বয়সভিত্তিক ক্রিকেটে সুযোগ মেলেনি, দু’বার ব্যর্থ U-23 ট্রায়াল—শেষ সুযোগেই বদলে গেল অংশুমান হুডার জীবন
সেই ‘আর এক বছর’ই হয়ে ওঠে অংশুমানের জীবনের টার্নিং পয়েন্ট। দিল্লি প্রিমিয়ার লিগে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে ২২টি উইকেট তুলে নেন তিনি। জিতে নেন টুর্নামেন্টের পার্পল ক্যাপ। একইসঙ্গে সাউথ দিল্লি সুপারস্টার্জের শিরোপা জয়ের অভিযানেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

দিল্লির ক্রিকেটে দ্রুত উঠে আসা পেসারদের মধ্যে এখন অন্যতম নাম ২৫ বছর বয়সি অংশুমান হুডা। কিন্তু তাঁর ক্রিকেটযাত্রা মোটেই প্রচলিত পথে এগোয়নি। জাতীয় স্তরের রোলার স্কেটার থেকে ইঞ্জিনিয়ারিং গ্র্যাজুয়েট, তারপর EY-এর কর্মী—ক্রিকেটের পাশাপাশি জীবনের অন্য পথও তৈরি করে ফেলেছিলেন তিনি। ক্রিকেট ছিল জীবনের অংশ, কিন্তু সেটাই যে শেষ পর্যন্ত তাঁর পেশা হবে, তা নিশ্চিত ছিল না।
অংশুমান কখনও বয়সভিত্তিক ক্রিকেট খেলেননি। U-23 দলের ট্রায়ালেও দু’বার গিয়েছিলেন, কিন্তু কোনওবারই নির্বাচিত হননি। ধীরে ধীরে অনিশ্চয়তা বাড়তে থাকে। ক্রিকেট থেকে ভবিষ্যৎ তৈরি হবে কি না, সেই প্রশ্নের উত্তর না পেয়ে ইঞ্জিনিয়ারিংকেই পেশা হিসেবে বেছে নেওয়ার কথা ভাবতে শুরু করেছিলেন তিনি।
ঠিক সেই সময়ই তাঁর কোচ হরিশ ডাগরের একটি সহজ পরামর্শ বদলে দেয় পুরো পরিস্থিতি। কোচ তাঁকে বলেন, ক্রিকেটকে আর মাত্র এক বছর সময় দিতে।
সেই ‘আর এক বছর’ই হয়ে ওঠে অংশুমানের জীবনের টার্নিং পয়েন্ট। দিল্লি প্রিমিয়ার লিগে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে ২২টি উইকেট তুলে নেন তিনি। জিতে নেন টুর্নামেন্টের পার্পল ক্যাপ। একইসঙ্গে সাউথ দিল্লি সুপারস্টার্জের শিরোপা জয়ের অভিযানেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
সবচেয়ে বড় কথা, প্রচলিত বয়সভিত্তিক ক্রিকেটের পথ দিয়ে না এগিয়েও যে স্বপ্নপূরণের দরজা খোলা থাকতে পারে, সেই বিশ্বাস ফিরে পান অংশুমান।
তাঁর বোলিংয়ের অন্যতম বড় অস্ত্র হয়ে উঠেছে গতি। ঘণ্টায় ১৪০ কিলোমিটারের গণ্ডি পেরিয়েছেন তিনি। তবে এখানেই থামতে চান না। গতি আরও বাড়ানোর পাশাপাশি লাইন-লেন্থ, নিয়ন্ত্রণ এবং বোলিংয়ের শৃঙ্খলাকে কোনওভাবেই বিসর্জন দিতে চান না দিল্লির এই তরুণ পেসার।
তবে অংশুমানের সবচেয়ে বড় পরিবর্তনটি পরিসংখ্যান দিয়ে মাপা যায় না। ২২টি উইকেট কিংবা ১৪০ কিমি/ঘণ্টার গতি নয়—আসল পরিবর্তন এসেছে তাঁর আত্মবিশ্বাসে।
যে ক্রিকেটার একসময় খেলা ছেড়ে ইঞ্জিনিয়ারিং পেশায় চলে যাওয়ার কথা ভাবছিলেন, সেই অংশুমানের চোখ এখন আরও বড় স্বপ্নে। লক্ষ্য ভারতীয় দলের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করা।
অংশুমান হুডার গল্প তাই শুধু একজন ক্রিকেটারের উত্থানের গল্প নয়। এটি মনে করিয়ে দেয়, দেরিতে শুরু করা মানেই স্বপ্নের শেষ নয়। কখনও কখনও প্রয়োজন হয় শুধু আরও একটা বছর, আরও একটা চেষ্টা এবং স্বপ্নের পাশে আর একটু বেশি সময় দাঁড়িয়ে থাকার সাহস।








