জমজমাট নাটক, অ্যাডভেঞ্চারাস মেক্সিকোকে ৩-২ গোলে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ড
মেক্সিকোকে ৩-২ গোলে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে চলে গেল ইংল্যান্ড। একটি লাল কার্ড, দুটি পেনাল্টি – রীতিমত জমজমাট নাটক। ক্লাইম্যাক্স, অ্যান্টি ক্লাইম্যাক্সে ওঠা পড়ার নাটকীয় থ্রিলার। আর জোড়া গোল করে সে নাটকের মুখ্য চরিত্রে জুডে বেলিংহ্যাম।

গৌতম রায়
দুরন্ত ম্যাচ। সম্ভবত এবারের বিশ্বকাপের সেরা ম্যাচে মেক্সিকোকে ৩-২ গোলে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে চলে গেল ইংল্যান্ড। একটি লাল কার্ড, দুটি পেনাল্টি – রীতিমত জমজমাট নাটক। ক্লাইম্যাক্স, অ্যান্টি ক্লাইম্যাক্সে ওঠা পড়ার নাটকীয় থ্রিলার। আর জোড়া গোল করে সে নাটকের মুখ্য চরিত্রে জুডে বেলিংহ্যাম।
দুর্দান্ত গতিতে ম্যাচটা শুরু করে মেক্সিকো। বল ধরে গতিময় পাসিং ফুটবলে আক্রমণে ঝাঁপিয়ে পড়ে। ৪-১-২-৩ ছকে দল সাজিয়ে আক্রমণাত্মক ফুটবলই স্ট্র্যাটেজি ছিল মেক্সিকো কোচ জ্যাভিয়ের অ্যাগুয়েরের। এরি্ক লিরা মাঝমাঠে অ্যাঙ্করের কাজটা করতে থাকেন। লুইস রোমো ও গিলবার্তো মোরা মাঝমাঠ থেকে খেলাটা তৈরি করতে থাকেন। উইংয়ে কুইনোনেসের গতি ব্যবহার করে রাউল জিমেনেজকে সামনে রেখে দ্রুতগতিতে কাউন্টার অ্যাটাক তুলে আনতে থাকে।
অন্যদিকে হাই অলটিচিউডে্র কথা মাথায় রেখে স্ট্র্যাটেজি তৈরি করেছিলেন ইংল্যান্ড কোচ থমাস টুচেল। বলটাকে দখলে রেখে খেলাটা নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা ছিল। যাতে কম দৌড়োতে হয়, সে জন্য উঁচু করে ক্রস রাখা ও সেট পিস থেকে গোল তুলে নেওয়ার চেষ্টা করা – এইভাবে ম্যাচটা শুরু করেছিল ইংল্যান্ড।
কিন্তু শুরু থেকে মেক্সিকো এমনভাবে চাপ দিতে থাকে, পাসিং ফুটবলে আক্রমণের ঝড় তুলতে থাকে, যে ক্রমশ পিছোতে পিছোতে কোনঠাসা হতে থাকে থ্রি লায়ন্স। যদিও দুর্দান্ত রক্ষণ সংগঠনে সামাল দিচ্ছিল, তবু তখনই যেন সম্বিত ফিরল ইংল্যান্ডের। হঠাৎই ছিটকে বেরোলো তারা।
এবং হঠাৎই খেলায় নাটকীয় মোড়। দপ করে জ্বলে উঠল ইংল্যান্ড। ঝলসে উঠলেন জুডে বেলিংহ্যাম। দু মিনিটের মধ্যে তাঁর পরপর দুটি গোল যেন ম্যাচের অ্যান্টি ক্লাইম্যাক্স।
