স্বপ্নের দৌড় অব্যাহত কেপ ভার্দের, ইতিহাস গড়ে প্রথমবার বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে
ফুটবল বিশ্বকাপে রূপকথার মতো যাত্রা অব্যাহত রেখেছে কেপ ভার্দে। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে সৌদি আরবের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র করে ইতিহাস গড়েছে আফ্রিকার পশ্চিম উপকূলের ছোট্ট এই দ্বীপরাষ্ট্র। মাত্র পাঁচ লাখের কিছু বেশি জনসংখ্যার দেশটি বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে ছোট দেশ হিসেবে নকআউট পর্বে জায়গা করে নিয়েছে।

এক্সট্রাটাইম ওয়েব ডেস্ক
ফুটবল বিশ্বকাপে রূপকথার মতো যাত্রা অব্যাহত রেখেছে কেপ ভার্দে। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে সৌদি আরবের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র করে ইতিহাস গড়েছে আফ্রিকার পশ্চিম উপকূলের ছোট্ট এই দ্বীপরাষ্ট্র। মাত্র পাঁচ লাখের কিছু বেশি জনসংখ্যার দেশটি বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে ছোট দেশ হিসেবে নকআউট পর্বে জায়গা করে নিয়েছে।
বিশ্বকাপে নিজেদের অভিষেক আসরেই চমক দেখানো কেপ ভার্দে প্রথম ম্যাচে ২০১০ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেনকে ০-০ গোলে রুখে দেয়। এরপর উরুগুয়ের বিপক্ষে পিছিয়ে পড়েও ২-২ গোলে ড্র করে। শুক্রবার সৌদি আরবের বিপক্ষে আরও একটি ০-০ ড্র তাদের পয়েন্ট সংখ্যা দাঁড় করায় তিনে।
একই দিনে স্পেন উরুগুয়েকে হারিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়। আর তিনটি ড্র নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে থেকে নকআউট পর্ব নিশ্চিত করে কেপ ভার্দে।
রাউন্ড অব ৩২-এ আগামী ৩ জুলাই মায়ামিতে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হবে ব্লু শার্কসরা।
বিশ্বকাপ বা বড় আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে তিনটি ম্যাচই ড্র করে পরের রাউন্ডে ওঠা বিরল ঘটনা হলেও নতুন নয়। ১৯৫৮ সালে ওয়েলস, ১৯৯০ সালে আয়ারল্যান্ড ও নেদারল্যান্ডস এবং ১৯৯৮ সালে চিলি একইভাবে নকআউটে উঠেছিল। তবে ২০১০ সালে নিউজিল্যান্ড তিনটি ম্যাচ ড্র করেও বিদায় নিতে বাধ্য হয়েছিল।
ম্যাচের আগের দিন কেপ ভার্দের প্রধান কোচ বুবিস্তা বলেছিলেন, "স্বপ্ন দেখার অধিকার সবারই আছে, আর অসম্ভব বলে কিছু নেই।" তার সেই কথাই যেন বাস্তবে রূপ দিয়েছে তার দল।
গ্যালারিতে কেপ ভার্দের পতাকার রঙে মুখ রাঙানো এক সমর্থকের হাতে ছিল একটি ব্যানার— "ছোট্ট দ্বীপ, বিশাল স্বপ্ন।" সেই স্বপ্নই এখন বাস্তব, কারণ বিশ্বমঞ্চে নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়ে চলেছে এই আন্ডারডগ দল।
এই সাফল্যের অন্যতম নায়ক ৪০ বছর বয়সী গোলরক্ষক ভোজিনহা। পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের মাধ্যমে তিনি বিশ্বজুড়ে আলোচনায় উঠে এসেছেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে তার অনুসারীর সংখ্যা ১ কোটি ৬০ লাখ ছাড়িয়েছে।
সৌদি আরবের বিপক্ষে ম্যাচেও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সেভ করে দলের রক্ষাকবচ হয়ে ওঠেন তিনি। প্রথমার্ধের ইনজুরি সময়ে মোহাম্মদ কান্নোর হেড দারুণভাবে আটকে দেন। এরপর ৬৬ মিনিটে মোহাম্মদ আবু আল-শামাতের শক্তিশালী শট প্রতিহত করেন। ম্যাচের একেবারে শেষদিকে, ৯২তম মিনিটে আবদুল্লাহ আল-হামদানের নেওয়া শটও ঠেকিয়ে দলকে মূল্যবান এক পয়েন্ট এনে দেন অভিজ্ঞ এই গোলরক্ষক।
এখন কেপ ভার্দের সামনে আরও বড় চ্যালেঞ্জ। ফুটবল বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী দল আর্জেন্টিনার বিপক্ষে মাঠে নামবে তারা। তবে ইতোমধ্যেই বিশ্বকাপের অন্যতম বড় চমক হয়ে ওঠা এই দলটি দেখিয়ে দিয়েছে—স্বপ্ন দেখতে জানলে অসম্ভবও সম্ভব হতে পারে।








