে চলে গেল ফ্রান্স। পেনাল্টি থেকে একমাত্র গোলটি করেন অধিনায়ক এমবাপে। এবারের বিশ্বকাপে তাঁর সপ্তম গোল। মেসির সমান। বিশ্বকাপ কেরিয়ারে ১৯ তম গোল। মেসির চেযে একটি কম। তবে ম্যাচ একেবারেই সহজ হয়নি তাঁদের কাছে। প্যারাগুয়ের ১০ জনের ডিফেন্স ভাঙতে তাঁদের কালঘাম ছুটে গেছে। আসলে দেশিরে দুয়ে যেন এদিন দেবদূত হয়ে এলেন ফ্রান্সের কাছে।
দুয়ের একটা দৌড় আর ড্রিবলেই ম্যাচটা ঘুরে গেল। পরিবর্ত হিসাবে মাঠে নেমেই পেনাল্টি বক্সে ছোট জায়গার মধ্যে তিন চারজনকে ড্রিবল করে যখন শট নিতে যাবেন তখনই দুয়েকে ট্রিপ করে ফেলে দেন দিয়েগো গোমেজ। পেনাল্টি থেকে বহু আকাঙ্খিত গোলটি করেন এমবাপে। দুয়ে দেখিয়ে দিলেন, একটা দল যখন ১০ জনে বক্সে ভিড় করে ডিফেন্স করছে, যখন গোলের মুখ খোলা সম্ভব হচ্ছে না, তখন ওইভাবেই পেনাল্টি আদায় করতে হয়। ২১ বছরের পিএসজি তারকা দুয়েকে প্রথম দলে কেন যে রাখছেন না দেশঁ!
শুরু থেকেই ৫-৪-১ ছকে ১০ জনে মিলে এমনভাবে রক্ষণের দরজাটা বন্ধ করে দিয়েছিলেন প্যারাগুয়ে ফুটবলাররা, কিছুতেই গোল মুখ খুলতে পারছিলেন না এমবাপে-দেম্বেলেরা। লাতিন আমেরিকার দলটির ম্যানেজার গুস্তাভো আলফারোর এই কৌশল ক্রমশই হতাশ করে তুলছিল ফরাসিদের। পাশাপাশি সুযোগ পেলেই আলমিরন ও এনসিসো প্রতি আক্রমণে হানা দিচ্ছিলেন ফরাসি ডিফেন্সে। গুস্তাভে্া আলফারো সামনে রেখেছিলেন শুধু আলমিরনকে।
অন্যদিকে মাঝমাঠে রাবিও এবং কোনেকে পিভোটিং রোলটা দিয়েছিলেন দেশঁ। বাঁ প্রান্ত দিয়ে বেশি আক্রমণ তুলে আনার চেষ্টা ছিল। নম্বর টেনের ভূমিকায় এদিনও সচল ছিলেন ওলিজে। কিন্তু জমাট প্যারাগুয়ে রক্ষণের ফাঁক ফোকড় খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। সে কারণেই গোটা প্রথমার্ধে সেভাবে কোনও সুযোগই তৈরি হল না।
দ্বিতীয়ার্ধে দুয়ে নামার পর ম্যাচটা ঘুরল। গোল খাওয়ার পর প্যারাগুয়েও আক্রমণে আসতে শুরু করল। সে কারণে ফ্রান্সের সামনেও গোলের সুযোগ এল। একবার তো এমবাপের পা থেকে ডাবল সেভ করলেন প্যারাগুয়ে গোলরক্ষক। তবে শেষ পর্যন্ত গোল আর হল না। একমাত্র গোলে হেরেই এবারের মত বিদায় প্যরাগুয়ের। জার্মানিবধ করার পর আর একটা অঘটন ঘটানোর স্বপ্নকে অধরা রেখেই ফিরতে হচ্ছে দেশে।
আর ফ্রান্স। গতবার ফাইনালে উঠেও আর্জেন্টিনার কাছে হেরে স্বপ্নভঙ্গ হয়েছিল, এবার কিন্তু হট ফেবারিটের মতই দৌড় চলছে এমবাপেদের। এবার সামনে মরক্কো। আরও কঠিন চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিতে তৈরি গতবারের সেমিফাইনালিস্টরা। দুর্দান্ত একটা ম্যাচের অপেক্ষা। তবে ফরাসি ঝড়টা এবার যে একটু বেশিই ঘুর্ণি, ভালই জানেন হাকিমিরা।








