মেক্সিকোর সমকামীবিদ্বেষী স্লোগান নিয়ে কী ব্যবস্থা নেবে ফিফা? চেকিয়ার বিরুদ্ধে জয়েও বিতর্ক
চেকিয়ার বিপক্ষে ৩-০ ব্যবধানে জয়ের সময় স্টেডিয়ামের একাংশ থেকে অন্তত তিনবার সমকামীবিদ্বেষী (হোমোফোবিক) স্লোগান শোনা যায়, যা টেলিভিশন সম্প্রচারেও স্পষ্টভাবে ধরা পড়ে। বহু বছর ধরেই মেক্সিকো জাতীয় দলের ম্যাচে এই স্লোগান নিয়ে বিতর্ক চলছে। বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে, তাও আবার আয়োজক দেশের দর্শকদের কাছ থেকে একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ফিফার জন্য নতুন করে শাস্তিমূলক পদক্ষেপের প্রশ্ন তুলেছে।

এক্সট্রাটাইম ওয়েব ডেস্ক
মাঠে দারুণ পারফরম্যান্স করে সমর্থকদের আনন্দে ভাসিয়েছে মেক্সিকো। তবে ম্যাচ শেষে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে মাঠের বাইরের একটি পুরনো বিতর্ক।
চেকিয়ার বিপক্ষে ৩-০ ব্যবধানে জয়ের সময় স্টেডিয়ামের একাংশ থেকে অন্তত তিনবার সমকামীবিদ্বেষী (হোমোফোবিক) স্লোগান শোনা যায়, যা টেলিভিশন সম্প্রচারেও স্পষ্টভাবে ধরা পড়ে। বহু বছর ধরেই মেক্সিকো জাতীয় দলের ম্যাচে এই স্লোগান নিয়ে বিতর্ক চলছে। বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে, তাও আবার আয়োজক দেশের দর্শকদের কাছ থেকে একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ফিফার জন্য নতুন করে শাস্তিমূলক পদক্ষেপের প্রশ্ন তুলেছে।
যদিও ম্যাচ চলাকালীন খেলা থামানো হয়নি, ফিফার বৈষম্যমূলক আচরণবিরোধী নীতিতে এমন পরিস্থিতিতে রেফারির খেলা থামানোর ক্ষমতা রয়েছে। ফলে ম্যাচ-পরবর্তী সময়ে ফিফার সিদ্ধান্ত এখন বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।
মেক্সিকো শুধু একটি গ্রুপ পর্বের ম্যাচ জেতেনি; তারা বিশ্বকাপের অন্যতম আয়োজক দেশ। ঘরের মাঠে, নিজস্ব দর্শকদের সামনে এমন একটি ঘটনার পুনরাবৃত্তি ফিফাকে কঠিন অবস্থায় ফেলেছে।
একদিকে, যদি ফিফা ঘটনাটি উপেক্ষা করে, তাহলে বৈষম্যের বিরুদ্ধে তাদের দীর্ঘদিনের অবস্থান প্র্শ্নের মুখে দাঁড়াতে পারে। অন্যদিকে, যদি কঠোর শাস্তি দেয়, তাহলে আয়োজক দেশের সমর্থকদের ঘিরে বড় ধরনের বিতর্ক তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এটি প্রথমবার নয়। এর আগেও একই ধরনের স্লোগানের কারণে একাধিকবার শাস্তি পেয়েছে মেক্সিকো।
২০১৮ বিশ্বকাপে জার্মানির বিপক্ষে জয়ের পরও একই অভিযোগে ফিফা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছিল। এছাড়া অতীতে মেক্সিকান ফুটবল ফেডারেশনকে জরিমানা করা হয়েছে এবং বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের কিছু ম্যাচ দর্শকশূন্য স্টেডিয়ামে আয়োজনের নির্দেশও দেওয়া হয়েছিল।
বারবার একই ঘটনা ঘটায় ফিফা পরে বৈষম্যমূলক আচরণ মোকাবিলায় তিন ধাপের একটি প্রোটোকল চালু করে। সেই নিয়ম অনুযায়ী, প্রথমে রেফারি খেলা সাময়িকভাবে বন্ধ করতে পারেন, প্রয়োজনে ম্যাচ স্থগিত এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না এলে ম্যাচ পরিত্যক্তও ঘোষণা করা যেতে পারে।
মেক্সিকান ফুটবল ফেডারেশনও সমর্থকদের এই স্লোগান ব্যবহার না করার আহ্বান জানিয়ে একাধিক সচেতনতামূলক প্রচার চালিয়েছে। জাতীয় দলের ফুটবলারদের দিয়েও ভিডিও বার্তা প্রচার করা হয়েছে। কিছু সময়ের জন্য ইতিবাচক ফল মিললেও বড় টুর্নামেন্টে সমস্যাটি বারবার ফিরে এসেছে।
মাঠের খেলায় মেক্সিকো ছিল দুর্দান্ত। ৩-০ ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে দলটি টুর্নামেন্টে নিজেদের শক্ত অবস্থান আরও দৃঢ় করেছে। অনেকের কাছেই তারা এবার বিশ্বকাপের অন্যতম সম্ভাবনাময় দল হিসেবে উঠে আসছে।
কিন্তু সমর্থকদের স্লোগান আবারও ফুটবল থেকে আলোচনার কেন্দ্র সরিয়ে নিয়ে গেছে দর্শকদের আচরণের দিকে।








