ইতিহাস গড়লেন মা-ছেলে: প্রথমবার বিশ্বকাপে একসঙ্গে নজির গড়লেন জেনি ও টাইলার বিন্ডন
ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাসে নতুন এক অধ্যায়ের জন্ম দিলেন নিউজিল্যান্ডের জেনি বিন্ডন ও তাঁর ছেলে টাইলার বিন্ডন। ইরানের বিপক্ষে নিউজিল্যান্ডের হয়ে মাঠে নেমে টাইলার বিশ্বকাপে অভিষেক করেন। এর মধ্য দিয়েই জেনি ও টাইলার বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া প্রথম মা-ছেলের জুটি হিসেবে ইতিহাসে নাম লেখান।
এক্সট্রাটাইম ওয়েব ডেস্ক
ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাসে নতুন এক অধ্যায়ের জন্ম দিলেন নিউজিল্যান্ডের জেনি বিন্ডন ও তাঁর ছেলে টাইলার বিন্ডন। ইরানের বিপক্ষে নিউজিল্যান্ডের হয়ে মাঠে নেমে টাইলার বিশ্বকাপে অভিষেক করেন। এর মধ্য দিয়েই জেনি ও টাইলার বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া প্রথম মা-ছেলের জুটি হিসেবে ইতিহাসে নাম লেখান।
টাইলারের মাঠে নামার মুহূর্তে সাবেক গোলরক্ষক জেনি ম্যাচের ফল নিয়েই বেশি চিন্তিত ছিলেন। তবে খেলা শেষে ছেলে যখন তাঁর হাত ধরে বলেছিলেন, "আমরা পেরেছি, মা," তখনই এই অর্জনের গুরুত্ব উপলব্ধি করেন তিনি।
জেনি নিউজিল্যান্ড মহিলা দলের হয়ে ৭৭টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন। তিনি ২০০৭ ও ২০১১ মহিলা বিশ্বকাপ এবং ২০০৮ ও ২০১২ অলিম্পিকে দেশের প্রতিনিধিত্ব করেন। বর্তমানে তিনি নিউজিল্যান্ড মহিলা দলের সহকারী কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
২০০৫ সালে টাইলারের জন্মের মাত্র চার মাস পরই সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের ধকল কাটিয়ে মাঠে ফেরেন জেনি। সন্তানকে সঙ্গে নিয়েই তিনি অনুশীলনে যেতেন। ছোট্ট টাইলার কখনও গোলপোস্টের পেছনে বসে মায়ের অনুশীলন দেখত, আবার বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বল কুড়িয়ে দিত এবং খেলোয়াড়দের সঙ্গে সময় কাটাত।
শৈশবে টাইলার প্রায় ১৭টি ভিন্ন খেলাধুলায় অংশ নিলেও শেষ পর্যন্ত ফুটবলকেই নিজের ক্যারিয়ার হিসেবে বেছে নেন। যুক্তরাষ্ট্রে বেড়ে ওঠার সময় তিনি এলএএফসি একাডেমিতে খেলেন। পরে ইংল্যান্ডে রিডিংয়ের হয়ে নজর কেড়ে নটিংহ্যাম ফরেস্টে যোগ দেন। গত মরসুমে লোনে শেফিল্ড ইউনাইটেডে খেলেও দারুণ পারফরম্যান্স করেন।
বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত সীমিত সময় মাঠে নামলেও টাইলারের পেশাদার মনোভাবের প্রশংসা করেছেন জেনি। তাঁর মতে, দলে সুযোগ যতটুকুই আসুক, প্রতিটি মুহূর্তকে মূল্য দিতে হবে।
জেনি বিশ্বাস করেন, নিউজিল্যান্ড ফুটবলের মান আগের চেয়ে অনেক উন্নত হয়েছে। দেশের ফুটবলাররা এখন ইউরোপের বড় ক্লাবে খেলছেন, যা জাতীয় দলের মানও বাড়িয়েছে। একই সঙ্গে তিনি মনে করেন, মহিলা ফুটবলে মা হওয়া খেলোয়াড়দের জন্য আরও সহায়ক পরিবেশ তৈরি করা জরুরি, যাতে পরিবার ও পেশাদার ক্যারিয়ার একসঙ্গে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়।
মা হিসেবে তিনটি বিশ্বকাপের অংশ হওয়া জেনি বিন্ডনের গল্প এবং ছেলে টাইলারের বিশ্বকাপ অভিষেক শুধু একটি পারিবারিক সাফল্য নয়, এটি মহিলা ফুটবলের অগ্রগতি ও নতুন প্রজন্মের জন্য এক অনুপ্রেরণার প্রতীক।
.








