অগ্নিগর্ভ উরুগুয়ে শিবির, কোচ মার্সেলো বিয়েলসার বিরুদ্ধে ফুটবলারদের বিদ্রোহ
রীতিমত অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি উরুগুয়ে শিবিরে। বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নেওয়ার পর পরিস্থিতি আরও বেশি জটিল হওয়ার সম্ভাবনা। স্পেনের বিপক্ষে বিশ্বকাপের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের ঠিক আগে উরুগুয়ে শিবিরে বড় ধরনের অস্থিরতার খবর সামনে এসেছে।

এক্সট্রাটাইম ওয়েব ডেস্ক: রীতিমত অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি উরুগুয়ে শিবিরে। বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নেওয়ার পর পরিস্থিতি আরও বেশি জটিল হওয়ার সম্ভাবনা। স্পেনের বিপক্ষে বিশ্বকাপের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের ঠিক আগে উরুগুয়ে শিবিরে বড় ধরনের অস্থিরতার খবর সামনে এসেছে। বিভিন্ন উরুগুইয়ান গণমাধ্যমের দাবি, জাতীয় দলের অধিকাংশ খেলোয়াড় প্রধান কোচ মার্সেলো বিয়েলসার প্রশিক্ষণ পদ্ধতি ও কৌশল নিয়ে প্রকাশ্যে অসন্তোষ জানিয়েছেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, দলের কয়েকজন সিনিয়র ও প্রভাবশালী ফুটবলার কোচ বিয়েলসার সঙ্গে সরাসরি বৈঠক করেন। সেই বৈঠকে তাঁরা কোচকে স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, তাঁর অনুশীলনের ধরন এবং স্পেনের বিপক্ষে নির্ধারিত কৌশলের সঙ্গে তাঁরা একমত নন। এই ম্যাচটি উরুগুয়ের বিশ্বকাপে টিকে থাকার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় বিষয়টি আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
উরুগুইয়ান সংবাদমাধ্যমের দাবি, এই উদ্যোগের নেতৃত্বে ছিলেন দলের দুই গুরুত্বপূর্ণ তারকা ফেদেরিকো ভালভার্দে এবং রদ্রিগো বেন্তানকুর। তাঁদের সঙ্গে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন গোলরক্ষক সার্জিও রোশেত এবং মিডফিল্ডার মানুয়েল উগার্তেও।
খেলোয়াড়রা বিয়েলসাকে জানান, প্রতিদিনের অতিরিক্ত শারীরিক পরিশ্রম ও উচ্চমাত্রার অনুশীলন দলের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। তাঁদের মতে, এই অতিরিক্ত চাপের কারণেই ম্যাচে কাঙ্ক্ষিত পারফরম্যান্স আসছে না এবং এতে চোট পাওয়ার ঝুঁকিও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাচ্ছে।
বৈঠকে সবচেয়ে বড় বিতর্কের বিষয় ছিল স্পেনের বিপক্ষে ম্যাচ পরিকল্পনা। বিয়েলসা মনে করেন, স্পেনকে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলেই চাপে ফেলতে হবে।
তবে খেলোয়াড়দের মত ভিন্ন। তাঁদের বিশ্বাস, অতিরিক্ত আক্রমণাত্মক কৌশল নিলে রক্ষণভাগে বড় ফাঁক তৈরি হবে, যা স্পেনের মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে মারাত্মক ক্ষতির কারণ হতে পারে। তাই তাঁরা আরও ভারসাম্যপূর্ণ ও সতর্ক কৌশল নেওয়ার পরামর্শ দেন।
খেলোয়াড়দের এই অবস্থান কোচিং স্টাফ ভালোভাবে নেননি বলেই জানা গেছে। বিয়েলসা নিজের দর্শন ও কৌশলের ব্যাপারে বরাবরই অনড়, ফলে ড্রেসিংরুমের এই মতবিরোধ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
মার্সেলো বিয়েলসার কোচিং পদ্ধতি নিয়ে বিতর্ক এই প্রথম নয়। উরুগুয়ের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই স্থানীয় ফুটবলের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব তাঁর বিরুদ্ধে সমালোচনামুখর ছিলেন।
সাবেক গোলকিপিং কোচ কার্লোস নিকোলা, যিনি মতবিরোধের কারণে জাতীয় দল ছেড়েছিলেন, বলেছিলেন, "বিয়েলসার আচরণ অনেক সময় অপমানজনক, এমনকি কখনও কখনও সহিংস বলেও মনে হয়।"
অন্যদিকে উরুগুয়ের সাবেক স্ট্রাইকার সেবাস্তিয়ান আব্রেউ মন্তব্য করেছিলেন, "বিয়েলসার যোগ্যতা নিয়ে কোনও প্রশ্ন নেই। কিন্তু একটি দেশের সংস্কৃতি ও বাস্তবতা বিবেচনা না করে নিজের দর্শন চাপিয়ে দেওয়া ঠিক নয়।"
এর আগে লুইস সুয়ারেজের সঙ্গে প্রকাশ্য মতবিরোধ এবং নাহিতান নান্দেসকে বিশ্বকাপ দলে না রাখার সিদ্ধান্তও দলের ভেতরে অসন্তোষ সৃষ্টি করেছিল।
এ প্রসঙ্গে ডিফেন্ডার হোসে মারিয়া হিমেনেস বলেছিলেন, "আমি সত্যিই বিস্মিত হয়েছিলাম। পরিসংখ্যান অনুযায়ী নান্দেস ছিল দলের সবচেয়ে বেশি সময় মাঠে থাকা খেলোয়াড়দের একজন। সে যখনই ফিট ছিল, তাকে সবসময় দলে ডাকা হয়েছে।"
বিশ্বকাপে টিকে থাকার লড়াইয়ের আগে উরুগুয়ে শিবিরে এমন ড্রেসিংরুম সংকট দলটির প্রস্তুতিকে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছিল। এখন বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেওয়ার পর এ নিয়ে আরও উত্তাল হওয়ার সম্ভাবনা।








