৩০ মিনিটের ফরাসি ঝড়ে উড়ে গেল সেনেগাল, জোড়া গোল এমবাপের
৩০ মিনিটের ঝড়ে যেন সবুজ গালিচায় কবিতা লেখা। আর তাতেই খড়কুটোর মত উড়ে গেল সেনেগাল। ম্যাচটা ফ্রান্স জিতল ৩-১ গোলে। দুরন্ত এমবাপের জোড়া গোল। একটি গোল করেন ব্র্যাডলে বারকোলা। সেনেগালের হয়ে একটি গোল শোধ করেল টিনএজার এমবায়ে। গতবারের ফাইনালটা যেখানে শেষ করেছিলেন, যেন সেখান থেকেই শুরু করলেন এমবাপে।

গৌতম রায়
৩০ মিনিটের ঝড়ে যেন সবুজ গালিচায় কবিতা লেখা। আর তাতেই খড়কুটোর মত উড়ে গেল সেনেগাল। ম্যাচটা ফ্রান্স জিতল ৩-১ গোলে। দুরন্ত এমবাপের জোড়া গোল। একটি গোল করেন ব্র্যাডলে বারকোলা। সেনেগালের হয়ে একটি গোল শোধ করেল টিনএজার এমবায়ে। গতবারের ফাইনালটা যেখানে শেষ করেছিলেন, যেন সেখান থেকেই শুরু করলেন এমবাপে। ৯৯ ম্যাচে ৫৮ গোল করে ফ্রান্সের হয়ে সবচেয়ে বেশি গোল করার কৃতিত্ব এখন তাঁরই।
ম্যাচটা অবশ্য খুব খারাপভাবেই শুরু করেছিল ফ্রান্স। আপপ্রন্টে এমবাপে, দেম্বেলে, দুয়ে ও ওলিজে – চার বড় তারকা থাকায় অনেকেই একটা আশঙ্কা করছিলেন অতি সন্নাসীতে গাজন নষ্ট হয়ে যাবে না তো? গোটা প্রথমার্ধ কিন্তু এই কথাটাই মনে হচ্ছিল। চারজনে যেন বিচ্ছিন্ন দ্বীপ। আর সেই সময় বারবার ধাক্কা দিয়ে যাচ্ছে সেনেগাল। দুটি সহজ সুযোগও পেয়ে গিয়েছিল তারা। একবার পোস্টের নিচে লেগে বল বেরিয়ে আসে। আর একবার ইসমাইলা ফরাসি গোলরক্ষককে একা পেয়েও বল উড়িয়ে দেন বারের ওপর দিয়ে। ফ্রান্স সেভাবে সুযোগও তৈরি করতে পারেনি প্রথমার্ধে।
অথচ দ্বিতীয়ার্ধে ফ্রান্স মাঠে নামল যেন গুলি খাওয়া বাঘের মত। পুরো ছবিটাই বদলে দিল গতি, দৌড়, দক্ষতা আর প্রতিভার বিচ্ছুরণে। ৩০ মিনিটের একটা সাইক্লোন। এমবাপে, ওলিজেরা বুঝিয়ে দিলেন কেন ফরাসি আপফ্রন্টকে এবার সবচেয়ে ভয়ঙ্কর বলা হচ্ছে। দেখিয়ে দিলেন কেন তারাই হট ফেবারিট। প্রচণ্ড গতিতে আক্রমণগুলোকে অপারেট করা, সামনে পাস খেলার অসামান্য দক্ষতা, পেনিট্রেটিভ জোনে ফাঁকা জায়গা তৈরি করে নেওয়া, এগুলো এত নিখুঁতভাবে হতে থাকল, সুযোগের পর সুযোগ তৈরি হতে থাকল। ওলিজেকে কোনও রকমে সামাল দিলেন আগুয়ান গোলরক্ষক। এমবাপেও বল মারলেন গোলরক্ষকের পায়ে।
তখনই গোল। ওলিজের ডিফেন্স চেরা পাস থেকে এমবাপের ম্যাজিক টাচে প্রথম গোল। আদ্রিয়েন রাবিওর আর একটি চোখ ধাঁধানো পাস থেকে ২-০ করলেন দেম্বেলর পরিবর্তে নামা ব্র্যাডলে বারকোলা। ইনজুরি টাইমে ২৫ গজের দূরপাল্লার শটে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেল কিলিয়ান এমবাপে। তবে লাফানোর সময়ে ভুলচুক না করে ফেললে গোলটি বাঁচাতে পারতেন সেনেগাল গোলরক্ষক। প্রতি আক্রমণে একটি গোল শোধ করে যান এমবায়ে। সেনেগালের ইসমাইলা দ্বিতীয়ার্ধেও বলে ঠিকভাবে পা ছোঁয়াতে পারলে গোল পেতে পারতেন। এরই মধ্যে পেনাল্টি বিতর্ক। ভার অবশ্য জানিয়ে দিল এমবাপেকে যে ট্যাকলটা করা হয়েছিল সেটি বৈধই।
দিদিয়ের দেশঁর দলের খেলায় দেখা গেল একটা সেপ মেনটেইন করছে। দলটা ইনডিভিজুয়্যল ব্রিলিয়্যান্সিতে এতটাই এগিয়ে যে এখানেই বাকি দলগুলোর সঙ্গে তাদের তফাৎ। শুধু একটা জায়গাতেই বেমানান মনে হল। মিডফিল্ড ও আপফ্রন্টে যে চোরা গতিটা আছে, রক্ষণে তার কিছুটা অভাব। সে কারণেই এই ম্যাচেও মাঝে মাঝে ঝাঁকুনি দিয়ে গেল সেনেগাল। তবে ওই স্বপ্নের আপফ্রন্টই হয়ত ট্রফির দিকে নিয়ে চলে যেতে পারে দেশঁর ফ্রান্সকে।








