ভারতকে থামাতে ক্যারিবিয়ানদের ‘স্পেশ্যাল প্ল্যান’, ফাঁস করলেন পল
চতুর্থ টি-টোয়েন্টি ম্যাচে ভারতের বিরুদ্ধে ব্যাটে-বলে দাপট দেখিয়ে জয় ছিনিয়ে নিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। হায়দরাবাদের পিচের চরিত্র বুঝে বোলিংয়ের কৌশল সাজানো থেকে শুরু করে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে আক্রমণের ধরন বদলে ফেলা সব ক্ষেত্রেই ভারতকে টেক্কা দিলেন ক্যারিবীয় বোলাররা। ফলে বড় রান তাড়া করতে নেমেও ২৪ রানে হার মানতে হল ভারতকে।

ক্সট্রাটাইম ওয়েবডেস্ক: চতুর্থ টি-টোয়েন্টি ম্যাচে ভারতের বিরুদ্ধে ব্যাটে-বলে দাপট দেখিয়ে জয় ছিনিয়ে নিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। হায়দরাবাদের পিচের চরিত্র বুঝে বোলিংয়ের কৌশল সাজানো থেকে শুরু করে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে আক্রমণের ধরন বদলে ফেলা সব ক্ষেত্রেই ভারতকে টেক্কা দিলেন ক্যারিবীয় বোলাররা। ফলে বড় রান তাড়া করতে নেমেও ২৪ রানে হার মানতে হল ভারতকে।
প্রথমে ব্যাট করতে নেমে শাই হোপের অপরাজিত ১০২ রানের দুরন্ত ইনিংসে তিন উইকেট হারিয়ে ২৪৭ রানের বিশাল সংগ্রহ গড়েছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। জবাবে ভারতও শুরু থেকেই পাল্টা আক্রমণে যাওয়ার ইঙ্গিত দেয়। মাত্র ২৩ বলে ৫৬ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলে সঞ্জু স্যামসন যখন ভারতকে জয়ের পথে এগিয়ে দিচ্ছিলেন, তখন ম্যাচের রাশ ক্রমশ স্বাগতিকদের হাতে চলে যাচ্ছে বলেই মনে হচ্ছিল। কিন্তু চাপের মুখে ভেঙে পড়েনি ক্যারিবীয় শিবির। বরং বোলিংয়ের গতি ও ধরন বদলে ভারতের ব্যাটারদের ছন্দ নষ্ট করে দেয় তারা। সেই পরিকল্পনার কেন্দ্রে ছিলেন কিমো পল।
৪১ রান দিয়ে পাঁচ উইকেট তুলে নিয়ে ম্যাচের অন্যতম নায়ক হয়ে ওঠেন পল। তবে তাঁর সাফল্যের নেপথ্যে ছিল শুধু নিখুঁত বোলিং নয়, হায়দরাবাদের পিচ সম্পর্কে সঠিক ধারণাও। ক্যারিবীয় এই পেসার জানান, তাঁদের বোলিং বিভাগ বুঝতে পেরেছিল যে পিচে কিছু বল পড়ে সামান্য থমকে যাচ্ছিল। বলের এই আচরণকেই কাজে লাগানোর সিদ্ধান্ত নেন তাঁরা।
ভারতীয় ব্যাটারদের সামনে একের পর এক গতির বল তুলে দেওয়ার পরিবর্তে বোলিংয়ে বৈচিত্র্য আনেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের বোলাররা। কখনও গতি কমিয়ে, কখনও স্টাম্প লক্ষ্য করে ইয়র্কার দিয়ে, আবার কখনও পিচে বল ফেলে ব্যাটারদের বড় শট খেলার সুযোগ কমিয়ে দেন তাঁরা। পলের কথায়, প্রথম পরিকল্পনা হিসেবে স্টাম্প লক্ষ্য করে ইয়র্কার দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। সেই কৌশল কাজে না লাগলে পিচে বল ফেলে ব্যাটারদের সমস্যায় ফেলার পরিকল্পনাও ছিল তাঁদের।
ভারতের ইনিংসের শুরুতেই এই কৌশলের কার্যকারিতা স্পষ্ট হয়ে যায়। পঞ্চম ওভারে পরপর সঞ্জু স্যামসন ও ঈশান কিষাণকে ফিরিয়ে ভারতীয় শিবিরে বড় ধাক্কা দেন পল। পরে ভারতের রান তোলার গতি আবার বাড়তে শুরু করলে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ফিরে এসে আরও একবার প্রতিপক্ষের অগ্রগতিতে বাধা দেন তিনি।
তবে তিলক বর্মা ও নীতীশ কুমার রেড্ডির জুটি ভারতকে আবার লড়াইয়ে ফিরিয়ে আনে। দু’জনে মিলে ৭০ রান যোগ করে জয়ের আশা জাগিয়েছিলেন। কিন্তু সপ্তদশ ওভারে রোমারিও শেফার্ডের বলে তিলক বর্মা ক্যাচ দিয়ে ফিরে যেতেই ম্যাচের ছবিটা বদলে যায়। রভম্যান পাওয়েলের হাতে ধরা পড়েন তিলক। ভারতের ইনিংসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জুটির অবসান ঘটিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ফের চালকের আসনে বসিয়ে দেন শেফার্ড।
পরে সঞ্জু স্যামসনও তিলকের এই উইকেট হারানোকে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া মুহূর্ত হিসেবে চিহ্নিত করেন। সেই জুটি ভাঙার পর আর প্রয়োজনীয় গতি ফিরে পায়নি ভারতের রান তাড়া। শেষ পর্যন্ত ১৯.৩ ওভারে ২২৩ রানে অলআউট হয়ে যায় ভারত। ফলে ২৪ রানের জয় নিশ্চিত করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
এই জয়ের ফলে পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে ২-২ সমতা ফিরিয়ে আনল ক্যারিবীয় দল। ফলে সিরিজের শেষ ম্যাচই হয়ে উঠল নির্ণায়ক লড়াই। তবে চতুর্থ ম্যাচ থেকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি শুধু জয় নয়। হায়দরাবাদের কঠিন পরিস্থিতিতে ভারতের আগ্রাসী ব্যাটিংয়ের মোকাবিলা করতে যে শুধু বেশি রান করলেই হয় না, সঠিক সময়ে সঠিক বোলিং কৌশল প্রয়োগ করাও জরুরি তা আরও একবার প্রমাণ করল তারা।








