টুর্নামেন্ট শুরুর একদিন আগে অর্ধেক প্রাইজ মানি! ভারত না খেলায় বড় ধাক্কা আসিয়ান কাপে
এই বাণিজ্যিক সমস্যার অন্যতম কারণ হিসেবে উঠে আসছে ভারত ও চিনের অনুপস্থিতি। এই দুই দেশকে আসিয়ান কাপের সম্ভাব্য গুরুত্বপূর্ণ দর্শক ও বাণিজ্যিক বাজার হিসেবে দেখা হয়েছিল। তাদের অংশগ্রহণ না থাকায় টুর্নামেন্টের সম্ভাব্য দর্শকসংখ্যা এবং সম্প্রচার স্বত্বের মূল্য নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

এক্সট্রাটাইম ওয়েবডেস্ক: আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হতে চলেছে প্রথম ফিফা আসিয়ান কাপ। তবে টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই প্রতিযোগিতাকে ঘিরে উঠছে একাধিক প্রশ্ন এবং তৈরি হচ্ছে একাধিক জল্পনা। পুরস্কারমূল্য কমানো থেকে শুরু করে সম্প্রচার স্বত্ব সব মিলিয়ে প্রতিযোগিতার বাণিজ্যিক ভবিষ্যৎ নিয়ে তৈরি হচ্ছে নতুন আলোচনা।
প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছিল, আসিয়ান কাপের প্রথম ডিভিশনের চ্যাম্পিয়ন দল পাবে ১০ লক্ষ মার্কিন ডলার। পাশাপাশি গোটা প্রতিযোগিতার পুরস্কারমূল্যও প্রায় ৪০ লক্ষ মার্কিন ডলার পর্যন্ত বাড়ানোর কথা ছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক কয়েকটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, চ্যাম্পিয়ন দলের পুরস্কারমূল্য কমিয়ে ৬ লক্ষ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার করা হতে পারে। অর্থাৎ আগের ঘোষিত অঙ্কের তুলনায় প্রায় ৩ লক্ষ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার কম। একই সঙ্গে আগের ম্যাচ জয়ের বোনাসও বাদ দেওয়ার খবর সামনে এসেছে। যদিও এই পরিবর্তন নিয়ে এখনও ফিফার পক্ষ থেকে কোনও আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ প্রকাশ্যে আসেনি।
অন্যদিকে, টুর্নামেন্টের সম্প্রচার স্বত্বও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনামের কয়েকটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই দুই বাজারে সম্প্রচার স্বত্বের জন্য ফিফা প্রায় ৩০ লক্ষ মার্কিন ডলার চেয়েছিল। কিন্তু সেই অঙ্কে সম্প্রচার স্বত্ব কিনতে সম্প্রচারকারী সংস্থাগুলি আগ্রহ দেখাচ্ছে না বলে খবর।
ইন্দোনেশিয়ায় অবশ্য পরিস্থিতি কিছুটা আলাদা। এমটেক মিডিয়া গ্রুপ ইন্দোনেশিয়ার সম্প্রচার স্বত্ব নিশ্চিত করেছে বলে খবর। ইন্দোনেশিয়ার সংবাদমাধ্যম ইন্দোসিয়ার স্পোর্টস জানিয়েছে, ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় দলের প্রতিটি ম্যাচ সরাসরি সম্প্রচার করা হবে ইন্দোসিয়ার, এসসিটিভি, ভিডিয়ো, মোজি এবং নেক্স-এর মতো বিভিন্ন টেলিভিশন ও ডিজিটাল মাধ্যমে। তবে এই সম্প্রচার স্বত্বের জন্য ঠিক কত টাকা দেওয়া হয়েছে, তা এখনও প্রকাশ্যে আসেনি।
এই বাণিজ্যিক সমস্যার অন্যতম কারণ হিসেবে উঠে আসছে ভারত ও চিনের অনুপস্থিতি। এই দুই দেশকে আসিয়ান কাপের সম্ভাব্য গুরুত্বপূর্ণ দর্শক ও বাণিজ্যিক বাজার হিসেবে দেখা হয়েছিল। তাদের অংশগ্রহণ না থাকায় টুর্নামেন্টের সম্ভাব্য দর্শকসংখ্যা এবং সম্প্রচার স্বত্বের মূল্য নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
ফিফা আসিয়ান কাপকে, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ফুটবলের প্রসার এবং প্রতিযোগিতামূলক কাঠামোকে আরও শক্তিশালী করার একটি মঞ্চ হিসেবে তুলে ধরেছে। তবে টুর্নামেন্টের দীর্ঘমেয়াদি সাফল্য নির্ভর করবে দর্শকদের আগ্রহ, সম্প্রচার বাজারের সাড়া এবং প্রতিযোগিতাটিকে বাণিজ্যিকভাবে কতটা কার্যকর করে তোলা যায়, তার উপর।
