মোহনবাগান কোচ নিজেই বলছেন, এই ম্যাচটা ভুলে যেতে চান
মোহনবাগান সোমবার এমন ফুটবল খেলেছে, কোচ প্যানাজিওটিস দিলমপেরিস বা সংক্ষেপে পানোস নিজেই বলছেন এই ম্যাচটাকে তাঁরা ভুলে যেতে চান। কেন এমন ফুটবল হল? কোচের বক্তব্য, “আমার মনে হয়, আজ আমাদের পারফরম্যান্স ভালো ছিল না। বিশেষ করে প্রথমার্ধে আমরা প্রতিপক্ষের বল দখলে রাখার খেলাকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারিনি।

এক্সট্রাটাইম ওয়েব ডেস্ক
মোহনবাগান সোমবার এমন ফুটবল খেলেছে, কোচ প্যানাজিওটিস দিলমপেরিস বা সংক্ষেপে পানোস নিজেই বলছেন এই ম্যাচটাকে তাঁরা ভুলে যেতে চান। কেন এমন ফুটবল হল? কোচের বক্তব্য, “আমার মনে হয়, আজ আমাদের পারফরম্যান্স ভালো ছিল না। বিশেষ করে প্রথমার্ধে আমরা প্রতিপক্ষের বল দখলে রাখার খেলাকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারিনি। মাঠের মাঝখানে ওরা বিশেষভাবে ভালো খেলেছে। অনেক সুযোগ তৈরি করেছে। দলকে সাহায্য করার জন্য আমরা কয়েকটি কৌশল প্রয়োগ করার চেষ্টা করেছি। ফর্মেশনে সামান্য পরিবর্তন করায় কিছুটা সুবিধা হয়েছিল। কিন্তু স্টোয়ানভ ও তালালের দাপট সামলাতে আমাদের সমস্যা হচ্ছিল। ওই ৩০ মিনিটে ওরা অনেক বেশি বল নিজেদের দখলে রেখেছিল। আমার মনে হয়, দ্বিতীয়ার্ধে সাহাল নামার পর খেলায় কিছুটা ভারসাম্য এসেছিল। কিন্তু তারপরও একটা সমস্যা ছিল, যেটা নিয়ে দু'দিন আগেও আমরা আলোচনা করেছি। সেটা হল বিনা চাপে ভুল করা। অর্থাৎ, বল আমাদের পায়ে রয়েছে, অথচ হঠাৎ কোনও কারণ ছাড়াই আমরা বল হারিয়ে ফেলছি। চার-পাঁচজন খেলোয়াড়ের ক্ষেত্রে এমনটা হয়েছে। দিনের শেষে আমার মনে হয়, এই ম্যাচটা যত দ্রুত সম্ভব ভুলে গিয়ে পরের ম্যাচে মনোযোগ দেওয়া উচিত। নর্থইস্টের বিরুদ্ধে যে পয়েন্টগুলো আমাদের প্রাপ্য ছিল, অথচ পাইনি, হয়তো আজ সেই পয়েন্টগুলোই আমরা পেলাম।“
মিগুয়েলের অভাব কি অনুভব করছেন? প্যানাজিওটিস দিলমপেরিস বলেন, “হ্যাঁ, অবশ্যই। ৪-২-৩-১ ফর্মেশনে খেলতে হলে একজন প্রকৃত নম্বর ১০ প্রয়োজন। দুর্ভাগ্যজনকভাবে, মিগুয়েল ভালো ফর্মে ছিল না। তবে আপনারা জানেন, আমি ভারতীয় খেলোয়াড়দের উপর ভরসা রাখি। সাহালের উপর আমার বিশ্বাস রয়েছে। আমি নিশ্চিত ছিলাম, ও মাঠে নেমে খেলার ছবিটা বদলে দিতে পারবে। তবে আমরাও কিছু সুযোগ তৈরি করেছিলাম। বল নিজেদের দখলে থাকার পর বিনা চাপে যে ভুলগুলো করছি, সেগুলো দ্রুত শুধরে নিতে হবে। আমাদের ট্রানজিশনেও সমস্যা রয়েছে। বল জেতার পরই আমরা হঠাৎ পিছনের দিকে পাস খেলছি। বল জেতার পর আরও সরাসরি আক্রমণে যাওয়ার জন্য আমরা অনুশীলন করছি। এবার সেই পদ্ধতির সঙ্গে দ্রুত মানিয়ে নিতে হবে।“
পানোসকে জিজ্ঞাসা করা হয়, আপনি মনে করেন, সমীর জেলকোভিচ ও ড্রাজিচ মোহনবাগানের মত দলের জন্য যথেষ্ট ভাল ফুটবলার? পানোসের ব্যাখ্যা, “সমীরের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সই আমাদের আইএফএ শিল্ড জিততে সাহায্য করেছিল। সেটা ভুলে গেলে চলবে না। ডুরান্ড কাপেও সমীর বেশ কয়েকটি ম্যাচে খেলায় প্রভাব ফেলেছিল। ফাইনাল বাদ দিলে, ও যখনই খেলেছে, ম্যাচের গতিপ্রকৃতি বদলাতে সাহায্য করেছে। দ্রাজিচের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। অনেক সময় ওকে ৯০ মিনিট, কখনও ৮৫ মিনিট খেলাতে হয়েছে। বিশেষ করে যখন দলে পর্যাপ্ত ফুটবলার ছিল না, তখন ওকে বিশ্রাম দেওয়ার সুযোগও পাইনি।“
সব মিলিয়ে হতাশ, চূড়ান্ত হতাশ মোহনবাগান কোচ নিজেও ভাবছেন, কেন এত ছন্নছাড়া ফুটবল খেলল তাঁর দল।








