হৃদয় জিতেই ফিরছে কেপ ভার্দে, ৩-২ গোলে জিতে শেষ ষোলোয় চলে গেল আর্জেন্টিনা
কেপ ভার্দে আর্জেন্টিনার কাছে ৩-২ গোলে হেরে বিদায় নিলেও এবার হৃদয় জয় করে গেল আফ্রিকার এই বিস্ময় দলটি। গ্রুপ পর্বে তো অপরাজিত ছিলই, বিশ্ব ফুটবলের হেভিওয়েটরাও তাদের হারাতে পারেনি। এরপর নক আউটেও বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিরুদ্ধে দুবার পিছিয়ে পড়েও দুরন্ত সংগ্রামে ফিরে এসে অতিরিক্ত সময়ে নিয়ে গেল ম্যাচকে।

গৌতম রায়
বিশ্বকাপ থেকে বীরের বিদায়। কেপ ভার্দে আর্জেন্টিনার কাছে ৩-২ গোলে হেরে বিদায় নিলেও এবার হৃদয় জয় করে গেল আফ্রিকার এই বিস্ময় দলটি। গ্রুপ পর্বে তো অপরাজিত ছিলই, বিশ্ব ফুটবলের হেভিওয়েটরাও তাদের হারাতে পারেনি। এরপর নক আউটেও বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিরুদ্ধে দুবার পিছিয়ে পড়েও দরন্ত সংগ্রামে ফিরে এসে অতিরিক্ত সময়ে নিয়ে গেল ম্যাচকে। শেষ পর্যন্ত বীরের মত পরাজয়। শেষ ষোলোয় চলে গেলেন মেসিরা।
ম্যাচটা অতি রক্ষণাত্মক হয়েই শুরু করেছিল কেপ ভার্দে। তবে এই ম্যাচেও মেসি ম্যাজিক অব্যাহত ছিল। ২৯ মিনিটে দলকে এগিয়েও দিয়েছিলেন আর্জেন্টাইন যুবরাজ। বলটা বাড়িয়ে ছিলেন লিসান্দ্রো মার্টিনেজ। প্রায় ৩০-৩৫ গজ দূর থেকে গোলের ঠিকানা লেখা পাস। তারপর যুবরাজ যা করলেন তা একেবারে তাঁরই মত। বাঁ পায়ে যেন আঠা লাগানো ছিল, যেভাবে বলটা নামালেন, ষেভাবে পোষ মানালেন পড়ন্ত বলকে। সেকেন্ড টাচে নিখুঁত ফিনিশিং। বিশ্বকাপে টানা ৮ ম্যাচে গোল করে যেমন রেকর্ড গড়লেন, তেমনি প্রথম ফুটবলার হিসাবে দুটি আলাদা বিশ্বকাপে সাতের বেশি গোল করলেন।
পিছিয়ে পড়ার পর অবশ্য নিজেদের কিছুটা বদলে ফেলল কেপ ভার্দে। দ্বিতীয়ার্ধে গোল শোধের জন্য আক্রমণে তেজ বাড়ালো। এর পাশাপাশি গোটা আর্জেন্টিনা দলটাকে যেন তখন বেশ কিছুটা ক্যাজুয়্যাল লাগল। সেই সুযোগেই গোল শোধ। লিসান্দ্রো মার্টিনেজের দু পায়ের ফাঁক দিয়ে এমিলিয়ানো মার্টিনেজের পায়ের পাশ দিয়ে গড়ানে শটে ১-১ করে গেলেন ডেরয় দুরাতে।
এরপর ম্যাচ চলে গেল অতিরিক্ত সময়ে। আর দলের দ্বিতীয় গোলটা নিজেই করলেন লিসান্দ্রো মার্টিনেজ। কর্ণার থেকে আসা বল বাঁ পায়ে রাখলেন প্রথম পোস্টে। কিছুই করার ছিল না ভোজিনিয়ার।
কিন্তু লড়াই থেকে সরে আসেনি কেপ ভার্দে। অতিরিক্ত সময়ের প্রথমার্ধেই দ্বিতীয় গোলটিও শোধ করে দিল তারা। বক্সের কোন থেকে নেওয়া দুর্দান্ত শটে প্রতিয়োগিতার অন্যতম সেরা গোল করে গেলেন সিডনি লোপেজ কাবরাল।
শেষ পর্যন্ত মেসির কর্ণারে হেড করে আর্জেন্টিনাকে স্বস্তি এনে দিলেন ডিফেন্ডার রোমেরো যদিও তাঁর হেড ডিনের গায়ে লেগে গোলে যাওয়ায় আত্মঘাতী গোল দেওয়া হয়। আর একটা স্মরণীয় ম্যাচ খেললেন কেপ ভার্দের গোলরক্ষক ভোজিনিয়া। অন্তত ৫-৬ টি ক্ষেত্রে তিনি বাঁচান দলকে। উল্টোদিকে এমিলিয়ানো মার্টিনেজও অবশ্য বার দুয়েক পরিত্রাতা হয়ে ওঠেন।
লিওনেল স্কালোনি নিশ্চয় জানতেন, প্রতিআক্রমণ নির্ভর অতি রক্ষণাত্মক ফুটবলই খে্লবে কেপ ভার্দে। সেইমত স্ট্র্যাটেজি ঠিক করেছিলেন তিনি। দুই সাইড ব্যাক মোলিনা ও মেডিনা ক্রমাগত আক্রমণে উঠে পরিকল্পিতভাবে দু তিনজন ডিফেন্ডারকে টেনে আনছিলেন। যাতে মেসি- লাউতারো মার্টিনেজরা কিছুটা ফাঁকা জমি পান। এবং মিডফিল্ডে ম্যাকআলিস্টার, ডি পল ও এনজো ফার্মান্ডেজরা দ্রুত ওঠা নামা করতে লাগলেন। আক্রমণে ও রক্ষণে ক্রমাগত লোক বাড়িয়ে যাচ্ছিলেন তাঁরা। ফলে সব সময়ই আর্জেন্টিনার সংখ্যাধিক্য থাকছিল এবং মাঝমাঠেই কেপ ভার্দের প্রতি আক্রমণ থামিয়ে দিতে পারছিলেন তাঁরা। কিন্তু এটা ছিল প্রথম পঁয়তাল্লিশ মিনিটের খেলা।
তারপর থেকেই যেন সব কিছু ওলট পালট হয়ে গেল। দারুনভাবে খেলায় ফিরে ইতিহাস গড়ার কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল কেপ ভার্দে। কিন্তু বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা কেন খেই হারিয়ে ফেলল, সেটা সত্যিই বিস্ময়ের। শেষ পর্যন্ত অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে ও চাপটা সামলে নিয়ে ম্যাচটা হয়ত বার করে নিয়ে গেল, কিন্তু পরের আরও বড় লড়াইয়ের আগে যা ভাবাবেই স্কালোনিকে। যেমন কেপ ভার্দে ভাবাচ্ছে গোটা বিশ্বকে।








