দিল্লি বিমানবন্দরে গণ্ডগোল, পুলিশ ডেকে উদ্ধার করতে হয়েছিল হেমন্ত ডোরাকে
হেমন্ত ডোরাকে নিয়েও যা ঘটেছিল, তা রীতিমত রোমহর্ষক, রোমাঞ্চকর। দিল্লি বিমানবন্দরে মোহনবাগান ও ইস্টবেঙ্গল কর্তাদের মাঝখানে পড়ে নাভিশ্বাস উঠে গিয়েছিল হেমন্তর।

এক্সট্রাটাইম বাংলা ওয়েব ডেস্ক: হেমন্ত ডোরা যে সময়টায় ভারতীয় ফুটবলে বিরাজ করছেন, সেই সময়ও কলকাতা ফুটবলে দলবদলের অন্যরকম উত্তেজনা ছিল। হেমন্ত ডোরাকে নিয়েও যা ঘটেছিল, তা রীতিমত রোমহর্ষক, রোমাঞ্চকর। দিল্লি বিমানবন্দরে মোহনবাগান ও ইস্টবেঙ্গল কর্তাদের মাঝখানে পড়ে নাভিশ্বাস উঠে গিয়েছিল হেমন্তর।
তাঁর নিজের কথায়, “পাকিস্তানে সাফ কাপে চ্যাম্পিয়ন হয়ে আমরা দিল্লিতে ফিরেছি। আমাকে তুলে নিয়ে যাবে বলে দুই প্রধানের কর্তারাই ২০-২৫টা গাড়ি ও প্রচুর লোকজন নিয়ে হাজির। আমাকে একদিক থেকে নীতুদা-বাবুদারা টানছে, অন্য হাত ধরে টানাটানি করছে বীরুদারা। বলছে, আমাদের সঙ্গে তোকে যেতে হবে। আমার সঙ্গীন অবস্থা দেখে আমাদের টিডি অরুণ ঘোষ বললেন, তোমরা যা করছ, তাতে ছেলেটা তো দু টুকরো হয়ে যাবে! শেষ পর্যন্ত পুলিশ ডাকতে বাধ্য হন অরুণদা। তারপর পুলিশ এসে উদ্ধার করে হেমন্তকে।
কিন্তু উদ্ধার হওয়ার আগে যা ঘটল, তা চাঞ্চল্যকর। হেমন্তর কথায়, নীতুদা বলছে তোর বাবার সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। আবার বীরুদা বলছে বাবার সঙ্গে কথা বলে নে। এই কথা বলে বীরুদা আমাকে ফোনটা ধরিয়ে দিল। দেখি ও প্রান্তে বাবার গলা। আমি বললাম তুমি কোথায়? বাবা বলল, আমি জানি না আমাকে একটা গাড়ি করে তুলে নিয়ে আসা হয়েছে। বলেছে ছেলের সঙ্গে দেখা হবে। বাবার এই কথা শুনে আমি বুঝে গেলাম। তখন বীরুদা বলল, তোর বাবা আমাদের কাছে আছে। তুই আমাদের সঙ্গে না গেলে কী হবে জানি না। আমি তখন নীতুদাকে বলতে গেলাম, কিন্তু নীতু দা কোনও কথা শুনল না। আমি পুলিশকে বলতে বাধ্য হলাম, আমি মোহনবাগানের সঙ্গে যাবো।
অপারেশন হেমন্ত ডোরা এখানেই শেষ নয়। তারপর তাঁকে নিয়ে গিয়ে দিল্লিতে গোপন ডেরায় তোলা হয়। পরের দিন ফ্লাইটে নয়, তাঁকে কলকাতায় নিয়ে আসা হয় রাজধানী এক্সপ্রেসে। তাও হাওড়া স্টেশনে ঢোকার আগে কারশেডে তাঁকে নামিয়ে নেওয়া হয়। তারপর গাড়ির মিছিল করে সল্টলেকের ডেরায় তোলা হয়।
পরের বছর অবশ্য অন্য ঘটনা ঘটে। হেমন্তর হাঁটুতে চোট হয়ে যায়। অপারেশনের পর ফিরে এলেও আর মোহনবাগান রাখেনি। তখনই ইস্টবেঙ্গলের পল্টু দাস তাঁকে ডেকে পাঠান। এরপর কী হল? হেমন্ত বলছিলেন, “পল্টু দা বললেন, গত বছরের কথা মনে আছে? দিল্লি এয়ারপোর্টে তোমাকে নীতু আনতে গিয়েছিল। তখন তুমি মধ্য গগণে। কিন্তু ও বীরু বাবা গো বলে তাঁকে জড়িয়ে ধরেছিলে। এখন তুমি ধপ করে পড়েছো। ইস্টবেঙ্গল তোমাকে সুযোগ দিচ্ছে। নিজেকে আবার তুলে নিয়ে যাও।“ এই হল দলবদলে হেমন্ত ডোরার গল্প।
