অবিশ্বাস্য! আত্মতুষ্টির খেসারত, বেলজিয়ামকে ম্যাচ উপহার দিল সেনেগাল
ম্যাচের ৮৬ মিনিট পর্যন্ত ২-০ গোলে এগিয়ে, সেই ম্যাচই কিনা প্রতিপক্ষের হাতে ৩-২ গোলে তুলে দিয়ে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিল আফ্রিকার দেশটি।

গৌতম রায়
শেষ বাঁশি না বাজলে ম্যাচ শেষ হয় না, এই আপ্তবাক্যটা আজ হাড়ে হাড়ে টের পেল সেনেগাল। এই কথাটা না বুঝলে যা মূল্য চোকানোর সেটাই চোকালো তারা। ম্যাচের ৮৬ মিনিট পর্যন্ত ২-০ গোলে এগিয়ে, সেই ম্যাচই কিনা প্রতিপক্ষের হাতে ৩-২ গোলে তুলে দিয়ে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিল আফ্রিকার দেশটি।
সেনেগালের ভুলেই হারা ম্যাচে ফিরে এসেছিল বেলজিয়াম। নিজেদের অভজ্ঞতা ও হাল না ছাড়ার মানসিকতায় সুষোগটাকে আর হাতছাড়া করেনি ইউরোপের অন্যতম পাওয়ার হাউস।
২-০ গোলে এগিয়ে গিয়েছিল সেনেগাল। ব্যবধানটা তখন আরও বাড়তেও পারত। কিন্তু প্রশ্ন হল, কেন বেলজিয়ামের মত দলকে তখন এভাবে নাস্তানাবুদ করতে পেরেছিল সেনেগাল? আসলে খেলাটা যেভাবে শুরু করল আফ্রিকান জায়ান্টরা, তাতে রীতিমত চমকে দিল বেলজিয়ামকে।
ঝড়ের গতিতে আক্রমণ। একসঙ্গে ৬-৭ জন উঠছেন, নামছেন। অ্যাটাকিং থার্ডে প্রচণ্ড পাওয়ারফুল। আগ্রাসী হয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ছেন। ফলে সব জায়গায়, সব সময় সংখ্যাধিক্য। দ্বিতীয় বল নেওয়ার ক্ষেত্রে দুর্দান্ত মুন্সিয়ানা। থার্ডম্যান মুভ অসাধারণ। সঙ্গে দৌড়, দৌড় আর দৌড়। এখানেই পিছিয়ে পড়ল বেলজিয়াম।
২৫ মিনিটে প্রথম গোল। বাঁদিক থেকে সাদিও মানের তুলে দেওয়া বলে হেড করেন মৌসা নিয়াখাতে। পোস্টে লেগে প্রতিহত হলে ফিরতি বল গোলে ঠেলে দেন হাবিব দিয়ারা।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই দ্বিতীয় গোল। নিজেদের অঞ্চল থেকে উঁচু করে বল তুলে দেন সেনেগালি ডিফেন্ডার। বেলজিয়ামের দুজন ডিফেন্ডারে্র মাঝে বল পেয়ে যান ইসমাইল সার। বুকে বল নামিয়েই পড়ন্ত বলে জোরালো শটে কুর্তোয়াকে্ হার মানান। বিশ্বকাপে তাঁর স্বপ্নের দৌড় অব্যাহত। মেসি, এমবাপেরা ৬ গোল করে করেছেন ঠিকই, হ্যারি কেনও পাঁচ গোল করে ফেলেছেন ঠিকই, ইসমাইল সারও কিন্তু চলতি বিশ্বকাপে তাঁর পাঁচ নম্বর গোলটা করে ফেললেন। আগের ম্যাচেই তিনি সেনেগালের হয়ে সর্বোচ্চ স্কোরারের তকমাটা পেয়ে গিয়েছিলেন। এদিন সেই রেকর্ডকে আরও একটু ভাল করে নিলেন।
সেনেগাল যখন শেষ ষোলোয় একটা পা প্রায় ফেলে দিয়েছে, তখনই নাটকীয় মোড় নিল এই ম্যাচ। অবিশ্বাস্যভাবে ঘুরে দাঁড়াল বেলজিয়াম। নির্ধারিত সময়ের একেবারে শেষ মুহূর্তে ক্লাইম্যক্স চরমে। ৮৬ ও ৮৯ - তিন মিনিটের মধ্যে দুটি গোলই শোধ করে দিয়ে বেলজিয়াম বুঝিয়ে দিল পিকচার আভি বাকি হ্যায় দোস্ত! প্রথমে লুকাকু ও পরে টিয়েলেমানসের গোলে শুরুর চমকটা সেনেগালকে ফিরিয়ে দিল বেলজিয়াম। সত্যিই তারপর হকচকিয়ে গেল সেনেগাল।
আসলে কিছটা আত্মতুষ্টি, কিছুটা গা ছাড়া ভাব, ম্যাচ জিতে গেছি – এই মানসিকতা গ্রাস করেছিল সেনেগালিদের। সেই সুযোগটাকেই দারুনভাবে কাজে লাগাল অভিজ্ঞ বেলজিয়াম দল।
আর অতিরিক্ত সময়ে বক্সের মধ্যে টিয়েলেমানসকে ফাউল করেন সেনেগালের লামিনে কামারা। পেনাল্টি থেকে গোল করলেন টিয়েলেমানস। আর সেনেগালিদের চরম শিক্ষা দিল বেলজিয়াম। সেনেগালের এই দলের ফুটবলাররা কোনও দিনই ভুলতে পারবেন না এই ম্যাচটা। আর ভুলবেন না ওই কথাটাও – শেষ বাঁশি না বাজলে ম্যাচ শেষ হয় না। তার আগে শৈথিল্যের যে কোনও ক্ষমা নেই, ভুলবেন না এটাও।
বিশ্বকাপের আসরে ব্যর্থ হওয়ার জন্য এর মধ্যেই সাতজন কোচের দায়িত্ব চলে গেছে। এবার কি ,সেনেগালের কোচ? কে জানে?








