হালান্ড – বেলিংহ্যাম দ্বৈরথের আগে ফিরে আসছে ৪৫ বছর আগের অন্য ইতিহাস
ফুটবল ম্যাচ ইতিহাসে জায়গা পেয়ে যায় অনেক কারণে। কোনও ঐতিহাসিক জয়, ঐতিহাসিক গোল বা কারও দুরন্ত পারফরম্যান্সের জন্য। কিন্তু ৪৫ বছর আগের ইংল্যান্ড বনাম নরওয়ে ম্যাচ ইতিহাসে জায়গা করে নিয়েছে একজন ধারাভাষ্যকারের জন্য, যাঁর নাম ওই বিয়র্গে লিলিয়েন।

এক্সট্রাটাইম ওয়েব ডেস্ক
বিশ্বকাপে শনিবার রাতের কোয়ার্টার ফাইনাল ফুটবলপ্রেমীদের ফিরিয়ে নিয়ে যাচ্ছে ৪৫ বছর আগে। ইংল্যান্ড বনাম নরওয়ে। আর্লিং হালান্ড বনাম জুডে বেলিংহ্যাম। দ্বৈরথ শনিবার রাতে। ফেবারিট ইংল্যান্ডের রাতের ঘুম কেড়ে নিতে পারেন ফর্মে থাকা, ব্রাজিলকে ছিটকে দেওয়া ওই একজন- হালান্ড। আর এই ম্যাচের আগে ফিরে আসছেন ৪৫ বছর আগের আর একজন - বিয়র্গে লিলিয়েন।
ফুটবল ম্যাচ ইতিহাসে জায়গা পেয়ে যায় অনেক কারণে। কোনও ঐতিহাসিক জয়, ঐতিহাসিক গোল বা কারও দুরন্ত পারফরম্যান্সের জন্য। কিন্তু ৪৫ বছর আগের ইংল্যান্ড বনাম নরওয়ে ম্যাচ ইতিহাসে জায়গা করে নিয়েছে একজন ধারাভাষ্যকারের জন্য, যাঁর নাম ওই বিয়র্গে লিলিয়েন।
১৯৮১-র সেপ্টেম্বরে বিশ্বকাপ যোগ্যতা অর্জন পর্বের ম্যাচ ছিল ইংল্যান্ড ও নরওয়ের মধ্যে। ম্যাচটি ছিল ওসলোয়। ম্যাচের ধারাভাষ্য দিচ্ছিলেন নরওয়ের জাতীয় সম্প্রচার সংস্থা এনআরকের প্রধান রেডিও ধারাভাষ্যকার লিলিয়েন। তাঁর একটি লাইমনই জায়গা করে নিয়েছে ইতিহাসে। যখনই ইংল্যান্ড ও নরওয়ে মুখোমুখি হয় তখনই ফিরে ফিরে আসে ওই লাইনটি। এমনকী অন্য কোনও লড়াইয়ের সময়ও কখনও কখনও ব্যবহৃত হয় ওই ঐতিহাসিক লাইটি।
যদিও ইংল্যান্ড ছিল অনেক বেশি শক্তিশালী কিন্তু ম্যাচটিতে ২-১ গোলে জিতেছিল নরওয়ে। উচ্ছ্বাসে ভেসে গিয়ে লিলিয়েন একে একে ইংল্যান্ডের বিখ্যাত রাজনৈতিক, ঐতিহাসিক ও ক্রীড়াব্যক্তিত্বদের নাম নিতে শুরু করেন। তিনি বলে ওঠেন, লর্ড নেলসন, লর্ড বিভারব্রুক, স্যার উইনস্টন চার্চিল, স্যার অ্যান্থনি ইডেন, ক্লেমেন্ট অ্যাটলি, হেনরি কুপার, লেডি ডায়ানা – আমরা সবাইকে হারিয়েছি।
তারপরই তাঁর মুখে শোনা যায় সেই ঐতিহাসিক লাইন। তৎকালীন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী মার্গারেট থ্যাচারকে সরাসরি সম্বোধন করে তিনি বলেন, “মার্গারেট থ্যাচার, আপনি কি আমার কথা শুনতে পাচ্ছেন, আপনার ছেলেরা ভয়াবহ মার খেয়েছে।“ তারপর থেকে যখনই নরওয়ের সামনে পড়েছে ইংল্যান্ড, তখনই এই কথাগুলো ফিরিয়ে এনেছে নরওয়েজিয়ানরা।
গত তিরিশ বছরে বদলে গিয়েছে পরিস্থিতি। নরওয়ের প্রায় ১০০ জন ফুটবলার খেলেছেন ইংল্যান্ডের ক্লাবে। ওডেগার্ড, হালান্ডরাও তার মধ্যে আছেন। গত তিন দশকে ইংলিশ ফুটবলের সঙ্গে নরওয়ের সম্পর্ক অনেক শক্তিশালী হয়েছে।
১৯৮১-র মত শনিবারও ইংল্যান্ডই ফেবারিট হিসাবে নামছে। দল হিসাবে হয়ত তারা এগিয়ে আছে। কিন্তু সে তে ব্রাজিলও এগিয়ে ছিল, কিন্তু অন্য ইতিহাস লিখে দিয়েছেন আর্লিং হালান্ড। ইংল্যান্ডও জানে, আছেন হালান্ড। তাই তো নরওয়েজিয়ানরা ভাবছে, মার্গারেট থ্যচারের উদ্দেশে লিলিয়েনের বলা কথাগুলো ফিরিয়ে আনা যাবে – “আপনার ছেলেরা ভয়াবহ মার খেয়েছে।“
