ফ্রান্সের জার্সিতে সবুজ আভা কেন? স্ট্যাচু অব লিবার্টি ও রেকর্ড গড়া জার্সির পিছনের গল্প
ফুটবলের দুনিয়ায় ফ্রান্স মানেই নীল জার্সি—'লে ব্লু' (Les Bleus)। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে ফরাসি জাতীয় দলকে দেখা যাচ্ছে একেবারে ভিন্ন রঙে, সবুজ জার্সিতে। এই নতুন জার্সি শুধু নজরই কাড়েনি, বরং বিক্রির দিক থেকেও ভেঙেছে একাধিক রেকর্ড। কিন্তু কেন এই সবুজ রঙ? এর পেছনে রয়েছে ইতিহাস, সংস্কৃতি এবং ফ্রান্স-যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বের এক অনন্য গল্প।

এক্সট্রাটাইম ওয়েব ডেস্ক: ফুটবলের দুনিয়ায় ফ্রান্স মানেই নীল জার্সি—'লে ব্লু' (Les Bleus)। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে ফরাসি জাতীয় দলকে দেখা যাচ্ছে একেবারে ভিন্ন রঙে, সবুজ জার্সিতে। এই নতুন জার্সি শুধু নজরই কাড়েনি, বরং বিক্রির দিক থেকেও ভেঙেছে একাধিক রেকর্ড। কিন্তু কেন এই সবুজ রঙ? এর পেছনে রয়েছে ইতিহাস, সংস্কৃতি এবং ফ্রান্স-যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বের এক অনন্য গল্প।
ফ্রান্সের নতুন অ্যাওয়ে জার্সির সবুজ রঙ নেওয়া হয়েছে নিউইয়র্কের বিশ্ববিখ্যাত স্ট্যাচু অব লিবার্টি থেকে। অনেকেই জানেন না, স্বাধীনতার এই প্রতীকটি প্রথমে সবুজ ছিল না। এটি মূলত তামার তৈরি ছিল এবং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অক্সিডেশন, আর্দ্রতা ও পরিবেশগত প্রভাবে এর গায়ে সবুজ আভা তৈরি হয়।
এই ঐতিহাসিক রঙকেই জার্সির মাধ্যমে তুলে ধরেছে ফ্রান্স, যা দুই দেশের বন্ধুত্বের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
১৮৭৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার শতবর্ষ উদযাপন উপলক্ষে ফ্রান্স আমেরিকাকে স্ট্যাচু অব লিবার্টি উপহার দেয়। এর উদ্দেশ্য ছিল দুই দেশের মধ্যে বন্ধুত্ব ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে আরও দৃঢ় করা।
সেই ঐতিহাসিক সম্পর্ককেই স্মরণীয় করে রাখতে ফরাসি ফুটবল ফেডারেশন ও কিট প্রস্তুতকারী নাইকি এই বিশেষ সবুজ জার্সি তৈরি করেছে।
সবুজ জার্সিটি প্রথম মাঠে দেখা যায় গত মার্চে যুক্তরাষ্ট্রে ব্রাজিলের বিপক্ষে একটি প্রীতি ম্যাচে। নাইকি দুই দলকেই স্পনসর করায় সেই সফর বাণিজ্যিকভাবেও ছিল অত্যন্ত সফল।
পরবর্তীতে বিশ্বকাপে তৃতীয় ম্যাচে প্রথমবার এই জার্সি পরে মাঠে নামে ফ্রান্স। এরপর থেকেই এর জনপ্রিয়তা আকাশছোঁয়া। ফরাসি বিভিন্ন গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, এই জার্সি বিক্রিতে রেকর্ড গড়েছে এবং ঐতিহ্যবাহী নীল জার্সিকেও বিক্রির দিক থেকে ছাড়িয়ে গেছে।
এমনকি দ্বিতীয় হাতের বাজারেও এই জার্সির দাম ২০০ ইউরোর বেশি পৌঁছে গেছে।
ফ্রান্সের ঐতিহ্যগত জার্সির রঙ নীল, আর বিকল্প জার্সি সাধারণত সাদা বা লাল হয়ে থাকে। তবে ইতিহাসে একবার বাধ্য হয়ে সবুজ জার্সি পরে খেলতে হয়েছিল ফরাসি দলকে।
১৯৭৮ সালের আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপে এক প্রশাসনিক ভুলের কারণে ফ্রান্সের নির্ধারিত জার্সি ব্যবহার করা সম্ভব হয়নি। ফলে আয়োজকদের তড়িঘড়ি করে মার দেল প্লাতার একটি অপেশাদার ক্লাবের সবুজ জার্সি সংগ্রহ করতে হয় এবং সেটি পরেই মাঠে নামে 'লে ব্লু'।
তবে সেই ঘটনা ছিল সম্পূর্ণ অনাকাঙ্ক্ষিত। এবারের সবুজ জার্সি কিন্তু পরিকল্পিতভাবে তৈরি করা হয়েছে এবং এর প্রতিটি নকশার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে ইতিহাস ও বন্ধুত্বের এক অনন্য বার্তা।
ফ্রান্সের এই সবুজ জার্সি শুধুমাত্র একটি বিকল্প কিট নয়। এটি দুই দেশের ঐতিহাসিক সম্পর্ক, স্বাধীনতার প্রতীক এবং আধুনিক ফুটবল সংস্কৃতির এক অসাধারণ উদাহরণ। ইতিহাসের ছোঁয়া, আকর্ষণীয় ডিজাইন এবং সীমিত সংস্করণের কারণে এটি ইতোমধ্যেই ফুটবলপ্রেমীদের কাছে সংগ্রহযোগ্য একটি বিশেষ জার্সিতে পরিণত হয়েছে।








