ক্লপের স্পষ্ট বার্তা: পরিবারকে বিরক্ত করলে জার্মানির কোচের পদ ছেড়ে দেব
জার্মানির নতুন জাতীয় দলের প্রধান কোচ হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পরই কড়া বার্তা দিলেন ইয়ুর্গেন ক্লপ। তিনি জানিয়ে দিয়েছেন, যদি জার্মান সংবাদমাধ্যম তাঁর পরিবারকে অযথা বিরক্ত করে, তাহলে তিনি কোনও দ্বিধা না করে এই পদ ছেড়ে দেবেন।
এক্সট্রাটাইম ওয়েব ডেস্ক: জার্মানির নতুন জাতীয় দলের প্রধান কোচ হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পরই কড়া বার্তা দিলেন ইয়ুর্গেন ক্লপ। তিনি জানিয়ে দিয়েছেন, যদি জার্মান সংবাদমাধ্যম তাঁর পরিবারকে অযথা বিরক্ত করে, তাহলে তিনি কোনও দ্বিধা না করে এই পদ ছেড়ে দেবেন।
২০২৪ সালে লিভারপুল ছাড়ার সময় ক্লপ বলেছিলেন, দীর্ঘ নয় বছরের দায়িত্ব পালনের পর তাঁর ‘শক্তি ফুরিয়ে গিয়েছিল’। সেই সময়ের মধ্যে তিনি লিভারপুলকে ছয়টি বড় ট্রফি জিতিয়েছিলেন। এবার তিনি ২০৩০ বিশ্বকাপ পর্যন্ত চুক্তিতে জার্মানির জাতীয় দলের দায়িত্ব নিয়েছেন।
নতুন দায়িত্ব নিয়ে ক্লপ বলেন,
“আমার লক্ষ্য জাতীয় দলকে আরও শক্তিশালী করে তোলা এবং এমন একটি দল তৈরি করা, যেখানে আমার বেছে নেওয়ার জন্য আরও বড় খেলোয়াড়ের ভাণ্ডার থাকবে। এটা কারও বিরুদ্ধে নয়, বরং দেশের ফুটবলের স্বার্থে। এই দায়িত্ব পাওয়া আমার কাছে বড় সম্মানের।”
তিনি আরও বলেন,
“আমি এই কাজের জন্য যথেষ্ট ভালো পারিশ্রমিক পাব। কিন্তু যদি আগামীকাল সবাই মনে করে, ‘ইয়ুর্গেন ক্লপ আর এই কাজের জন্য উপযুক্ত নন’, তাহলে আমি সরে দাঁড়াব। ডিএফবি (জার্মান ফুটবল ফেডারেশন) যদি মনে করে পরিবর্তন দরকার, তাতেও আমার কোনও আপত্তি নেই।”
তবে নিজের পরিবারের প্রসঙ্গে ক্লপের অবস্থান একেবারেই স্পষ্ট।
“যদি আপনারা আমার পরিবারকে শান্তিতে থাকতে না দেন, তাহলে আমি সঙ্গে সঙ্গেই চলে যাব। আমি পিছিয়ে আসতে এক মুহূর্তও ভাবব না। জানি, অনেক দেশেই জাতীয় দলের কোচদের আরও কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়। আমি এই কাজটাকে ভালোবাসি, কিন্তু প্রয়োজন হলে ছেড়ে দিতেও প্রস্তুত।”
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়েও বড় ঘোষণা করেছেন ক্লপ।
“জার্মান জাতীয় দলের কোচ হওয়ার পর আমার আর কোনও কোচিং ক্যারিয়ার থাকবে না। এটাই আমার কোচিং জীবনের সর্বোচ্চ শিখর। আমি আমার সর্বস্ব উজাড় করে দেব। আর আমার সঙ্গে রয়েছে বিশ্বের অন্যতম সেরা সহকারী কোচিং স্টাফ।”
উল্লেখ্য, জুলিয়ান নাগেলসম্যানের বিদায়ের পরই জার্মান ফুটবল ফেডারেশনের (ডিএফবি) প্রথম পছন্দ ছিলেন ইয়ুর্গেন ক্লপ। ২০২৬ বিশ্বকাপে জার্মানির হতাশাজনক পারফরম্যান্স এবং শেষ ৩২-এ প্যারাগুয়ের কাছে টাইব্রেকারে হারের পর নাগেলসম্যান দায়িত্ব ছাড়েন। এরপরই জাতীয় দলের ভবিষ্যৎ গড়ার দায়িত্ব তুলে দেওয়া হয় ক্লপের হাতে।
