প্রয়াত কিংবদন্তি ফ্রাঙ্কো বারেসি, ৬৬ বছরেই থামল ইতালির এক ফুটবল-অধ্যায়
ফুটবলবিশ্বে নেমে এল শোকের ছায়া। প্রয়াত কিংবদন্তি ইতালীয় ডিফেন্ডার ও এসি মিলানের প্রাক্তন অধিনায়ক ফ্রাঙ্কো বারেসি। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৬৬ বছর। শুক্রবার বারেসির প্রয়াণের খবর জানায় তাঁর প্রাক্তন ক্লাব এসি মিলান।
ছবি সৌজন্য - ইনস্টাগ্রাম
এক্সট্রাটাইম নিউজডেস্ক: ফুটবলবিশ্বে নেমে এল শোকের ছায়া। প্রয়াত কিংবদন্তি ইতালীয় ডিফেন্ডার ও এসি মিলানের প্রাক্তন অধিনায়ক ফ্রাঙ্কো বারেসি। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৬৬ বছর। শুক্রবার বারেসির প্রয়াণের খবর জানায় তাঁর প্রাক্তন ক্লাব এসি মিলান। ক্লাবের তরফে শোকবার্তায় বলা হয়েছে, “ফ্রাঙ্কো বারেসির প্রয়াণে মিলান আজ অশ্রুসিক্ত। তাঁর আদর্শ ও সততা চিরকাল ক্লাবের ডিএনএ-তে অমলিন থাকবে, ঠিক যেমন অমর হয়ে রয়েছে তাঁর ঐতিহাসিক ৬ নম্বর জার্সি।”
এসি মিলান এবং ইতালীয় ফুটবলে বারেসির অবদান ছিল অপরিসীম। ১৯৮২ সালে ইতালির হয়ে বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ পেয়েছিলেন তিনি। ক্লাব ফুটবলে এসি মিলানের জার্সিতে একাধিক সেরি আ এবং ইউরোপিয়ান কাপ/চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ট্রফি জিতেছেন এই কিংবদন্তি ডিফেন্ডার।
১৯৬০ সালের মে মাসে লোম্বার্ডিতে জন্ম ফ্রাঙ্কো বারেসির। ১৯৭৪ সালে এসি মিলানের যুব দলে যোগ দেন তিনি। মাত্র ১৮ বছর বয়স হওয়ার আগেই ১৯৭৮ সালে জায়গা করে নেন মূল দলে। খুব দ্রুতই নিজেকে প্রথম একাদশের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন। মাত্র ১৮ বছর বয়সেই নিয়মিত হয়ে ওঠেন এবং ২২ বছর বয়সে পান অধিনায়কের আর্মব্যান্ড।
মাঠে বারেসির সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল তাঁর অসাধারণ টেকনিক, আগাম পরিস্থিতি বুঝে নেওয়ার ক্ষমতা, নিখুঁত ট্যাকল এবং নেতৃত্ব দেওয়ার দক্ষতা। তাঁর নেতৃত্বেই এসি মিলানের রক্ষণভাগ হয়ে উঠেছিল ইউরোপের অন্যতম সেরা। পাওলো মালদিনি, মাউরো তাসোত্তি এবং আলেসান্দ্রো কোস্তাকুর্তার সঙ্গে মিলে যে রক্ষণদুর্গ গড়ে তুলেছিলেন বারেসি, তা ইউরোপের তাবড় স্ট্রাইকারদের কাছেই ছিল আতঙ্কের।
১৯৯৭ সালে ফুটবলকে বিদায় জানান বারেসি। এসি মিলানের হয়ে মোট ৭১৯টি ম্যাচ খেলেছেন তিনি। ক্লাবের হয়ে ম্যাচ খেলার সংখ্যায় তাঁর রেকর্ড পরে শুধুমাত্র পাওলো মালদিনি অতিক্রম করতে পেরেছেন।
এসি মিলানের লাল-কালো জার্সির পাশাপাশি ইতালির জাতীয় দলের নীল জার্সিতেও বারেসির ছিল দীর্ঘ অধ্যায়। ইতালির হয়ে ৮১টি ম্যাচ খেলেছেন তিনি। ১৯৮২ বিশ্বকাপে ইতালির ঐতিহাসিক শিরোপাজয়ের দলের সদস্য ছিলেন বারেসি, যদিও সেই টুর্নামেন্টে তাঁকে মূলত বেঞ্চেই থাকতে হয়েছিল। ১৯৮৬ বিশ্বকাপে অবশ্য জাতীয় দলের কোচের সঙ্গে মতবিরোধের কারণে মেক্সিকো বিশ্বকাপে যাওয়া হয়নি তাঁর।
১৯৯০ এবং ১৯৯৪ বিশ্বকাপেও শিরোপার খুব কাছে পৌঁছে গিয়েছিলেন বারেসি। ১৯৯০ সালের সেমিফাইনালে পেনাল্টি শুটআউটে ইতালির স্বপ্নভঙ্গ হয়। চার বছর পর ১৯৯৪ বিশ্বকাপের ফাইনালেও পেনাল্টি শুটআউটই তাঁর আরেকটি বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন শেষ করে দেয়।
তবু ফুটবল ইতিহাসে ফ্রাঙ্কো বারেসির জায়গা চিরস্থায়ী। এসি মিলানের অধিনায়ক হিসেবে তাঁর নেতৃত্ব, অসাধারণ ডিফেন্ডিং এবং মাঠের ব্যক্তিত্ব তাঁকে শুধু ইতালি নয়, গোটা বিশ্বের ফুটবলপ্রেমীদের কাছে কিংবদন্তিতে পরিণত করেছে। তাঁর প্রয়াণে শেষ হল ইতালীয় ফুটবলের এক গৌরবময় অধ্যায়।
