ম্যাচ শেষে অশালীন ভাষা ব্যবহারের গুরুতর অভিযোগ বেলিংহ্যামের বিরুদ্ধে
ইংল্যান্ড ও ঘানার মধ্যে ০-০ গোলের ড্র ম্যাচে রিয়াল মাদ্রিদের মিডফিল্ডার জুড বেলিংহ্যামের বিরুদ্ধে অশালীন ভাষা ব্যবহারের অভিযোগ তুলেছেন ঘানার প্রধান কোচ কার্লোস কুইরোজ।

এক্সট্রাটাইম ওয়েব ডেস্ক: ইংল্যান্ড ও ঘানার মধ্যে গোলশূন্য ড্রয়ের ম্যাচে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় ঘিরে নতুন বিতর্ক
ইংল্যান্ড ও ঘানার মধ্যে ০-০ গোলের ড্র ম্যাচে রিয়াল মাদ্রিদের মিডফিল্ডার জুড বেলিংহ্যামের বিরুদ্ধে অশালীন ভাষা ব্যবহারের অভিযোগ তুলেছেন ঘানার প্রধান কোচ কার্লোস কুইরোজ।
বোস্টন স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচটির প্রথমার্ধে ঘানার ডিফেন্ডার জেরোম ওপোকুকে ধাক্কা দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা শুরু হয়। ওই ঘটনার পর ঘানার খেলোয়াড়রা বেলিংহ্যামের বিরুদ্ধে হলুদ কার্ডের দাবি জানায়। প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার পর ড্রেসিংরুমে ফেরার পথে বেলিংহ্যাম ও ঘানার খেলোয়াড়দের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় দেখা যায়।
ম্যাচ চলাকালীন বেলিংহ্যামকে মুখ ঢেকে কথা বলতে দেখা যায়, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা তৈরি করেছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন তথাকথিত “ভিনিসিয়ুস আইন”-এর প্রয়োগ নিয়ে, কারণ কয়েকদিন আগে একই ধরনের আচরণের জন্য প্যারাগুয়ের ফুটবলার মিগেল আলমিরনকে লাল কার্ড দেখানো হয়েছিল।
এ নিয়ে প্যারাগুয়ে ফুটবল কর্তৃপক্ষ ফিফার কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জানানোর বিষয়টিও বিবেচনা করছে বলে জানা গেছে। সমালোচকদের দাবি, একই ধরনের ঘটনায় ভিন্ন সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে তা ঠিক হবে না।
ম্যাচ শেষে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে কার্লোস কুইরোজ বলেন,
“বেলিংহ্যাম খারাপভাবে প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছিলেন এবং গালিগালাজ করেছিলেন।”
৭৩ বছর বয়সী এই পর্তুগিজ কোচ জানান, তাঁর উদ্দেশ্য ছিল পরিস্থিতি শান্ত করা।
“আমি শুধু তাকে শান্ত হতে বলেছিলাম। তিনি আমার খেলোয়াড়ের দিকে পা উঁচিয়ে গিয়েছিলেন। আমার প্রধান চিন্তা ছিল উত্তেজনা কমানো, কারণ আমি আশঙ্কা করছিলাম খেলোয়াড়টি পুরোপুরি ফিট ছিল না।”
তিনি আরও বলেন,
“তীব্র আবেগের মুহূর্তে এসব ঘটনা ফুটবলে অস্বাভাবিক নয়। জুড বেলিংহ্যাম যে বাক্য ব্যবহার করেছিলেন, তা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তোলে। পরে অবশ্য সবাই শান্ত হয়ে যায়। ফুটবল কোনও বলরুম নাচ নয়, এটি প্রতিযোগিতার খেলা।”
অন্যদিকে বেলিংহ্যাম পুরো ঘটনাকে প্রতিযোগিতামূলক আবেগের ফল বলে উল্লেখ করেছেন।
তিনি বলেন,
“সত্যি বলতে, আমি একটি বোকামিপূর্ণ ট্যাকল করেছিলাম। বল ফিরে পাওয়ার চেষ্টা করতে গিয়ে একটু বেশি এগিয়ে গিয়েছিলাম এবং প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়কে আঘাত করি। পরে আমি তার সঙ্গে কথা বলি, কিন্তু তখন তাদের বেঞ্চ থেকে হলুদ কার্ড দেখানোর দাবি ওঠে।”
ঘানার কোচ সম্পর্কে বেলিংহ্যাম বলেন,
“আমি কোচকে চিনতে পেরেছিলাম। তিনি ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সঙ্গে কাজ করেছেন, তাই তার প্রতি আমার অনেক শ্রদ্ধা রয়েছে। শেষ পর্যন্ত এটি দুই দলের প্রতিযোগিতামূলক মানসিকতারই বহিঃপ্রকাশ ছিল।”
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইল ঠোঁট-পাঠ বিশেষজ্ঞ নিকোলা হিকলিংয়ের সহায়তায় ঘটনাটির ভিডিও বিশ্লেষণ করেছে। তাঁর দাবি, ঘানার কোচিং স্টাফের সদস্য জন পেইন্টসিলকে বেলিংহ্যামের উদ্দেশে অশালীন মন্তব্য করতে দেখা গেছে।
এই ঘটনাকে ঘিরে ফুটবল বিশ্বে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে। ফিফা বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করবে কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।








