দুরন্ত হ্যাটট্রিক, দেম্বেলে ঝড়ে উড়ে গেল নরওয়ে
দেম্বেলে আধ ঘন্টার মধ্যে দুরন্ত হ্যাটট্রিক করে ম্যাচটা সেখানেই শেষ করে দিলেন। শেষ পর্যন্ত ৪-১ গোলে নরওয়েকে হারাল ফ্রান্স

গৌতম রায়
ভাবা গিয়েছিল দুর্ধর্ষ লড়াই হবে। কিন্তু নরওয়ে কোচ আর্লিং হালান্ডকে প্রথম দল থেকে বিশ্রাম দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় দুই মহাতারকার ডুয়েলটা দেখা গেল না। আর দেম্বেলে আধ ঘন্টার মধ্যে দুরন্ত হ্যাটট্রিক করে ম্যাচটা সেখানেই শেষ করে দিলেন। শেষ পর্যন্ত ৪-১ গোলে নরওয়েকে হারাল ফ্রান্স।
ম্যাচের শুরু থেকেই ফরাসি আক্রমণের ঝড়। খেলার বয়স যখন মাত্র ২৫ সেকেন্ড, এমবাপের শট বারে লেগে ফিরে আসে। এরপরই শুরু দেম্বেলে ঝড়। ৬ মিনিটের মাথায় এমপাপের পাস ধরে ডানদিক থেকে ঢুকে আউটসাইড ইনসাইড করে গোলরক্ষককে দাঁড় করিয়ে রেখে প্রথম গোল। ম্যাচের বয়স তখন ১৯ মিনিট। এমবাপেকে পিছন থেকে টেনে ধরে অবৈধভাবে থামানোর চেষ্টা করেন নরওয়ে ডিফেন্ডার। রেফারি অ্যাডভান্টেজ দেন। পড়ে যেতে যেতে দেম্বেলেকে পাস বাড়িয়ে দেন তিনি। কাট করে ঢুকে বাঁ পায়ের দুরন্ত শটে ২-০ করেন দেম্বেলে।
সেন্টার করেই আক্রমণ তুলে এনে একটি গোল শোধ করে নরওয়ে। কিন্তু গোলের সময় পুরো ফরাসি ডিফেন্স যেন দাঁড়িয়ে রইল। এটাই এই দলের একমাত্র দুর্বলতা। যদি ফ্রান্সের স্বপ্নভঙ্গ হয়, তাহলে হয়ত এটার জন্যই হতে পারে। ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধেও এটা দেখিয়ে দিয়ে গেল নরওয়ে। কিন্তু কখনও ফরাসি গোলরক্ষকের দক্ষতায় আবার কখনও ফিনিশিংয়ের দুর্বলতায় তারা আরও গোল পেল না।
কিন্তু এদিনটা যে ছিল দেম্বেলের। ৩২ মিনিটের মাথায় এবার তাঁকে পাসটা বাড়ান চুয়েমেনি। সেই ডানদিক থেকে কাট করেই সোয়ার্ভিং শটে হ্যাটট্রিক সম্পূর্ণ করেন এবারের ব্যালন ডি অরজয়ী ফুটবলার।
তবে বলতে হবে নরওয়ে গোলরক্ষকের এগিল সেলভিকের কথা। প্রথমার্ধেই তিনি একের বিরুদ্ধে এক পরিন্থিতিতে দুবার দলকে বাঁচান। একবার দুয়ে ও আরেকবার কোনের পা থেকে বল তুলে নেন।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই পেনাল্টি পায় নরওয়ে। বক্সের মধ্যে অস্কার ববকে ফাউল করেন ফরাসি ডিফেন্ডার থিও হার্নান্ডেজ। কিন্তু লারসেনের পেনাল্টি আটকে দেন ফ্রান্স গোলরক্ষক মাইগনান। একেবারে শেষ মুহূর্তে নিখুঁত হেডে দলের চতুর্থ গোলটি করেন দুয়ে।
এদিন হয়ত ডাগ আউটে ছিলেন না কোচ দিদিয়ের দেশঁ, তবে ৪-২-৩-১ ছকে দল নামিয়েছিল ফ্রান্স। নাম্বার টেনের ভূমিকায় বেশ সফল ওলিজে। নিজে গোল না করলেও দেম্বেলের প্রথম দুটি গোলের অ্যাসিস্ট করে যান এমবাপে। তেল দেওয়া মেশিনের মতই কাজ করল মাঝমাঠ ও আক্রমণভাগ। কিন্তু দেশঁর মাথাব্যথার কারণ হতে পারে রক্ষণের দুর্বলতা। পরবর্তী ম্যাচগুলোয় আরও কঠিন লড়াইয়ে অনেক বেশি সতর্ক থাকতেই হবে ফরাসি রক্ষণকে। আরও বেশি জমাট ও সংগঠিত করতেই হবে, নাহলে ব্রাজিল, জার্মানি, আর্জেন্টিনা, স্পেন – সামনে যেই পড়ুক, কিন্তু ক্ষমা করবে না।








