ভোজিনহা, এক অদম্য রূপকথার শুরু
রাউন্ড অফ ৩২-এ আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে একের পর এক পরিস্থিতিতে ৮টি সেভ দিয়েছেন। ওয়ান-অন-ওয়ান পরিস্থিতিতে বেশ কয়েকবার মেসিকে থামিয়েছেন। মেসি কিক নিচ্ছেন, আর তিনি এক পোস্ট থেকে অন্য পোস্টে গিয়ে অবলীলায় বল সেভ করেছেন। গোলপোস্টের নিচে দাঁড়িয়ে তিনি দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন।

এক্সট্রা টাইম ওয়েব ডেস্ক: জোসিমার হোসে এভোরা ডায়াস। ভালো নাম। ডাকনাম গোটা পৃথিবী জানে, ভজিনহা।
রাউন্ড অফ ৩২-এ আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে একের পর এক পরিস্থিতিতে ৮টি সেভ দিয়েছেন। ওয়ান-অন-ওয়ান পরিস্থিতিতে বেশ কয়েকবার মেসিকে থামিয়েছেন। মেসি কিক নিচ্ছেন, আর তিনি এক পোস্ট থেকে অন্য পোস্টে গিয়ে অবলীলায় বল সেভ করেছেন। গোলপোস্টের নিচে দাঁড়িয়ে তিনি দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন।
বিশ্ব ফুটবলে তাঁর আবির্ভাব হয়েছিল হয়তো বিশ্বকাপের এই চারটি ম্যাচ খেলার জন্যই। অপেক্ষা করতে হয়েছিল জীবনের ৪০টি বসন্ত।
অবিশ্বাস্য লড়াইয়ের পর যখন কয়েক মিনিটের জন্য বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিতে হলো কেপ ভার্দেকে, সতীর্থরা কান্নায় ভেঙে পড়ছেন, মাটিতে লুটিয়ে পড়ছেন, শরীর অবসন্ন। কিন্তু তিনি? একেই বোধহয় ক্যাপ্টেন বলে। উহু, ভেঙে পড়া চলবে না। থেমে যাওয়া চলবে না। তোমরা যে লড়াই দিয়েছ, সেটা গোটা পৃথিবী মনে রাখবে।
তিনি যেন বলতে চাইছিলেন, আজ সেলিব্রেট করো। তিনি হয়তো বলতে চাইছিলেন, আমার শেষ। ৪০ বছর বয়স,এরপরে তো আর খেলব না। কিন্তু আফ্রিকার একটি দেশ ফুটবলে নবজন্ম পেল। গোটা পৃথিবী চিনল তোমাকে। সতীর্থরা, তোমরাই এগিয়ে নিয়ে যাও এই দেশটাকে। হোয়াট এ স্পিরিট!
বয়স ৪০। এই মুহূর্তে কোনো ক্লাব নেই তাঁর। কিন্তু আজ আর্জেন্টিনার বিপক্ষে কেপ ভার্দের গোলকিপার ভজিনহা যে ম্যাচ খেললেন, গোটা বিশ্বকাপে যেভাবে সুগন্ধ ছড়ালেন, তা অনবদ্য।
একের পর এক অবিশ্বাস্য সেভ করে আর্জেন্টিনার ফরোয়ার্ডদের হতাশ করেছেন তিনি। বয়স শুধু একটা সংখ্যা, আজ আবার প্রমাণিত হল। স্পেনের বিরুদ্ধেও গোটা ব্যাপারটা ফ্লুক ছিল না, সেদিন দক্ষতাই শেষ কথা বলেছিল। আবারও গোটা দুনিয়াকে দেখালেন, ফুটবল জীবনের শেষ প্রান্তে এসে কীভাবে বিশ্ব ফুটবলে অভিষিক্ত হওয়া যায় একজন আন্তর্জাতিক তারকা হিসেবে। বয়স নয়, ক্লাসই আসল, আজ আবারও তার প্রমাণ মিলল।
ডিয়ার কেপ ভার্দে, কিপ ইয়োর হেডস হাই! ইউ আর আ রিয়েল চ্যাম্পিয়ন! কাম ব্যাক স্ট্রংগার!
ইতিহাস সাক্ষী থাকবে, পাঁচ লক্ষ জনসংখ্যার এক অনামী কেপ ভার্দে তাদের বিশ্বকাপ অভিষেকে স্পেনকে আটকে দিয়েছিল! উরুগুয়েকে আটকে দিয়েছিল! বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার সঙ্গে ১২০ মিনিট পর্যন্ত চোখে চোখ রেখে লড়াই করেছিল! তিন বিশ্বকাপ জয়ী দলকে বুঝিয়ে দিয়েছিল তারা আবির্ভূত হয়েছে।
ইতিহাস সাক্ষী থাকবে, চল্লিশ বছর বয়সী এক ভজিনহা গোলপোস্টের নিচে চীনের প্রাচীর হয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন!
ইতিহাস সাক্ষী থাকবে, বারবার পিছিয়ে পড়েও কামব্যাকের এক অনবদ্য রূপকথা লিখে রেখেছিল এই কেপ ভার্দে!








