শুধু গ্যালারিতে নয়, মানুষের পাশেও মোহনবাগান সমর্থকরা, সমর্থকদের বদলে যাওয়া সংস্কৃতির নতুন ছবি
একসময় ফুটবল সমর্থকদের পরিচয় মূলত গ্যালারির আবেগ, দলের প্রতি ভালোবাসা এবং ৯০ মিনিটের লড়াইকে ঘিরেই সীমাবদ্ধ ছিল। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সেই সমর্থক সংস্কৃতিতেও পরিবর্তন এসেছে। প্রিয় দলের পাশে থাকার পাশাপাশি সমাজের মানুষের পাশে দাঁড়ানো, সামাজিক কাজে যুক্ত হওয়া এবং প্রয়োজনীয় মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর উদ্যোগও এখন সমর্থকদের কর্মকাণ্ডের অংশ হয়ে উঠছে।

এক্সট্রাটাইম ওয়েবডেস্ক: মাঠের সমর্থকরা আজ আর শুধু ৯০ মিনিটের জন্য প্রিয় দলকে সমর্থন জানাতে মাঠে আসেন না। টিফো, স্লোগান, পতাকা কিংবা গ্যালারিতে গলা ফাটানোর বাইরেও ফুটবল সমর্থকদের ভূমিকা ক্রমশ ছড়িয়ে পড়ছে সমাজের বৃহত্তর পরিসরে। পুজোর মুখে কলকাতায় তারই এক মানবিক ছবি সামনে আনছে বিরাটি মেরিনার্স ও মেরিনার্স দ্য হার্টসের উদ্যোগ।
একসময় ফুটবল সমর্থকদের পরিচয় মূলত গ্যালারির আবেগ, দলের প্রতি ভালোবাসা এবং ৯০ মিনিটের লড়াইকে ঘিরেই সীমাবদ্ধ ছিল। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সেই সমর্থক সংস্কৃতিতেও পরিবর্তন এসেছে। প্রিয় দলের পাশে থাকার পাশাপাশি সমাজের মানুষের পাশে দাঁড়ানো, সামাজিক কাজে যুক্ত হওয়া এবং প্রয়োজনীয় মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর উদ্যোগও এখন সমর্থকদের কর্মকাণ্ডের অংশ হয়ে উঠছে।
এই পরিবর্তিত সংস্কৃতিরই একটি উদাহরণ ‘বিনামূল্যে বস্ত্র বাজার’। পুজোর আগে প্রয়োজনীয় মানুষের হাতে পোশাক তুলে দেওয়ার উদ্দেশ্যে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ব্যবহৃত হলেও ভালো ও ব্যবহারযোগ্য পোশাক সংগ্রহ করে তা মানুষের মধ্যে বিতরণের মাধ্যমে পুজোর আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার বার্তা দেওয়া হচ্ছে। ফুটবলের আবেগ এবার যেন গ্যালারির সীমানা ছাড়িয়ে পৌঁছে যাচ্ছে সমাজের প্রান্তিক মানুষের কাছে।
বিরাটি মেরিনার্স ও মেরিনার্স ডি হার্টসের উদ্যোগে, ইউনিক ফাউন্ডেশন (পশ্চিমবঙ্গ)-এর আয়োজনে এই পোশাক সংগ্রহ শিবিরের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকেও এই মানবিক কাজে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। আগামী ২৬ ও ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত মোহনবাগান ক্লাব প্রাঙ্গণ, কলকাতা ময়দানে পোশাক সংগ্রহের কর্মসূচি চলবে।
আয়োজকদের আবেদন, বাড়িতে থাকা ভালো অবস্থায় থাকা ব্যবহারযোগ্য পোশাক যেন ফেলে না দিয়ে এই উদ্যোগে দান করা হয়। একটি বাড়তি পোশাক অন্য একটি পরিবারের পুজোর আনন্দের কারণ হয়ে উঠতে পারে এই ভাবনাকেই সামনে রাখা হয়েছে।
ফুটবল তাই এখানে শুধু খেলা নয়, একটি সামাজিক সংস্কৃতির নাম। মাঠে দলকে সমর্থন, আর মাঠের বাইরে মানুষের পাশে দাঁড়ানো সমর্থনের এই নতুন সংজ্ঞাই যেন ফুটবল সংস্কৃতিকে আরও মানবিক করে তুলছে।
পুজোর আগে বিরাটি মেরিনার্স ও মেরিনার্স দ্য হার্টসের এই উদ্যোগ তাই শুধু একটি বস্ত্র সংগ্রহ বা বিতরণ কর্মসূচি নয়; এটি গ্যালারির আবেগকে সমাজের মানুষের কাজে লাগানোর একটি সুন্দর প্রচেষ্টা।
মাঠে দল, মাঠের বাইরে মানুষ এই হোক সমর্থনের নতুন পরিচয়।








