ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে আবেগপ্রবণ জাভেদ মিয়াঁদাদ, কাঁদতে কাঁদতে বললেন—‘ওকে সঠিক যত্ন দিন, দেরি হয়ে যাওয়ার আগেই’
সাক্ষাৎকারে ইমরানের চরিত্র ও সততা নিয়ে সওয়াল করতে গিয়ে চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি মিয়াঁদাদ। তিনি বলেন, “ও একজন সৎ মানুষ। দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত থাকার মতো মানুষ ও নয়।” দীর্ঘদিন ইমরানের সঙ্গে খেলেছেন বলেই তাঁর সততা সম্পর্কে তিনি নিশ্চিত বলেও দাবি করেন প্রাক্তন পাকিস্তান অধিনায়ক।

ইমরান খানের কারাবন্দি থাকা নিয়ে বিতর্ক গত কয়েক সপ্তাহ ধরে নতুন করে চর্চায় এসেছে। তবে পাকিস্তানের প্রাক্তন অধিনায়ক জাভেদ মিয়াঁদাদের কাছে বিষয়টি শুধুমাত্র রাজনৈতিক বিতর্ক নয়, বরং অত্যন্ত ব্যক্তিগতও। দীর্ঘদিনের সতীর্থ ইমরান খানের পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়লেন মিয়াঁদাদ। প্রশ্ন তুললেন, পাকিস্তান ক্রিকেটের অন্যতম সেরা ব্যক্তিত্বের সঙ্গে কি আদৌ ন্যায়বিচার করা হচ্ছে?
১৯৮০-র দশক থেকে ১৯৯০-এর দশকের গোড়া পর্যন্ত একই ড্রেসিংরুমে ছিলেন মিয়াঁদাদ ও ইমরান। ১৯৯২ সালের ঐতিহাসিক বিশ্বকাপজয়ী পাকিস্তান দলেরও গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন তাঁরা।
সম্প্রতি একটি ইউটিউব চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইমরানের চরিত্র ও সততা নিয়ে সওয়াল করতে গিয়ে চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি মিয়াঁদাদ। তিনি বলেন, “ও একজন সৎ মানুষ। দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত থাকার মতো মানুষ ও নয়।” দীর্ঘদিন ইমরানের সঙ্গে খেলেছেন বলেই তাঁর সততা সম্পর্কে তিনি নিশ্চিত বলেও দাবি করেন প্রাক্তন পাকিস্তান অধিনায়ক।
এরপর আবেগপ্রবণ মিয়াঁদাদ প্রশ্ন তোলেন, “ওকে যদি বাইরে বের করে দেওয়া হয়, তাতে কী হবে? ও কি কাউকে খেয়ে ফেলবে, নাকি কারও ক্ষতি করবে?” তিনি আরও বলেন, “ও-ও কারও সন্তান। আমি সবসময় ভাবি, ও এখন কী করছে।”
ইমরানের স্বাস্থ্য এবং জেলের পরিস্থিতি নিয়েও সম্প্রতি উদ্বেগ বাড়ছে। ৭৩ বছর বয়সি প্রাক্তন পাকিস্তান প্রধানমন্ত্রী ২০২৩ সাল থেকে রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা জেলে বন্দি রয়েছেন। দুর্নীতির একাধিক মামলায় তাঁর সাজা হয়েছে।
সতীর্থ হিসেবে তাঁদের সম্পর্কের কথাও তুলে ধরেছেন মিয়াঁদাদ। তাঁর দাবি, দু’জনের মধ্যে কোনও ব্যক্তিগত প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিল না। “আমাদের মধ্যে কোনও রাইভালরি ছিল না। আমরা দু’জনেই দেশের জন্য লড়াই করতাম,” বলেন তিনি।
লর্ডস টেস্টের সম্প্রচারের সময় ইমরানের দুই ছেলে সুলেমান ও কাসিমও বাবার পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলার পর মিয়াঁদাদের মন্তব্য নতুন করে সামনে এসেছে।
ইমরানের সাম্প্রতিক মেডিক্যাল পরীক্ষা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তাঁর দল সেই প্রক্রিয়াকে চ্যালেঞ্জ করেছে। পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছিল, ইমরানকে শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা করাতে হবে এবং তাঁর ব্যক্তিগত চিকিৎসক-সহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসকদের সঙ্গে তাঁকে দেখা করার সুযোগ দিতে হবে।
তবে জাভেদ মিয়াঁদাদের কাছে বিষয়টি কোনও রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। একসময় যার সঙ্গে ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় মঞ্চে পাকিস্তানের হয়ে লড়াই করেছেন, সেই সতীর্থকে আজ কারাগারে একাকী জীবন কাটাতে দেখে তাঁর উদ্বেগই যেন ফুটে উঠেছে মিয়াঁদাদের কথায়।
ইমরান খান এখনও পর্যন্ত পাকিস্তানের একমাত্র বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক। তাঁর নেতৃত্বেই ১৯৯২ সালে পাকিস্তান প্রথমবার ক্রিকেট বিশ্বকাপ জিতেছিল। সেই ঐতিহাসিক দলের সতীর্থ জাভেদ মিয়াঁদাদের আবেগঘন আবেদন তাই নতুন করে আলোড়ন তৈরি করেছে ক্রিকেটমহলে।








