প্রচণ্ড ধাক্কায় ভেঙে পড়ে ফোনে কাঁদতে কাঁদতে স্ত্রীকে মনের কথা বললেন রাফিনহা
হাইতির বিরুদ্ধে ম্যাচে হ্যামস্ট্রিংয়ে চোট পেয়ে আবারও মাঠের বাইরে ছিটকে গিয়েছেন ব্রাজিলের এই তারকা ফুটবলার। আর সেই ধাক্কায় ভেঙে পড়েছিলেন তিনি নিজেও। স্ত্রীর কাছে ভেঙে পড়েছিলেন কান্নায়।

এক্সট্রাইম ওয়েব ডেস্ক: চোট, চোট আর চোট। এ যেন পিছু ছাড়ছে না রাফিনহার। আরও এক বার চোটের ধাক্কায় থমকে গেল তাঁর এগিয়ে চলা। দুঃস্বপ্নের মতো কাটছে ব্রাজিলিয়ান তারকার এই মরসুম, আর বিশ্বকাপের মঞ্চেও সেই দুর্ভাগ্য যেন পিছু ছাড়ছে না তাঁকে। হাইতির বিরুদ্ধে ম্যাচে হ্যামস্ট্রিংয়ে চোট পেয়ে আবারও মাঠের বাইরে ছিটকে গিয়েছেন ব্রাজিলের এই তারকা ফুটবলার। আর সেই ধাক্কায় ভেঙে পড়েছিলেন তিনি নিজেও। স্ত্রীর কাছে ভেঙে পড়েছিলেন কান্নায়।
রাফিনহার স্ত্রী নাতালিয়া বেলোলি ব্রাজিলের টেলিভিশন অনুষ্ঠান ডোমিঙ্গাও কম হাক-এ দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানান, ম্যাচের পর ফোনে তাঁর সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন রাফিনহা।
নাতালিয়া বলেন, "সত্যি বলতে, জীবনে খুব কম বার এমন হয়েছে যখন আমি বাকরুদ্ধ হয়ে গিয়েছি। ও কাঁদছিল, আমিও কাঁদছিলাম। ফোনে আমাদের কথা হয়েছিল। পরের দিন ও মেডিক্যাল টেস্ট করায় এবং কিছু সময়ের জন্য বাড়িতে এসেছিল। তখন আমরা পুরো বিষয়টি নিয়ে কথা বলি।"
তবে কঠিন সময়ের মধ্যেও মানসিকভাবে দৃঢ় থাকার চেষ্টা করছেন রাফিনহা। তাঁর স্ত্রী জানিয়েছেন, "এখন ও অনেকটাই ভালো আছে। মানসিকভাবে শক্ত রয়েছে এবং নিজের লক্ষ্যেই মনোনিবেশ করেছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল সঠিক মানসিকতা বজায় রাখা এবং বিশ্বাস রাখা যে সামনে আরও ভালো দিন অপেক্ষা করছে।"
ব্রাজিল ফুটবল ফেডারেশনের মেডিক্যাল রিপোর্ট অনুযায়ী, রাফিনহার ডান পায়ের উরুর পিছনের অংশে পেশিতে চোট লেগেছে। তিনি নিবিড় চিকিৎসার মধ্যে রয়েছেন। তবে স্কটল্যান্ডের বিরুদ্ধে ম্যাচের পাশাপাশি রাউন্ড অব ৩২-এর ম্যাচেও খেলতে পারবেন না। ব্রাজিল পরবর্তী পর্যায়ে উঠলে তবেই তাঁর ফেরার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।
চোটের খবর সামনে আসার পর সোশ্যাল মিডিয়ায় দীর্ঘ একটি আবেগঘন বার্তা পোস্ট করেন নাতালিয়া বেলোলি।
রাফিনহাকে নিয়ে আবেগঘন বার্তায় নাতালিয়া লেখেন, "আমি কেবল একজন ফুটবলারকে দেখি না, আমি সেই মানুষটাকে চিনি। আমি ওর চরিত্র, বিনয়, শৃঙ্খলা এবং ফুটবল ও ব্রাজিলের প্রতি ওর ভালোবাসা জানি। দেশের কোটি কোটি মানুষের প্রত্যাশা কাঁধে নিয়ে মাঠে নামার আগে ওর নির্ঘুম রাত, নিজের ওপর চাপ—সবই আমি দেখেছি।"
শেষে স্বামীর উদ্দেশে তিনি লেখেন, "তুমি একজন অক্লান্ত ও অদম্য মানুষ। তুমি ফিনিক্স পাখির মতো আবারও ফিরে আসবে, যেমন তুমি বারবার ফিরে এসেছ। যারা তোমাকে ভালোবাসে ও সম্মান করে, তারা তোমার যাত্রাপথকে শ্রদ্ধা করে। তোমার পরিশ্রমের ঘাম ইতিমধ্যেই বহু মানুষের জীবন স্পর্শ করেছে। সবার জন্যই জায়গা আছে, শুধু আমাদের তা ভাগ করে নিতে শিখতে হবে।"








