AIFF ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রামেরই ফসল আমি, বলছেন কলকাতা ডার্বির নায়ক এডমুন্ড লালরিংডিকা
তাঁর ফেসবুক বায়োতে এখনও সেই পুরনো দিনের নীরব স্মৃতি জ্বল জ্বল করছে “AIFF Regional Football Academy।”

এক্সট্রা টাইম বাংলা ওয়েব ডেস্ক: তাঁর ফেসবুক বায়োতে এখনও সেই পুরনো দিনের নীরব স্মৃতি জ্বল জ্বল করছে “AIFF Regional Football Academy।” একসময় এডমুন্ড লালরিংডিকা ছিলেন ভারতীয় ফুটবলে নিজের জায়গা করে নেওয়ার স্বপ্ন দেখা এক সাধারণ কিশোর। আজ সেই ছেলেটিই ভারতীয় ফুটবলের অন্যতম আলোচিত নাম। গ্যালারি ভরা দর্শকের উল্লাস, শিরোনাম কিংবা প্রচারের আলোয় আসার অনেক আগে তাঁর পথচলা শুরু হয়েছিল AIFF ইউথ ডেভলপমেন্টের হাত ধরে।
এডমুন্ড লালরিংডিকা র কথায়, “আমি AIFF ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রামেরই ফসল।”
ডুরান্ড কাপ ফাইনালে এডমুন্ড লালরিংডিকা শুধু তিনটি গোলই করেননি, কলকাতা ডার্বির ইতিহাসেও নিজের নাম লিখিয়ে ফেলেছেন। ৪-১ গোলে জয় তুলে ২২ বছর পর ইস্টবেঙ্গল যখন ট্রফি ঘরে তোলে, তখন তাঁর হ্যাটট্রিক তাঁকে ভারতীয় ফুটবলের পরিচিত মুখ থেকে রাতারাতি ইস্টবেঙ্গলের সাম্প্রতিক ইতিহাসের অন্যতম বড় নায়কে পরিণত করে।
AIFF ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রামের অংশ হওয়ার অভিজ্ঞতা এবং সেটি কীভাবে তাঁর ফুটবলজীবন ও কেরিয়ারকে গড়ে দিয়েছে, জানতে চাওয়া হলে নস্টালজিক এডমন্ড বলেন, “প্রায় ১১ বছর বয়সে আমি AIFF ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রামে যোগ দিয়েছিলাম এবং সেখানেই আমার যুব ফুটবলের একটা বড় সময় কেটেছে। এই প্রোগ্রাম আমাকে শৃঙ্খলা শিখিয়েছে এবং একজন খেলোয়াড় হিসেবে গড়ে তুলেছে। আজ আমি যেখানে পৌঁছেছি, সেখানে এর বড় ভূমিকা রয়েছে।”
নিজের রাজ্য মিজোরামে AIFF-এর গ্রাসরুটস প্রোগ্রাম নিয়ে এডমন্ড বলেন, “তরুণ ফুটবলারদের ছোটবেলা থেকেই ফুটবলের মৌলিক বিষয় শেখা এবং নিজেদের দক্ষতা গড়ে তোলার জন্য এই ধরনের প্রোগ্রাম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমি ভাগ্যবান যে এই সুযোগ-সুবিধাগুলো পেয়েছি। AIFF-এর কাছে আমি সত্যিই কৃতজ্ঞ।” প্রসঙ্গত মিজোরামে ফুটবল এখন ঘরঘর কী কাহানি, ছেলে মেয়েরা ফুটবল খেলতে চায়। ফুটবল খেলে নাম করার স্বপ্ন দেখে তারা।
তবে এডমুন্ড লালরিংডিকার এই সাফল্যের পেছনের গল্পটা আরও গভীর। ইস্টবেঙ্গল যখন তাঁর হ্যাটট্রিকে ভর করে ডুরান্ড কাপ জিতল, সেই মুহূর্তটি তাঁর কাছে শুধুমাত্র একটি ফাইনাল জয় ছিল না, ছিল ব্যক্তিগতভাবেও বিশেষ একটি দিন। ম্যাচের আগে তিনি এবং তাঁর বোন মিলে হ্যাটট্রিকের জন্য প্রার্থনা করেছিলেন। সেই স্বপ্ন সত্যি হওয়ার পর তাঁর প্রথম ভাবনাই ছিল ঈশ্বরকে ধন্যবাদ জানানো। তাঁর কথায়, “প্রথমেই আমার মনে হয়েছিল, ঈশ্বরকেই কৃতিত্ব দিতে হবে।”
গত মরশুমে সেমিফাইনাল থেকে বিদায় নেওয়ার পর এবার ট্রফি জেতায় ইস্টবেঙ্গলের কাছে এই জয় ছিল আরও তাৎপর্যপূর্ণ। এডমুণ্ডও সেই সাফল্যে উচ্ছ্বসিত। নতুন মরশুমের সাফল্যের জন্য তিনি কোচ আন্তোনিও লোপেজ হাবাসকে কৃতিত্ব দিয়েছেন। তিনি বলেন, “এটা সবে শুরু। আশা করি ভবিষ্যতে হাবাসের সঙ্গে আমরা আরও অনেক ট্রফি জিততে পারব।”
সামনে রয়েছে ভারত-ব্রাজিল ম্যাচ। সেই ম্যাচে খেলার সুযোগ এডমন্ডের কাছেও স্বপ্নের মতো। তিনি বলেন, “প্রত্যেক ভারতীয় ফুটবলারের কাছেই ব্রাজিলের বিরুদ্ধে খেলা একটা স্বপ্ন।”
তবে এখনই ভবিষ্যৎ নিয়ে বেশি ভাবতে চান না তিনি। তাঁর সমস্ত মনোযোগ ইস্টবেঙ্গলে এবং নিজের পারফরম্যান্সের মাধ্যমে জাতীয় দলে জায়গা করে নেওয়ার লক্ষ্যে। এডমুন্ড লালরিংডিকা বলেন, “আমি শুধু কঠোর পরিশ্রম করে নিজের ক্লাবের হয়ে সেরাটা দিতে পারি। যদি জাতীয় দলে ডাক পাই, দেশের জন্য নিজের সবটা উজাড় করে দেব।”
AIFF-এর যুব ফুটবল ব্যবস্থার এক প্রতিভাবান কিশোর থেকে জাতীয় দলের স্বপ্ন দেখা ফুটবলার, আর সেখান থেকে কলকাতা ডার্বির নায়ক, এডমুন্ড লালরিংডিকার গল্প মনে করিয়ে দেয়, ফুটবল কখনও কখনও তার নায়কদের সামনে আনতে সময় নেয়। কিন্তু যখন সেই মুহূর্ত আসে, তখন তা হয়ে ওঠে এমন এক চিরকালীন স্মৃতি, যা সহজে ভোলার নয়।