৩৬ মিনিটে ডানদিক থেকে বুকায়ো সাকার ক্রসটা য়খন মেক্সিকো বক্সে আসে তখন দুজন ডিফে্ন্ডার হ্যারি কেনকে নিয়ে ব্যস্ত থাকেন, কিন্তু পিছনে বেলিংহ্যাম যে ফাঁকায় ছিলেন, কেউ মার্ক করলেন না। সুযোগটা নিয়ে ফ্লাইং হেডে গোল করে গেলেন তিনি।
পরের মিনিটেই বক্সের ডানদিকে বল পেয়ে নিজে না মেরে নিচু সেন্টার রাখেন হ্যারি কেন। পা ছুঁইয়ে ২-০ করে দেন বেলিংহ্যাম।
তবে হঠাৎ এমন নাটকীয় পট পরিবর্তনেও হতোদ্যম না হয়ে মেক্সিকো আরও জোরালো করে তোলে তাদের আক্রমণ। বিরতির আগেই একটি গোল শোধও করে দেয়। বাঁদিক থেকে উড়ে আসা ফ্রিকিক বক্সের মধ্যে হিল করে ক্লিয়ার করার চেষ্টা করেন ইংল্যান্ড ডিফেন্ডার এজরি কোনসা। ফাঁকায় বল পেয়ে যান কুইনোনেস। সঙ্গে সঙ্গে কামান দাগেন তিনি। ২-১।
তখন ইংল্যান্ড বক্সে ঝড় চলছে মেক্সিকোর। রাউল জিমেনেজ সহজ বল বাইরে মেরে সুযোগ নষ্ট করেন। জিমেনেজের হেড ঝাঁপিয়ে সেভ করলেন ইংল্যান্ড গোলরক্ষক পিকফোর্ড। ৬ গজের মধ্যে মন্টেসের পা থেকে বল ক্লিয়ার করে নিশ্চিত গোল বাঁচালেন বেলিংহ্যাম। এ সবই ঘটে গেল মিনিট পাঁচেকের মধ্যে।
নাটকীয় ম্যাচে দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই লাল কার্ড দেখে ইংল্যান্ডকে বিপদে ফেলে দেন কোনসা। তারপর টুচেল সাকার জায়গায় স্টোনসকে মানিয়ে রক্ষণ জোরদার করেন। আবার নাটকীয়ভাবে পেনাল্টি পায় ইংল্যান্ড। একের বিরুদ্ধে এক পরিস্থিতিতে গর্ডনের পায়ে মেক্সিকো গোলরক্ষক ঝাঁপিয়ে পড়লে পেনাল্টি। গোল করে ব্যবধান বাড়ান কেন।
এবার মেক্সিকোর পালা। নিজেদের বক্সে হ্যারি কেন মেক্সিকো অ্যাটাকারকে ফাউল করলে পেনাল্টির সিদ্ধান্ত দেন রেফারি। গোল করে ব্যবধান কমিয়ে ৩-২ করেন রাউল জিমেনেজ।
এরপর মেক্সিকোর ক্রমাগত আক্রমণ আর ১০ জনের ইংল্যান্ডের রক্ষণ করে যাওয়া। ভিড়ের মধ্যে মেক্সিকো ফুটবলাররা নাগাড়ে ইংল্যান্ড বক্সে উঁচু করে বল ফেলে যেতে থাকলেন। কিন্তু উঁচু বলে ইংরেজদের টলানো গেল না। পিকফোর্ড, স্টোনসদের কাছে বারবার ধাক্কা খেয়ে ফিরে এসেই বিশ্বকাপ অভিযান শেষ হল অ্যাডভেঞ্চেরাস মেক্সিকোর।
আগের ম্যাচে ব্রাজিলকে বধ করে কোয়ার্টার ফাইনালে অপেক্ষা করছে নরওয়ে। সেখানে ইংল্যান্ডকে থামাতে হবে আর একটা অ্যাডভেঞ্চার। অ্যাডভেঞ্চারাস নরওয়ের আর্লিং হালান্ড কিন্তু ব্রাজিলকে ক্ষত বিক্ষত করে এখন থাবা নাচাচ্ছেন!








