ভারতীয় অভিভাবকদের সতর্ক করে বার্তা দিলেন জন্টি রোডস
খেলাধুলাকে কি শুধুই ভবিষ্যতে পেশাদার ক্রীড়াবিদ হওয়ার সম্ভাবনা হিসেবে দেখা উচিত? নাকি শিশুদের জীবনে এর গুরুত্ব আরও অনেক বেশি? দক্ষিণ আফ্রিকার প্রাক্তন ক্রিকেট কিংবদন্তি জন্টি রোডসের বার্তা স্পষ্ট—ভারতীয় অভিভাবকদের খেলাধুলা সম্পর্কে নিজেদের দৃষ্টিভঙ্গি বদলানোর সময় এসেছে।

এক্সট্রাটাইম ওয়েব ডেস্ক
খেলাধুলাকে কি শুধুই ভবিষ্যতে পেশাদার ক্রীড়াবিদ হওয়ার সম্ভাবনা হিসেবে দেখা উচিত? নাকি শিশুদের জীবনে এর গুরুত্ব আরও অনেক বেশি? দক্ষিণ আফ্রিকার প্রাক্তন ক্রিকেট কিংবদন্তি জন্টি রোডসের বার্তা স্পষ্ট—ভারতীয় অভিভাবকদের খেলাধুলা সম্পর্কে নিজেদের দৃষ্টিভঙ্গি বদলানোর সময় এসেছে।
কে শ্রীনিবাস রাওয়ের সঞ্চালনায় ‘বম্বে স্পোর্ট এক্সচেঞ্জ’-এ বক্তব্য রাখতে গিয়ে রোডস সেই মানসিকতাকে চ্যালেঞ্জ করেছেন, যেখানে কোনও শিশুর খেলাধুলার সাফল্য বিচার করা হয় শুধুমাত্র সে ভবিষ্যতে পেশাদার ক্রীড়াবিদ হতে পারবে কি না, তার ভিত্তিতে। তাঁর মতে, কোনও শিশু যদি সুস্থ থাকে, নিয়মিত শরীরচর্চা করে এবং শারীরিকভাবে ফিট হয়ে ওঠে, সেটাই অভিভাবকদের কাছে বড় প্রাপ্তি।
ভারতে যেখানে পড়াশোনায় সাফল্যকেই সাধারণত সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়, সেখানে খেলাধুলা অনেক সময় দ্বিতীয় সারিতে চলে যায়। মাঠে সময় কাটালে পড়াশোনার ক্ষতি হবে কি না, ভবিষ্যতের কেরিয়ারে তার প্রভাব পড়বে কি না, তা নিয়ে চিন্তায় থাকেন অনেক অভিভাবক। রোডসের মতে, এই দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন প্রয়োজন।
ক্রিকেটের প্রতি বিপুল জনপ্রিয়তা থাকা ভারতে তাঁর এই বার্তা বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। শিশুদের ক্রিকেটের পাশাপাশি ফুটবল, হকি, টেনিসের মতো বিভিন্ন খেলায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া উচিত। এর ফলে তাদের শারীরিক দক্ষতার বিকাশ আরও ভালোভাবে হতে পারে।
নিজেও একাধিক খেলায় অংশ নেওয়ার পক্ষে সওয়াল করেছেন রোডস। ক্রিকেটের ইতিহাসে অন্যতম সেরা ফিল্ডার হিসেবে পরিচিত এই প্রাক্তন তারকা আগেও জানিয়েছেন, ফুটবল, হকি ও টেনিস খেলার অভিজ্ঞতা তাঁর ক্ষিপ্রতা, শরীরের ভারসাম্য এবং প্রতিক্রিয়া জানানোর ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করেছিল।
তরুণ প্রতিভাদের খুব তাড়াতাড়ি বিচার করার বিরুদ্ধেও সতর্ক করেছেন তিনি। কোনও শিশু শুরুতেই অসাধারণ দক্ষতার পরিচয় দিতে না পারলে তাকে বাতিল করে দেওয়া উচিত নয়। কারণ, স্বাভাবিক প্রতিভার পাশাপাশি শেখার আগ্রহ এবং ক্রমাগত উন্নতি করার মানসিকতাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
আলোচনায় উঠে এসেছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের মানসিক ও শারীরিক চাপের প্রসঙ্গও। বিরাট কোহলি এবং সচিন তেন্ডুলকরের মতো ক্রিকেটাররা কীভাবে চাপ সামলান, তা নিয়েও আলোচনা হয়েছে।
সব মিলিয়ে, রোডসের বার্তা শুধুমাত্র ক্রিকেটের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। খেলাধুলা যেন শিশুদের কাছে বাড়তি চাপের কারণ হয়ে না দাঁড়ায় কিংবা শুধুমাত্র পেশাদার কেরিয়ার গড়ার বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচিত না হয়। বরং খেলাধুলার মাধ্যমে তাদের শারীরিক সক্ষমতা, আত্মবিশ্বাস, শৃঙ্খলা এবং আনন্দের বিকাশ ঘটুক।
ভারতীয় অভিভাবকদের কাছে তাই প্রশ্নটা খুব সহজ—সন্তানরা কি বাবা-মায়ের স্বপ্নপূরণের জন্য খেলছে, নাকি নিজেদের সম্ভাবনা খুঁজে নেওয়ার স্বাধীনতা পাচ্ছে?








