দাবার বোর্ড থেকে দূরে, কিন্তু জয়ের ক্ষুধা এখনও অটুট আনন্দের
বিশ্ব দাবার শীর্ষে দীর্ঘ সময় রাজত্ব করেছেন বিশ্বনাথন আনন্দ। কিন্তু দাবার বোর্ড থেকে কিছুটা দূরে সরে গেলেও প্রতিযোগিতার প্রতি তাঁর টান কিংবা জেতার ক্ষুধা একটুও কমেনি।

দাবার বোর্ড থেকে দূরে, কিন্তু জয়ের ক্ষুধা এখনও অটুট আনন্দের
এক্সট্রাটাইম ওয়েব ডেস্ক: বিশ্ব দাবার শীর্ষে দীর্ঘ সময় রাজত্ব করেছেন বিশ্বনাথন আনন্দ। কিন্তু দাবার বোর্ড থেকে কিছুটা দূরে সরে গেলেও প্রতিযোগিতার প্রতি তাঁর টান কিংবা জেতার ক্ষুধা একটুও কমেনি।
এক সাক্ষাৎকারে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন বিশ্বনাথন আনন্দকে প্রশ্ন করা হয়, দাবা প্রশাসনে তাঁর বাড়তে থাকা দায়িত্ব কি তাঁর প্রতিযোগিতামূলক মানসিকতায় কোনও প্রভাব ফেলেছে? উত্তরে তাঁর কথায় স্পষ্ট হয়েছে, কেরিয়ারের এই নতুন পর্যায়েও জয়ের আকাঙ্ক্ষা তাঁর মধ্যে একই রকম রয়েছে। নেতৃত্বের দায়িত্বের পাশাপাশি প্রতিযোগিতার সেই পুরনো তাগিদও এখনও তাঁর পরিচয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
আর আনন্দের এই মানসিকতা এমন এক সময়ে সামনে এসেছে, যখন ভারতীয় দাবায় প্রজন্ম বদলের প্রক্রিয়া আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
আর প্রজ্ঞানানন্দের ঐতিহাসিক গ্র্যান্ড চেস ট্যুর জয় সেই পরিবর্তনেরই অন্যতম বড় উদাহরণ। ফাইনালে ফাবিয়ানো কারুয়ানাকে ১৫-১৩ ব্যবধানে হারিয়ে ২১ বছর বয়সী প্রজ্ঞানানন্দ প্রথম ভারতীয় হিসেবে গ্র্যান্ড চেস ট্যুরের শিরোপা জিতেছেন।
প্রজ্ঞানানন্দের এই সাফল্যকে শুধু আরও একটি ভারতীয় দাবা সাফল্য হিসেবে দেখছেন না আনন্দ। তাঁর মতে, বর্তমানে যে ফর্মে রয়েছেন প্রজ্ঞানানন্দ, তাতে তিনি বিশ্বের সেরা খেলোয়াড়।
প্রজ্ঞানানন্দের উত্থানের পথ অবশ্য সবসময় মসৃণ ছিল না। কঠিন একটি সময়ের পর তাঁর সাম্প্রতিক সাফল্যকে তাই আরও তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। গ্র্যান্ড চেস ট্যুরের শিরোপা জয় আরও একবার প্রমাণ করেছে, ভারতের নতুন প্রজন্ম এখন বিশ্ব দাবার প্রতিষ্ঠিত শক্তিগুলিকে চ্যালেঞ্জ জানানোর জন্য প্রস্তুত।
অন্যদিকে, আনন্দের মন্তব্য এই গল্পে যোগ করেছে অন্য একটি মাত্রা। দাবার প্রশাসনে তাঁর ভূমিকা বাড়লেও জেতার আকাঙ্ক্ষা এখনও তাঁর মধ্যে প্রবল। অর্থাৎ দাবার বোর্ডের বাইরে তাঁর দায়িত্ব যতই বাড়ুক, প্রতিযোগিতার সেই আগুন এখনও নিভে যায়নি।
একদিকে আনন্দ ভারতীয় দাবাকে বোর্ডের বাইরে থেকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। অন্যদিকে প্রজ্ঞানানন্দের মতো তরুণরা দাবার বোর্ডে ভারতের ভবিষ্যৎকে নতুন করে সংজ্ঞায়িত করছেন।
তাই এই প্রজন্ম বদল শুধুমাত্র বিশ্বনাথন আনন্দের উত্তরসূরি খোঁজার গল্প নয়। বরং ভারতীয় দাবার নতুন প্রজন্ম নিজেদের মতো করে একটি নতুন যুগ তৈরি করার পথে এগিয়ে চলেছে।
