জন্মদিনে গোডাউনে ‘কলকাতার মেসি’, অবহেলায় কাটালেন ৭০ ফুটের ফুটবলের ম্যাজিশিয়ান
বিশ্ব ফুটবলের উজ্জ্বলতম নক্ষত্র বুধবার ৩৯ বছরে পা দিলেন। বিশ্বকাপের মঞ্চে আলো ছড়াচ্ছেন আজও, তাঁর জাদুতে মুগ্ধ ফুটবলবিশ্ব। অথচ তাঁর জন্মদিনেই কলকাতার ৭০ ফুটের ‘মেসি’ পড়ে রইলেন অবহেলার গোডাউনে, বালির বস্তার উপর, কালো ত্রিপলে ঢাকা অবস্থায়।

এক্সট্রা টাইম বাংলা ওয়েব ডেস্ক:বিশ্ব ফুটবলের উজ্জ্বলতম নক্ষত্র বুধবার ৩৯ বছরে পা দিলেন। বিশ্বকাপের মঞ্চে আলো ছড়াচ্ছেন আজও, তাঁর জাদুতে মুগ্ধ ফুটবলবিশ্ব। অথচ তাঁর জন্মদিনেই কলকাতার ৭০ ফুটের ‘মেসি’ পড়ে রইলেন অবহেলার গোডাউনে, বালির বস্তার উপর, কালো ত্রিপলে ঢাকা অবস্থায়।
গত বছরের ১৩ ডিসেম্বর কলকাতায় এসেছিলেন মেসি। সেই সফর ঘিরে যুবভারতীর ঘটনা নিয়ে বিতর্ক সর্বজন বিদিত। হোটেলে বসে, নিজের ৭০ ফুটের মূর্তি উদ্বোধন করেছিলেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা। সেই মূর্তি নিয়ে শুরু থেকেই প্রশ্ন ছিল। চেহারায় আদৌ কতটা মেসির ছাপ রয়েছে, তা নিয়ে বিতর্কও কম হয়নি। তবে বিতর্কের বাইরে গিয়ে, বিশাল আকৃতির ওই মূর্তি দ্রুতই শহরের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছিল।
কিন্তু এক পেরোনোর আগেই বদলে গেল ছবিটা। প্রবল হাওয়ায় মূর্তিটি বিপজ্জনকভাবে দুলতে দেখা গিয়েছিল। নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। তৎকালীন দমকলমন্ত্রী সুজিত বসুর উদ্যোগে স্থাপিত ওই মূর্তি এখন আর লেক টাউনে নেই। রাজনৈতিক পালাবদলের পর রাতারাতি সেটি সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। সংক্রান্তি ঘটেছে মেসি মূর্তির।
এক্সট্রা টাইমের প্রতিনিধি খোঁজ নিয়ে পৌঁছয় বাগুইআটির একটি পিডব্লিউডি গোডাউনে। সেখানেই দেখা যায়, ৭০ ফুটের সেই মূর্তিটি বালির বস্তার উপর শুইয়ে রাখা হয়েছে। কালো ত্রিপলে মোড়া অবস্থায় পড়ে রয়েছে মূর্তিটি। জন্মদিনে এমন দৃশ্য স্বাভাবিকভাবেই ফুটবলপ্রেমীদের একাংশকে হতাশ করেছে।
সূত্রের খবর, বর্ষা কাটলে ইকো পার্কের কোনও উপযুক্ত জায়গায় মূর্তিটি পুনঃস্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। যদিও সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হবে কি না, তা নিয়ে এখনও স্পষ্ট কোনও ঘোষণা নেই।
প্রশ্ন উঠছে, বিশ্ববন্দিত এক ফুটবলারের মূর্তি স্থাপন করার আগে তার দীর্ঘমেয়াদি রক্ষণাবেক্ষণ ও স্থায়ী মর্যাদার পরিকল্পনা কি যথেষ্ট ছিল? যদি সেই সম্মান ধরে রাখা না যায়, তবে এত বড় আয়োজন করে মূর্তি বসানোর প্রয়োজনই বা কী ছিল?
মেসির জন্মদিনে কলকাতার এই মূর্তির বর্তমান অবস্থাই তাই তুলে ধরছে এক মর্মান্তিক ছবি—শহরের ফুটবল আবেগ, রাজনৈতিক পালাবদল এবং পরিকল্পনার অভাবের এক অস্বস্তিকর প্রতীক হিসেবে। সত্যি ফুটবলের শহর তার প্রিয়তমকে লজ্জা ছাড়া আর কিছুই দিতে পারল না।








