উজবেকিস্তানের বিরুদ্ধে নিজেদের সেরাটা দেবে ভারতীয় অনূর্ধ্ব - ২০ দল, জানালেন কোচ
সোমবার সিরিয়ার বিরুদ্ধে ১-০ গোলে জয় দিয়ে নিজেদের অভিযান শুরু করেছে ভারত। ম্যাচের ৮৬ মিনিটে শামি সিঙ্গামায়ুমের করা গোলেই আসে অতি কাঙ্ক্ষিত জয়।

এক্সট্রাটাইম, ওয়েবডেস্ক: এএফসি অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপ চীন ২০২৭-এর যোগ্যতা অর্জন পর্বে জয়ের সঙ্গে অভিযান শুরু করার পর এবার সেই ছন্দ ধরে রাখার লক্ষ্য ভারতীয় অনূর্ধ্ব-২০ দলের। বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর, তাসখন্দের দোস্তলিক স্টেডিয়ামে গ্রুপ বি-র গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে আয়োজক উজবেকিস্তানের মুখোমুখি হবে ব্লু কোল্টস। ম্যাচটি শুরু হবে ভারতীয় সময় সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিটে।
সোমবার সিরিয়ার বিরুদ্ধে ১-০ গোলে জয় দিয়ে নিজেদের অভিযান শুরু করেছে ভারত। ম্যাচের ৮৬ মিনিটে শামি সিঙ্গামায়ুমের করা গোলেই আসে অতি কাঙ্ক্ষিত জয়।
অন্যদিকে, উজবেকিস্তানও বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ২-০ গোলের জয় দিয়ে অভিযান শুরু করেছে। প্রথম ম্যাচে দাপুটে পারফরম্যান্স করে তিন পয়েন্ট তুলে নিয়ে বর্তমানে গ্রুপ বি-র শীর্ষে রয়েছে আয়োজকরা। গোলপার্থক্যে পিছিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ভারত।
এএফসি অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপে জায়গা করে নেবে আটটি গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন এবং সেরা সাত রানার্স-আপ দল। ফলে প্রতিটি পয়েন্টই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গ্রুপ এ-তে মাত্র তিনটি দল থাকায় প্রতিটি গ্রুপের শেষ স্থানে থাকা দলের বিরুদ্ধে পাওয়া ফল রানার্স-আপদের তুলনায় বিবেচনা করা হবে না। ফলে শীর্ষ তিন দলের মধ্যকার ম্যাচগুলির গুরুত্ব আরও বেড়ে গিয়েছে।
বৃহস্পতিবারই ভারত নিজেদের কোয়ালিফিকেশন নিশ্চিত করতে পারে। উজবেকিস্তানকে হারানোর পাশাপাশি গ্রুপ বি-র প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশ যদি সিরিয়াকে হারাতে না পারে, তাহলে ভারত গ্রুপের শীর্ষস্থান নিশ্চিত করে সরাসরি এএফসি অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপ চীন ২০২৭-এর টিকিট পেয়ে যাবে।
তবে এত দূরের হিসাব-নিকাশে এখনই যেতে চাইছেন না ভারতের প্রধান কোচ মহেশ গাওয়ালি। তাঁর নজর শুধুই পরের ম্যাচে।
তিনি ফেডারেশন এর মিডিয়া টিম কে বলেন, “প্রথম ম্যাচটি গুরুত্বপূর্ণ ছিল এবং জয় দিয়ে শুরু করতে পেরে ভালো লাগছে। প্রথমার্ধটা কঠিন ছিল, তবে আমরা ভালোভাবে রক্ষণ সামলেছি। কিছু সুযোগ পেয়েছিলাম এবং সেগুলিকে কাজে লাগিয়ে গোল করে ম্যাচ জিতেছি। সামনে আরও একটি কঠিন ম্যাচ রয়েছে। তাই আমাদের মনোযোগ ধরে রাখতে হবে এবং ভালো ছন্দটা বজায় রাখতে হবে।”
বুধবার সন্ধ্যায় ম্যাচের আগে চূড়ান্ত প্রস্তুতি সাড়ে অনূর্ধ্ব-২০ র দল। বৃহস্পতিবারের ম্যাচের সময়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে অনুশীলনের সময়ও রাখা হয়েছিল, যাতে তাসখন্দের সন্ধ্যার পরিবেশের সঙ্গে খেলোয়াড়রা আরও ভালোভাবে মানিয়ে নিতে পারেন।
উজবেকিস্তানের বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ যে একেবারেই আলাদা হবে, তা ভালোভাবেই জানেন কোচ মহেশ গাওয়ালি। প্রথম ম্যাচে নজরকাড়া পারফরম্যান্স করেছে আয়োজক দল।
কোচ বলেন, “উজবেকিস্তান খুব ভালো দল। ওরা খুব দ্রুত এবং বুদ্ধিদীপ্ত ফুটবল খেলে। আক্রমণ ও রক্ষণ, দুই ক্ষেত্রেই তাদের ট্রানজিশন খুবই দ্রুত। দলে অনেক মানসম্পন্ন খেলোয়াড় রয়েছে। হ্যাঁ, আমাদের জন্য ম্যাচটি কঠিন হবে। তবে আমাদের নিজেদের গেমপ্ল্যানে মনোযোগ দিতে হবে। সংগঠিত থাকতে হবে, পরিকল্পনা অনুযায়ী খেলতে হবে এবং নিজেদের সেরাটা দিতে হবে।”
তবে সিরিয়ার বিরুদ্ধে পারফরম্যান্স থেকে আত্মবিশ্বাস নিতে পারে ব্লু কোল্টস। ম্যাচের দীর্ঘ সময় বলের দখল নিজেদের কাছে না থাকলেও ভারতীয় দল জমাট ও শৃঙ্খলাবদ্ধভাবে রক্ষণ সামলেছে। গোলরক্ষক সুরজ সিং আহেইবামও বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সেভ করেন। শেষ পর্যন্ত ৮৬ মিনিটে শামির গোলেই ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারিত হয়।
জয়ের পরও উন্নতির অনেক জায়গা রয়েছে বলে মনে করছেন কোচ। তাঁর কথায়, “সবসময়ই উন্নতির জায়গা থাকে। সিরিয়ার বিরুদ্ধে আমরা ভালো রক্ষণ করেছি এবং ভালো মানসিকতার পরিচয় দিয়েছি। প্রতিটি ম্যাচেই আমাদের উন্নতি করতে হবে। মানসিকতাটা একই থাকবে।”
