ভোজনিয়া, 'আপনাকে তো তা হলে কালটিভেট করতে হচ্ছে মশাই!"
৪০ পেরোলেই কি চালশে? আদৌ সত্যি তো? গোটা ম্যাচজুড়ে অন্তত ৭-৮টা সেভ। ভোজিনহা ও তাঁর দুরন্ত গোলকিপিং সেই মিথ ভেঙে দিল।

সব্যসাচী বাগচী
৪০ পেরোলেই কি চালশে? আদৌ সত্যি তো?
গোটা ম্যাচজুড়ে অন্তত ৭-৮টা সেভ। ভোজিনহা ও তাঁর দুরন্ত গোলকিপিং সেই মিথ ভেঙে দিল।
চিকিৎসাবিজ্ঞানে এই বিশেষ রোগের নাম প্রেসবায়োপিয়া।
৪০ বছরের ভোজিনহা এই ব্যাধিকে বুড়ো আঙুল দেখালেন।

প্রেসবায়োপিয়ার জন্য বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কাছের বস্তু দেখতে অসুবিধা হয়।
কিন্তু ভোজিনহার দুটি গ্লাভস এবং সিংহহৃদয় মানসিকতা স্পেনকে কাঁদিয়ে ছাড়ল। নিজেও কাঁদলেন। তবে ম্যাচের শেষে সেই কান্না অবশ্য গর্বের।
প্রেসবায়োপিয়ার আক্রান্ত রোগীদের ৪০ পেরোলেই পত্রপত্রিকা দূরে ধরে দেখতে হয়। মেডিক্যাল সায়েন্স বলে বয়সজনিত দৃষ্টি সমস্যা। সাধারণত এই বয়সে বা তার কাছাকাছি বয়সে এটা দেখা যায় বলে অনেকেই একে চালশে বলে থাকেন।
তবে পুরো ম্যাচজুড়ে ভোজিনহার দুই হাত, চীনের দেওয়াল হয়ে দাঁড়ালেন। ভুল প্রমাণিত করলেন চিকিৎসা বিজ্ঞানকে।

২০১২ সালের ৮ সেপ্টেম্বর। আফ্রিকান নেশনস কাপে ক্যামেরুনের বিরুদ্ধে তাঁর অভিষেক ঘটেছিল। এরপর কেপ ভার্দের হয়ে খেলেছেন ৮১টি ম্যাচ। কিন্তু বিশ্বকাপ খেলার সুযোগ হচ্ছিল না।
ভেবেছিলেন অনেক হয়েছে। এবার অবসর নেবেন। ঘরের কোনও এক দিকে থাকা আলমারিতে তুলে রাখবেন বড্ড প্রিয় গ্লাভস ও বুটজোড়া।
কিন্তু ফুটবল দেবতা যে অন্য স্ক্রিপ্ট লিখে রেখেছিলেন তাঁর জন্য। প্রায় অবসর ভেঙে ফিরে আসা ভোজনিয়ার ৮২তম আন্তর্জাতিক ম্যাচটা মাইলস্টোন হয়ে রয়ে যাবে সেটা হয়তো তিনিও কিক অফের আগে ভাবতে পারেননি। বিশ্বকাপে কেপ ভার্দে ও তাঁর অভিষেক ম্যাচটা সর্বকালের সেরা ম্যাচ হিসেবে রয়ে যাবে, সেটা নিয়ে আলোচনা হতেই পারে।
কেপ ভার্দে ও সেই দেশের ফুটবল পাগল মানুষদের জন্য এই রাতটা বড্ড স্পেশাল। আবেগে মোড়া। আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভোজনিয়া ও তাঁর চোখের জলের জন্যই তো ওরা পাগলের মতো সেলিব্রেট করছেন। নাচছেন। গাইছেন।
ম্যাচের শেষে ভোজনিয়াকে জড়িয়ে ধরে কাঁদছে গোটা দল। তিনিও কাঁদছেন। ওঁর কান্না দেখে মনেই হচ্ছে না, এই লোকটাই পুরো ম্যাচে এত আগ্রাসী মেজাজে পারফর্ম করেছেন। স্পেনের গরিমাকে মাটিতে মিশিয়ে দিয়েছেন।
তাই লালমোহন বাবুর কথা ধার করে লিখতেই হচ্ছে, "আপনাকে তো তা হলে কালটিভেট করতে হচ্ছে মশাই!"








