ভারতীয় ক্রিকেটে বয়স-জালিয়াতি বিতর্ক, প্রশ্নের মুখে গোটা বয়স যাচাই প্রক্রিয়া
ভারতীয় ক্রিকেটে নতুন করে সামনে এসেছে বয়স-জালিয়াতির বিতর্ক। তবে এই ঘটনা শুধু একজন ক্রিকেটারকে ঘিরে নয়, বরং জাতীয় স্তরের ক্রিকেটে কোনও তরুণ ক্রিকেটার উঠে আসার আগে তাঁর বয়স ও পরিচয় সংক্রান্ত নথি কতটা কঠোরভাবে যাচাই করা হয়, তা নিয়েই বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।
ভারতীয় ক্রিকেটে নতুন করে সামনে এসেছে বয়স-জালিয়াতির বিতর্ক। তবে এই ঘটনা শুধু একজন ক্রিকেটারকে ঘিরে নয়, বরং জাতীয় স্তরের ক্রিকেটে কোনও তরুণ ক্রিকেটার উঠে আসার আগে তাঁর বয়স ও পরিচয় সংক্রান্ত নথি কতটা কঠোরভাবে যাচাই করা হয়, তা নিয়েই বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।
বয়স সংক্রান্ত নথিতে অসঙ্গতি ধরা পড়ার পর বাংলার লেগ-স্পিনার রোহিত যাদবকে দুই বছরের জন্য নির্বাসিত করেছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (BCCI)। সবচেয়ে অস্বস্তিকর বিষয় হল, তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগটি সামনে এসেছে এমন সময়ে, যখন তিনি ইতিমধ্যেই ভারতের অনূর্ধ্ব-১৯ দলের হয়ে খেলেছেন এবং অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে আসন্ন সিরিজের জন্যও নির্বাচিত হয়েছিলেন।
রোহিতের নথিতে জন্মসালের ক্ষেত্রে একাধিক তথ্য পাওয়া গিয়েছে বলে অভিযোগ। তাঁর আধার কার্ডের তথ্যেও পরিবর্তনের বিষয়টি সামনে এসেছে। আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, তাঁর নথিপত্র নিয়ে আগেই সন্দেহ প্রকাশ করেছিল ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অফ বেঙ্গল (CAB)। সেই কারণে তাঁকে জুনিয়র দলেও রাখা হয়নি এবং বিষয়টি বিসিসিআইকে জানানো হয়েছিল বলে জানা যাচ্ছে।
এখানেই উঠছে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—রাজ্যস্তরে যখন তাঁর নথি নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছিল এবং বিষয়টি বোর্ডের নজরেও আনা হয়েছিল, তাহলে কীভাবে সেই ক্রিকেটার ভারতের অনূর্ধ্ব-১৯ দলের পথ পেরিয়ে জাতীয় পর্যায়ে পৌঁছে গেলেন?
বিতর্ক আরও বড় আকার নিয়েছে, কারণ বয়স ও নথিপত্রে অসঙ্গতির অভিযোগে CAB মোট ৬২ জন ক্রিকেটারের নাম চিহ্নিত করেছে। সেই তালিকায় রয়েছেন ২০২২ সালের অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপজয়ী ভারতীয় দলের সদস্য রবিকুমারের নামও।
বয়সভিত্তিক ক্রিকেটের মূল উদ্দেশ্যই হল প্রতিভাবান তরুণ ক্রিকেটারদের জন্য একটি সমান সুযোগের ক্ষেত্র তৈরি করা। বয়সের ক্ষেত্রে কোনও ধরনের কারচুপি হলে প্রকৃত বয়সের যোগ্যতা থাকা কোনও ক্রিকেটার তাঁর প্রাপ্য সুযোগ থেকে বঞ্চিত হতে পারেন। ফলে বিষয়টি শুধু নিয়মভঙ্গ নয়, প্রতিযোগিতার ন্যায্যতা নিয়েও বড় প্রশ্ন তৈরি করে।
রোহিত যাদবের ক্ষেত্রে বিসিসিআইয়ের দুই বছরের নির্বাসন অবশ্যই কঠোর শাস্তি। কিন্তু এই ঘটনার সবচেয়ে বড় শিক্ষা হওয়া উচিত শাস্তির পাশাপাশি প্রতিরোধের ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করা।
কোনও ক্রিকেটার জাতীয় পর্যায়ে পৌঁছে যাওয়ার পর বয়স-জালিয়াতি ধরা পড়লে শাস্তি দেওয়া এক বিষয়। কিন্তু প্রশ্ন হল, সন্দেহজনক নথি নিয়ে কোনও ক্রিকেটারকে সেই পর্যায়ে পৌঁছতেই না দেওয়া যাচ্ছে কি না। ভারতীয় ক্রিকেটের বয়স যাচাই ব্যবস্থার আসল পরীক্ষা এখন সেখানেই।








