একটা আনোয়ার না থাকাতেই ৫ গোল খেল ইস্টবেঙ্গল, অবিশ্বাস্য! চেন্নাইয়িনের কাছে ৩-৫ গোলে হার
একে রক্ষণে আনোয়ার নেই। তার সঙ্গে নুঙ্গা জঘন্য বললেও কম বলা হয়। তার ওপর পুরোপুরি ব্যর্থ মাঝমাঠ।রশিদ অন্য দিনের ফর্মে ছিলেন না। ড্যানিও চেষ্টা করলেও স্বাভাবিক টাচে ছিলেন না। জিকসন, বিষ্ণু, বিপিনরাও কেমন যেন এলোমেলো হয়ে গেলেন। আর রক্ষণের কথা না বলাই ভাল। নুঙ্গাকে নিয়ে ব্রাইসন যা খুশি তাই করে গেলেন।

ছবি সৌজন্য - ইস্টবেঙ্গল এফসি
গৌতম রায়
কী অদ্ভুত! কী অবিশ্বাস্য ঘটনা! ইস্টবেঙ্গল কিনা চেন্নাইয়িনের কাছে ৫ গোল খেল! এএফসিতে দুর্দান্ত লড়াই। আইএসএলে দারণ শুরু। তারপর কীভাবে একটা দল রাতারাতি এভাবে বদলে যেতে পারে! উত্তর আছে। আসলে একটা লোক নেই। আনোয়ার আলি। এই একজন না থাকলে কী হয়, সেটা হাড়ে হাড়ে টের পেল ইস্টবেঙ্গল। চেন্নাইয়িন এফসির কাছে ৩-৫ গোলে হেরে ফিরছে হাবাসের দল।
একে রক্ষণে আনোয়ার নেই। তার সঙ্গে নুঙ্গা জঘন্য বললেও কম বলা হয়। তার ওপর পুরোপুরি ব্যর্থ মাঝমাঠ।রশিদ অন্য দিনের ফর্মে ছিলেন না। ড্যানিও চেষ্টা করলেও স্বাভাবিক টাচে ছিলেন না। জিকসন, বিষ্ণু, বিপিনরাও কেমন যেন এলোমেলো হয়ে গেলেন। আর রক্ষণের কথা না বলাই ভাল। নুঙ্গাকে নিয়ে ব্রাইসন যা খুশি তাই করে গেলেন।
রক্ষণে কোনও মার্কিং নেই। কেউ জায়গায় থাকছেন না। চেন্নাইয়ের জন্য যেন ওই অঞ্চলটা বিরাট জলা জমি। ইস্টবেঙ্গল হাই লাইন ডিফেন্স করছিল। ফলে ফাঁকা জায়গাটাকে দারুণভাবে কাজে লাগাচ্ছিলেন মাধি তালাল, নিকোলারা। প্রথম তিরিশ মিনিট তালাল একাই তো ইস্টবেঙ্গল রক্ষণকে ফালাফালা করে ফেললেন। তারপরই হ্যামস্ট্রিংয়ের চোট নিয়ে মাঠ ছাড়েন চেন্নাইয়ের সবচেয়ে ক্রিয়েটিভ ফুটবলার, দলের হৃৎপিণ্ড, দুর্দান্ত নম্বর টেন মাধি তালাল। ভাবা গিয়েছিল তারপর হয়ত সমস্যায় পড়বে চেন্নাই. খেলা ধরবে ইস্টবেঙ্গল। কিন্তু কোথায় কী! তালালহীণ চেন্নাইও ইস্টবেঙ্গলকে এমন অবস্থায় পেয়ে নাস্তানাবুদ করে ছাড়ল।
গতি, দৌড় আর প্রেসিংয়েই লালহলুদ বাহিনীকে দাঁড় করিয়ে দিল চেন্নাই। দুটি করে গোল করে গেলেন ব্রাইসন ও ইরফান। অন্য গোলটি পেনাল্টি থেকে রামনের। ইস্টবেঙ্গলের হয়ে গোল করলেন একে লোবা, পড়ে পাওয়া চোদ্দ আনা পেনাল্টি থেকে ড্যানি আর ডেভিডের একটি গোল।
ব্রাইসনের প্রথম গোলটির সময় তালাল দেখেন সামনে নুঙ্গা ব্লক করছ্ন, শট নেওয়া কঠিন, তাই দুর্দান্ত বুদ্দিমত্তার সঙ্গে বলটি ছেড়ে দিলেন। পিছনে ফাঁকায় পেয়ে গিয়ে গোল করে যান ব্রাইসন। ১৮ মিনিটে তালালের থেকে বল পেয়ে নুঙ্গাকে টলিয়ে দুর্দান্ত শটে ব্রাইসনের দ্বিতীয় গোল।
ইস্টবেঙ্গল ২-১ করল লোবার গোলে। ড্যানি র্যামিরেজ ডিফেন্ডারকে তাড়া করে বল কেড়ে নিয়ে বুদ্ধদীপ্ত পাস বাড়ান। দারুনভাবে জায়গা নিয়ে প্রকৃত স্ট্রাইকারের মতই জোরালো শটে ব্যবধান কমান লোবা।
৩৯ মিনিটে জিকসন বক্সে ফাউল করলে পেনাল্টি থেকে ৩-১ করেন রামন। বিরতির পরই ইস্টবেঙ্গলের পড়ে পাওয়া চোদ্দ আনা সুযোগ। চেন্নাই ডিফেন্ডার বক্সে বলে হাত লাগালে পেনাল্টি পায় ইস্টবেঙ্গল। সুযোগের সদ্ব্যবহার ড্যানির। কিন্তু এরপরও পরপর দুটি গোল করে ৫-২ করে দেন ইরফান। এরপরই ৬ নম্বর গোলটাও পেয়ে যেত চেন্নাই। অফসাইড ট্র্যাপ করতে গিয়েছিলেন ইস্টবেঙ্গল ডিফেন্ডাররা। কিন্তু অন সাইড থেকে ফাঁকায় বল পেয়ে গিয়েছিলেন রামন। সামনে শুধু অসহায় গিল. কিন্তু তিনি বল বাইরে পাঠালেন। ডিফেন্স থেকে উড়ে আসা একটি লম্বা পাস ধরে ৫-৩ করেন ডেভিড।
কিন্তু প্রশ্ন হল শুধু আনোয়ার নেই বলে এতটা এলোমেলো হয়ে যাবে একটা দল! কী দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করছিল, তারপর এমন পতন! এ পারফরম্যান্স তো আকাশ থেকে মাটিতে পড়া! কী হতশ্রী অবস্থা! চেন্নাই যাচ্ছিল না দলটাকে। আনোয়ার কিন্তু কবে ফিরবেন, বলা যাচ্ছে না। তাই এরপর হাবাস কীভাবে সামাল দেন, সেটা নিয়ে কৌতুহল তো রইলই!
