আবারও ভুল রেফারিং এর শিকার এফসি গোয়া, এবার প্রকাশ্যেই চাইল জবাব
পাশাপাশি ভুল সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা বজায় রাখা, রেফারিদের মূল্যায়নের পদ্ধতি সম্পর্কে ক্লাবগুলিকে স্পষ্ট ধারণা দেওয়া, ক্লাব ও ম্যাচ পরিচালকদের মধ্যে নিয়মিত আলোচনা এবং নতুন রেফারিদের জন্য আরও উন্নত প্রশিক্ষণ ও অভিজ্ঞদের তত্ত্বাবধানের দাবি জানিয়েছে এফসি গোয়া।

এক্সট্রাটাইম ওয়েবডেস্ক: রেফারির ভুল সিদ্ধান্তের পর কতবার আর সবকিছু ভুলে সামনে এগিয়ে যাওয়ার কথা শুনতে হবে? শুক্রবার রাতে ফতোরদায় বেঙ্গালুরু এফসির বিরুদ্ধে ১-২ গোলে হারের পর কার্যত এই প্রশ্নই তুলল এফসি গোয়া। শুধু একটি ম্যাচের হার নয়, বরং চলতি মরশুমে রেফারিংয়ের মান নিয়েই এবার সরব হল গোয়ার দল।
শুক্রবারের ম্যাচে শুরুতেই বোরহা মার্তিনেজ এবং ফ্রান্সিসকো ফেউলাসিয়েরের গোলে দুই দল ১-১ ব্যবধানে পৌঁছয়। এরপর ম্যাচের বাকি সময় দুই দলের মধ্যে চলে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই। মনে হচ্ছিল, অমীমাংসিত অবস্থাতেই শেষ হবে ম্যাচ। কিন্তু অতিরিক্ত সময়ে ঘটে যায় বিতর্কিত ঘটনা। প্রথমে এফসি গোয়ার পেনাল্টির জোরালো আবেদন নাকচ করে দেন রেফারি প্রতীক মণ্ডল। এর পরেই বেঙ্গালুরু এফসির ডিফেন্ডার চিনগলেনসানা সিং বলটি মাঠের বাইরে পাঠিয়ে দেন। কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে সেই ঘটনা নজর এড়িয়ে যায় ম্যাচ পরিচালকদের। উল্টে বেঙ্গালুরু এফসিকে থ্রো-ইন দেওয়া হয়।
গোয়ার ফুটবলাররা যখন এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ব্যস্ত, সেই সুযোগেই দ্রুত খেলা শুরু করে বেঙ্গালুরু। বাঁ দিক থেকে আক্রমণ তৈরি করেন আশিক কুরুনিয়ান। তাঁর বাড়ানো বল থেকেই ৯০ মিনিটের পর দ্বিতীয় মিনিটে জয়সূচক গোল করেন সোহম বর্শনেয়া। গোলের পর সন্দেশ ঝিঙ্গনের তীব্র প্রতিবাদও অবশ্য ম্যাচের ফল বদলাতে পারেনি।
এই ঘটনার পর আর চুপ করে থাকেনি এফসি গোয়া। শনিবার সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশনের রেফারি বিভাগ, ফেডারেশনের সচিবালয় এবং লিগ কর্তৃপক্ষের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ জানায় ক্লাব। চলতি মরশুমে রেফারিংয়ের মান এবং একের পর এক ভুল সিদ্ধান্ত নিয়ে নিজেদের উদ্বেগের কথা তুলে ধরে তারা।
প্রকাশ্যে দেওয়া বিবৃতিতেও যথেষ্ট কড়া অবস্থান নিয়েছে গোয়া। ক্লাবের বক্তব্য, বিষয়টি শুধুমাত্র একটি ম্যাচে হারের হতাশা নয়। বরং বিশেষ করে লিগে নতুন দায়িত্ব পাওয়া রেফারিদের কাছ থেকে একাধিক সাধারণ ভুল সামনে আসায় উদ্বেগ বাড়ছে। মরশুমের শেষে সব দলের পক্ষেই ভুল সিদ্ধান্তের সুবিধা-অসুবিধা সমান হয়ে যায় এমন যুক্তিও মানতে নারাজ তারা।
পাশাপাশি ভুল সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা বজায় রাখা, রেফারিদের মূল্যায়নের পদ্ধতি সম্পর্কে ক্লাবগুলিকে স্পষ্ট ধারণা দেওয়া, ক্লাব ও ম্যাচ পরিচালকদের মধ্যে নিয়মিত আলোচনা এবং নতুন রেফারিদের জন্য আরও উন্নত প্রশিক্ষণ ও অভিজ্ঞদের তত্ত্বাবধানের দাবি জানিয়েছে এফসি গোয়া।
ভারতীয় ফুটবলকে আন্তর্জাতিক মানে পৌঁছে দিতে হলে মাঠের ভিতরের এই ধরনের মৌলিক ভুল এড়ানো অত্যন্ত জরুরি। আর এই বিতর্কের মধ্যেই নতুন করে সামনে আসছে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন এমন পরিস্থিতিতে স্বচ্ছতা ও সঠিক সিদ্ধান্ত নিশ্চিত করতে ভারতীয় ফুটবলে কি ভিডিও সহকারী রেফারি অথবা ফুটবল ভিডিও সহায়তা পদ্ধতি চালু করা প্রয়োজন? প্রযুক্তির সাহায্যে কি এ ধরনের বিতর্কিত সিদ্ধান্ত এড়ানো সম্ভব?
