খাদের কিনারা থেকে ইংল্যান্ডকে শেষ ষোলোয় নিয়ে চলে গেলেন অধিনায়ক হ্যারি কেন
লিডিং ফ্রম দ্য ফ্রন্ট বোধহয় একেই বলে! এদিন ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি কেন যা করলেন তাকে আর অন্য কী-ই বা বলা যায়! ৭৫ মিনিট পর্যন্ত ডিআর কঙ্গোর বিরুদ্ধে এক গোলে পিছিয়ে থ্রি লায়ন্স। তখনই অবিশ্বাস্য দক্ষতায় দলকে টেনে তুললেন ক্যাপ্টেন। পরপর দুটি গোল করে খাদের কিনারা থেকে ইংল্যান্ডকে শেষ ষোলোয় তুলে নিয়ে চলে গেলেন তিনি। ইংল্যান্ড জিতল ২-১ গোলে।

গৌতম রায়
লিডিং ফ্রম দ্য ফ্রন্ট বোধহয় একেই বলে! এদিন ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি কেন যা করলেন তাকে আর অন্য কী-ই বা বলা যায়! ৭৫ মিনিট পর্যন্ত ডিআর কঙ্গোর বিরুদ্ধে এক গোলে পিছিয়ে থ্রি লায়ন্স। তখনই অবিশ্বাস্য দক্ষতায় দলকে টেনে তুললেন ক্যাপ্টেন। পরপর দুটি গোল করে খাদের কিনারা থেকে ইংল্যান্ডকে শেষ ষোলোয় তুলে নিয়ে চলে গেলেন তিনি। ইংল্যান্ড জিতল ২-১ গোলে।
নাটকীয়ভাবে খেলাটা শুরু হয়েছিল। ইংল্যান্ড যখন কঙ্গোর রক্ষণে ঝাঁপিয়ে পড়েছে, তখনই একটা ছিটকে আসা বলে দ্রুত প্রতিআক্রমণ গড়ে তুলে ইংলিশ ফুটবলারদের রক্ষণ সাজানোর সুযোগ না দিয়ে গোল করে যান ব্রায়ান কিপেঙ্গা।
তারপর থেকে সারাক্ষণ ইংল্যান্ডের গোল শোধের মরিয়া চেষ্টা। তবে আরও মরিয়া কঙ্গো রক্ষণ। যত সময় এগিয়েছে ততই ইংরেজরা হতাশ হয়েছে। অস্তিরতা বেড়েছে। কিছুতেই আর আফ্রিকার দলটির রক্ষণ ভাঙা সম্ভব হচ্ছিল না।
কঙ্গোর স্ট্র্যাটেজি ছিল, মাঝমৈাঠ ভারি করে রাইস-অ্যান্ডারসনদের ক্লোজে চলে গিয়ে চাপ দেওয়া। দরকার হলে ফিজিক্যাল ফুটবল। তাতে ইংল্যান্ড মিডফিল্ডাররা পেনিট্রেটিভ ফরোর্য়াড পাস বাড়ানোর বদলে স্কয়ারে খেলতে বাধ্য হচ্ছিলেন। ঠিক এটাই চাইছিল কঙ্গো।
আর ছিটকে আসা বল পেলেই দুই উইং দিয়ে ক্লিপেঙ্গা ও উইসার দ্রতগতির আক্রমণ গড়ে তোলা। নেমে এসে ইংল্যান্ড ফুটবলাররা রক্ষণ সামলানোর আগেই যাতে আঘাত করা যায়। ঠিক যেভাবে গোলটি পেয়ে যায় কঙ্গো।
অন্যদিকে চেষ্টা করেও এই রক্ষণ ভাঙতে পারছিল না ইংল্যান্ড। দুই উইং ব্যাক ক্রমাগত মাঠটাকে ছড়িয়ে আক্রমণে এসেও সুবিধা করতে পারছিলেন না।
তারই মধ্যে বেলিংহ্যাম দু তিনবার গোলরক্ষকের হাতে হেড করেন। তবে বলতেই হবে কঙ্গো গে্ালরক্ষকের দৃঢ়তার কথাও। বেশ কয়েকবার সামাল দিলেন দলের পতন। তবে এই সময় একটি পেনাল্টি পেতেই পারত ইংল্যান্ড। তাদের বঞ্চিত করা হল কিনা, সে বিতর্ক কিন্তু রয়েই গেল।
দ্বিতীয়ার্ধে আরও বেশি রক্ষণে মন দেয় কঙ্গো। ফলে ভিড় এড়াতে আরও বেশি করে উঁচু বলে খেলা শুরু করে ইংল্যান্ড। এভাবেই পেয়ে যায় প্রথম গোলটি। গর্ডনের তুলে দেওয়া বলে হেড করে ইংল্যান্ড শিবিরে স্বস্তি আনেন কেন।
দ্বিতীয় গোলটি যতটা দৃষ্টিনন্দন, ততটাই গুরুত্বপূর্ণ। দুরন্ত শটে জয় আসে অধিনায়কের পা দিয়েই। বক্সের মাথা থেকে দু তিনজনের বাধা টপকে কোটি টাকার শটটি নিয়েছিলেন হ্যারি কেন।
কঙ্গোর ইতিহাস গড়া হল না। কেনের পায়েই শেষ হয়ে গেল তাদের দুরন্ত লড়াই। গুলি খাওয়ার পর স্টেডিয়ামজুড়ে থ্রি লায়ন্সের গর্জন। শেষ পর্যন্ত যে জার্মানির মত দশা হল না ইংল্যান্ডের। বাঁচিয়ে দিয়ে গেলেন ওই মহাতারকাই।








