বিশালের ‘গোল্ডেন হ্যান্ডে’ বেঁচে গেল মোহনবাগান, ছন্নছাড়া ফুটবল খেলেও মনবীরের গোলে হারালো চেন্নাইয়িনকে
বিশালের সোনালি হাত আর কিছুটা ভাগ্য, এই দুটো কারণে এমন ছন্নছাড়া ফুটবল খেলেও যুবভারতী থেকে প্রথম হোম ম্যাচে তিন পয়েন্ট তুলে নিয়ে গেল মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট। যে ম্যাচে জেতার কথা নয়, সেই ম্যাচে মনবীরের করা একমাত্র গোলে হারালো উদ্দীপ্ত চেন্নাইয়িন এফসিকে।

গৌতম রায়
বিশালের সোনালি হাত আর কিছুটা ভাগ্য, এই দুটো কারণে এমন ছন্নছাড়া ফুটবল খেলেও যুবভারতী থেকে প্রথম হোম ম্যাচে তিন পয়েন্ট তুলে নিয়ে গেল মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট। যে ম্যাচে জেতার কথা নয়, সেই ম্যাচে মনবীরের করা একমাত্র গোলে হারালো উদ্দীপ্ত চেন্নাইয়িন এফসিকে। দ্বিতীয়ার্ধে লিস্টনের ক্রস থেকে বাগানে স্বস্তি এনে দিলেন মনবীর। অন্যদিকে অন্তত বার পাঁচেক মোহনবাগানকে উদ্বেগ কাটিয়ে স্বস্তি এনে দিয়েছেন বিশাল কাইথ। পানোসের এটা বড় সৌভাগ্য যে তাঁর হাতে বিশালের মত একজন গোলরক্ষক আছেন।
বিশেষ করে প্রথমার্ধে মোহনবাগান যে ফুটবল খেলল, তা চোখ চেয়ে দেখা যায় না। মাঝমাঠে প্রচুর ফাঁকা জায়গা চেন্নাইয়ের জন্য। বাগান মিডফিল্ডাররা দ্রুত ওঠা নামা করতে পারছ্ন না। কোনও প্রেসিং নেই। সেকেন্ড বল নেওয়ার কেউ নেই। ছন্নছাড়া মন্থর ফুটবল। সঙ্গে মিস পাস। উল্টোদিকে প্রেসিং, বলের জন্য দৌড়, ফাঁকা জায়গা খুঁজে নেওয়ায় যেমন মুন্সিয়ানা দেখালো চেন্নাই, তেমনি গতিময় আক্রমণ। মাধি তালাল আর নিকোলা জুটিতে মোহনবাগানকে নাজেহাল করল চেন্নাই। আদর্শ নম্বর টেনের ভূমিকা পালন করলেন মাধি তালাল। তিনি বল ধরলেই মোহন রক্ষণে ত্রাহি ত্রাহি রব। তিনিই এই চেন্নাইয়ের মূল চালিকাশক্তি। সঙ্গে দোসর নিকোলা।
অথচ ওই একজন প্রকৃত নম্বর টেনের অভাবেই ভুগল মোহনবাগান। রক্ষণে একা অ্যালবার্তো লড়াই চালালে কী হবে বাকিরা তাল মেলাতে পারলেন না। ফলে প্রথমার্ধে একাধিক সুযোগ তৈরি করে গেল চেন্নাইয়িন।
তালাল থেকে বল পেয়ে ইরফান যে শট নিলেন পা দিয়ে বাঁচালেন বিশাল। অফ সাইড ট্র্যাপ করতে গিয়ে একবার ডুবতে বসেছিল মোহন রক্ষণ। এবারও শট বাইরে। প্রথমার্ধের শেষ দিকে তালালও একবার ফাঁকা পেয়ে গিয়েছিলেন। প্রথমার্ধে মোহনবাগানের সুযোগ বলতে মাঝমাঠ থেকে বাড়ানো জেলকোভিচের পাসে এরউইন শট নিলে চেন্নাই গোলরক্ষক নওয়াজ পা দিয়ে প্রতিহত করেন, কিন্তু ফিরতি বল মনবীর ফাঁকায় পেয়েও ঠিকমত হেড করতে পারলেন না।
দ্বিতীয়ার্ধে সাহাল, থাপা ও লিস্টনকে নামিয়ে প্ল্যান বিতে যাওয়া ছাড়া উপায় । ছিল না পানোসের। তখন ড্রাজিচও মাঝমাঠে অনেকটা জায়গা জুড়ে খেলতে লাগলেন। দৌড় শুরু হল মনবীরেরও। অনেকটাই খেলায় ফিরল মোহনবাগান।
সাহালের সিটার মিস, এরউইনের শট নোয়াজের সেভ। বার কয়েক গোলের কাছে চলে গিয়েছল চেন্নাইও। কিন্ত এদিন বিশালকে হার মানানো যায়নি। যেমন বেশিরভাগ ম্যাচেই যায় না। মাধি তালালরা সত্যিই বুঝলেন গোল্ডেন হ্যান্ড কাকে বলে! আর পানোস বুঝলেন মিগুয়েল আর ম্যাকলরেনকে দ্রুত ফিট না করতে পারলে নর্থ ইস্ট ম্যাচের মত দুর্ঘটনা যে কোনও দিনই ঘটতে পারে। বারে বারেই ঘটতে পারে। রোজ রোজ বিশাল বাঁচাবেন, এটা আবার কেমন কথা!








