টাইব্রেকারে কলম্বিয়াকে হারিয়ে ইতিহাস, ১৯৫৮ সালের পর কোয়ার্টার ফাইনালে সুইৎজারল্যান্ড
টাইব্রেকারে ৪-৩ ব্যবধানে কলম্বিয়াকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে সুইৎজারল্যান্ড। ১২০ মিনিটের ম্যাচে কোনও দলই গোলের দেখা পায়নি। শেষ পর্যন্ত স্নায়ুচাপের টাইব্রেকারে জয় নিশ্চিত করে সুইসরা।

এক্সট্রাটাইম ওয়েব ডেস্ক
বিশ্বকাপ ২০২৬-এর শেষ ষোলোয় নাটকীয় লড়াই শেষে টাইব্রেকারে ৪-৩ ব্যবধানে কলম্বিয়াকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে সুইৎজারল্যান্ড। ১২০ মিনিটের ম্যাচে কোনও দলই গোলের দেখা পায়নি। শেষ পর্যন্ত স্নায়ুচাপের টাইব্রেকারে জয় নিশ্চিত করে সুইসরা।
এই জয়ের মাধ্যমে ১৯৫৪ সালের পর প্রথমবার বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছাল সুইৎজারল্যান্ড। এবার শেষ আটে তাদের সামনে অপেক্ষা করছে আরও কঠিন। প্রতিপক্ষ আর্জেন্টিনা।
লড়াই হয়েছে সমানে সমান। বল দখল, মাঝমাঠের লড়াই এবং রক্ষণভাগের দৃঢ়তায় কেউই প্রতিপক্ষকে ছাপিয়ে যেতে পারেনি। সুযোগ তৈরি হলেও ফিনিশিংয়ের অভাবে গোলের দেখা পায়নি কেউই।
সুইৎজারল্যান্ডের জন্য বড় ধাক্কা ছিল তাদের অন্যতম আক্রমণভাগের ভরসা জোহান মানজাম্বির অনুপস্থিতি। হাঁটুর চোটের কারণে তিনি দলে ছিলেন না। অন্যদিকে কলম্বিয়ার আক্রমণের মূল ভরসা ছিলেন অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার হামেস রদ্রিগেস।
২১ মিনিটে ম্যাচের প্রথম বড় সুযোগ পায় কলম্বিয়া। হামেস রদ্রিগেসের বল থেকে তৈরি হওয়া আক্রমণে গুস্তাভো পুয়ের্তার বাঁকানো শট অসাধারণ ডাইভ দিয়ে ফিরিয়ে দেন সুইস গোলরক্ষক গ্রেগর কোবেল।
এর ঠিক নয় মিনিট পর পাল্টা আক্রমণে সুবর্ণ সুযোগ পায় সুইৎজারল্যান্ড। ফাবিয়ান রিডারের শট দারুণভাবে রুখে দেন কলম্বিয়ার গোলরক্ষক কামিলো ভার্গাস। কিছুক্ষণ পর আবারও ড্যান এনদয়ের প্রচেষ্টা প্রতিহত করে দলকে রক্ষা করেন তিনি।
বিরতির পর সুইজারল্যান্ড আরও আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে শুরু করে। বদলি হিসেবে নামা ডিজিব্রিল সো প্রায় গোল পেয়ে গিয়েছিলেন, তবে তার শট অল্পের জন্য বার ঘেঁষে বাইরে চলে যায়।
৬৩ মিনিটে ম্যাচের সেরা সুযোগ নষ্ট করে কলম্বিয়া। সুইস অধিনায়ক গ্রানিত জাকার ভুল পাস থেকে বল পেয়ে যান লুইস সুয়ারেজ। একেবারে সামনে থেকে তার শট অনেক উঁচু দিয়ে বাইরে চলে যায়।
৬৬ মিনিটে হামেস রদ্রিগেসের পরিবর্তে মাঠে নামেন হুয়ান কুইন্তেরো। এরপর কলম্বিয়ার আক্রমণে কিছুটা গতি এলেও গোলের দেখা মেলেনি। অফসাইড, ভুল পাস এবং সুইস রক্ষণভাগের দৃঢ়তায় নির্ধারিত সময় গোলশূন্যই শেষ হয়।
অতিরিক্ত সময়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ অনেকটাই নিয়ে নেয় কলম্বিয়া। জামিন্তন কাম্পাজকে বক্সের মধ্যে ফাউল করা হলেও তারা সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি।
এরপর কুইন্তেরোর নিখুঁত কর্নার থেকে জন লুকুমির হেড ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। কিছুক্ষণ পর কাম্পাজের দূরপাল্লার শটও দারুণ দক্ষতায় রুখে দেন কোবেল।
অন্যদিকে সুইৎজারল্যান্ডও সুযোগ তৈরি করে। বদলি জেকি আমদৌনির কাছ থেকে আসা শট নিচু হয়ে ঝাঁপিয়ে বাঁচান ভার্গাস।
ম্যাচের ১১৬ মিনিটে কলম্বিয়ার সামনে আসে সবচেয়ে বড় সুযোগ। গোলের সামনে সম্পূর্ণ ফাঁকা অবস্থায় থেকেও কাম্পাজ বল বারের ওপর দিয়ে পাঠিয়ে দেন। সেই মুহূর্তেই যেন ম্যাচের ভাগ্য অনেকটাই নির্ধারিত হয়ে যায়।
১২০ মিনিটেও কোন দল গোল করতে না পারায় ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে। সেখানে সুইজারল্যান্ড ৪-৩ ব্যবধানে জয় তুলে নেয়। এখন শেষ আটে সুইজারল্যান্ডের সামনে আরও বড় চ্যালেঞ্জ। আর্জেন্টিনার বিপক্ষে জয় পেলে তারা বিশ্বকাপ ইতিহাসে নতুন অধ্যায় রচনা করবে।








