ভারত বনাম জাপান: স্কোরবোর্ডের চেয়েও বড় লক্ষ্য নিয়ে একটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সূচিতে ভারত বনাম জাপান ম্যাচটি হয়তো কিছুটা অচেনা বা অস্বাভাবিক বলেই মনে হতে পারে। কিন্তু স্কোরবোর্ডের ফলাফলের বাইরেও এই ম্যাচের গুরুত্ব অনেকটাই বেশি।

এক্সট্রাটাইম ওয়েব ডেস্ক: আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সূচিতে ভারত বনাম জাপান ম্যাচটি হয়তো কিছুটা অচেনা বা অস্বাভাবিক বলেই মনে হতে পারে। কিন্তু স্কোরবোর্ডের ফলাফলের বাইরেও এই ম্যাচের গুরুত্ব অনেকটাই বেশি।
আগামী ২২ সেপ্টেম্বর জাপানের তোচিগি প্রিফেকচারের সানো ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট গ্রাউন্ডে বিশেষ টি-টোয়েন্টি ম্যাচে মুখোমুখি হবে ভারত ও জাপান। দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ৭৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত বিভিন্ন অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবেই এই ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে। এই উদ্যোগে সমর্থন জানিয়েছে ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ড (BCCI)। ভারতের ক্রিকেটকে জাপানে নিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে ক্রীড়াক্ষেত্রে সম্পর্ক আরও মজবুত করার গুরুত্ব তুলে ধরেছেন BCCI-এর সাম্মানিক সচিব দেবজিৎ সইকিয়াও।
তবে জাপানের কাছে এই ম্যাচের গুরুত্ব আরও অনেক বেশি। ভারতের মতো বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী ক্রিকেট দলের বিরুদ্ধে খেলার সুযোগ জাপানের ক্রিকেটকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজেদের তুলে ধরার বড় সুযোগ করে দিচ্ছে। জাপানে ক্রিকেট এখনও জনপ্রিয়তার দিক থেকে ফুটবল, বেসবল বা অন্যান্য খেলার পিছনে থাকলেও, সেখানে জাতীয় দল রয়েছে এবং নিয়মিত আন্তর্জাতিক ক্রিকেটও খেলছে। ভারতের মতো একটি বড় ক্রিকেট শক্তিকে দেশে এনে ম্যাচ আয়োজন করলে জাপানে ক্রিকেট নিয়ে আগ্রহ, দর্শকসংখ্যা এবং পরিকাঠামোগত উন্নয়ন আরও বাড়তে পারে।
ভারতের জন্যও ম্যাচটির আলাদা গুরুত্ব রয়েছে। জাপানে অনুষ্ঠিত হতে চলা এশিয়ান গেমসের ঠিক আগে এই ম্যাচ। ফলে জাপানের পরিবেশ ও পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার জন্য ভারতীয় দলের কাছে এটি বাড়তি একটি প্রস্তুতির সুযোগ হিসেবেও কাজ করবে।
এই ম্যাচের মাধ্যমে BCCI-এর আরও একটি দিক স্পষ্ট হচ্ছে—ভারতীয় ক্রিকেটের আন্তর্জাতিক সূচিকে কাজে লাগিয়ে ক্রিকেটকে তার চেনা গণ্ডির বাইরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা। জাপানে ভারতীয় দল খেললে নতুন দর্শকদের সামনে ক্রিকেট পৌঁছবে। একই সঙ্গে জাপানের ক্রিকেটার ও প্রশাসকরাও বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী ক্রিকেট দেশের সঙ্গে সরাসরি কাজ করার এবং অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ পাবেন।
অর্থাৎ, ভারত-জাপান ম্যাচটি শুধুমাত্র একটি ক্রিকেট ম্যাচ নয়। দুই দেশের দুই ভিন্ন ক্রীড়া সংস্কৃতির মধ্যে সেতুবন্ধনেরও একটি মাধ্যম।
জাপানের ক্রিকেটের ইতিহাসে ভারতের বিরুদ্ধে এই ম্যাচ হয়ে উঠতে পারে একটি স্মরণীয় অধ্যায়। আর ভারতের কাছে এটি হবে পরিচিত ক্রিকেটীয় পরিবেশের বাইরে গিয়ে নতুন দর্শকের কাছে ক্রিকেটকে পৌঁছে দেওয়ার সুযোগ।
সবকিছু ঠিকঠাকভাবে এগোলে ২২ সেপ্টেম্বরের এই ম্যাচটি শুধু ভারত ও জাপানের প্রথম টি-টোয়েন্টি হিসেবে নয়, ক্রিকেটকে আরও বিশ্বমুখী করার পথে একটি ছোট কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবেও স্মরণীয় হয়ে থাকতে পারে।








