দেশের সেরা ক্লাবের সেরা সমর্থকদের সামনে খেলতে পারব ভেবে আমি রোমাঞ্চিত : মিগুয়েল
“মোহনবাগান সমর্থকরা অনেকটা ব্রাজিলের সমর্থকদের মতোই আবেগপ্রবণ ও প্রাণবন্ত। আমি দেখেছি নিজেদের দলের প্রতি সবুজ মেরুণ সমর্থকদের ভালোবাসা। প্রত্যাশা আর আবেগ নিয়ে ওঁরা দলকে সমর্থন করেন।
ছবি সৌজন্য মোহনবাগান এসজি
এক্সট্রাটাইম ওয়েব ডেস্ক
আলোচনা চলছিলই, খবরটাও অনেকেই জেনে গিয়েছিলেন। শেষ পর্যন্ত শুক্রবার সরকারিভাবে ঘোষণা করে দিল মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট। বিশ্বকাপের মাঝেই হল ঘোষণা। সাম্বার দেশের দাপুটে মিডিও মিগুয়েল ফিগুয়েরা দামাসোনাকে দলে নিল মোহনবাগান সুপার জায়েন্ট। গতবার লালবলুদ জার্সিতে আইএসএলের সোনার বল জিতে নিয়েছিলেন।তাঁর সঙ্গে দুবছরের চুক্তি হল সবুজ মেরুনের। সিরি এ লিগে খেলা মিগুয়েল এশিয়ায় এসে প্রথম নজর কাড়েন বাংলাদেশে ক্লাবে খেলার সময়। বাংলাদেশের চ্যাম্পিয়ন ক্লাব বসুন্ধরা কিংসে তিন বছর খেলার পর গতবছর খেলতে আসেন ইস্টবেঙ্গলে। দলকে তো চ্যাম্পিয়ন করেনই, তার পাশাপাশি প্রতিযোগিতার সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হয়ে সোনার বলও জেতেন তিনি। সাম্বার দেশের এই্ অ্যাটাকিং মিডিও মাঝমাঠ থেকে গোলের পাস বাড়াতে ওস্তাদ। এই মোহনবাগানে এরকমই একজন ফুটবলারের খুব দরকার ছিল। গত মরসুমে আই এস এলে ১২ ম্যাচ খেলে দুটি গোল করা ছাড়াও পাঁচটি গোলের পাস বাড়িয়েছেন তিনি। মোহনবাগান এসজির সঙ্গে চুক্তির পর ব্রাজিল থেকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এমবি এসজি মিডিয়া টিমকে মিগুয়েল ফিগুয়েরা বলেন,
“মোহনবাগান সমর্থকরা অনেকটা ব্রাজিলের সমর্থকদের মতোই আবেগপ্রবণ ও প্রাণবন্ত। আমি দেখেছি নিজেদের দলের প্রতি সবুজ মেরুণ সমর্থকদের ভালোবাসা। প্রত্যাশা আর আবেগ নিয়ে ওঁরা দলকে সমর্থন করেন। ওঁরা ম্যাচ জেতা এবং চ্যাম্পিয়ন হওয়া ছাড়া আর কিছু ভাবেন না। সেজন্য ওঁরা সবকিছু দিতেও তৈরি। এই যে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার চাপ. এটা নিয়ে খেলতেই আমি ভালবাসি এবং সেটা উপভোগও করি। সবুজ মেরুন জার্সি পরার জন্য আমি মুখিয়ে আছি। দেশের সেরা দলের সেরা সমর্থকদের সামনে নতুন জার্সি পরে নামব সেটা ভেবে রোমাঞ্চিতও হচ্ছি।“
“মোহনবাগান সুপার জায়ান্টের প্রস্তাবটা আমি প্রথম জানাই আমার স্ত্রী-কে। কারণ এটা দেশের সেরা ক্লাবের প্রস্তাব, ভাবতে তো হবেই। তাই আমরা দুজনে বেশ কয়েকদিন এ বিষয়ে দীর্ঘ আলোচনা করেছি। এর পাশাপাশি ক্লাবের সঙ্গেও আলোচনা চলতে থাকে। শেষ পর্যন্ত মোহনবাগান সুপার জায়ান্টেই সই করার সিদ্ধান্ত নিলাম“
“মোহনবাগানের বিরুদ্ধে খেলার অভিজ্ঞতা আমার আছে। সেই খেলাটা কতটা কঠিন সেটাও জানি। সমর্থকদের জন্যই শুধু আইএসএল নয়. ডুরান্ড কাপ, সুপার কাপ—যে প্রতিযোগিতায় নামব চ্যাম্পিয়ন হওয়ার লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নামব। গোল করার চেয়েও আমি গোলের পাস বাড়াতে ভালোবাসি। স্ট্রাইকারে জেমি ম্যাকলারেনের মতো গোল তীক্ষ্ণ স্ট্রাইকারকে পাবো। ম্যাকলারেনের সঙ্গে মাঠে কিছু ম্যাজিক দেখাতে চাই। ওর সঙ্গে কিছু ভাল গোলের সেলিব্রেশনের মুহূর্ত সমর্থকদের উপহার দিতে চাই।“
“কলকাতা ডার্বির মাহাত্ম্য কী তা আমি জানি। এ বার ডার্বিতে আমি সবুজ মেরুন জার্সি পরে নামব। যেখানে যে প্রতিযোগিতাতেই ডার্বি হবে সেখানে দলকে জেতানোর জন্য নিজেকে উজাড় করে দেবো। সদস্য সমর্থকদের ডার্বি হারার কষ্টটা দিতে চাই না।“
“বাংলাদেশের সেরা ক্লাব বসুন্ধরা কিংসে তিন বছর খেলেছি। চ্যাম্পিয়ন করেছি লিগে। ভারতেও খেললাম। কোনও সন্দেহ নেই যে বাংলাদেশের চেয়ে ভারতের লিগের মান অনেক উন্নত। বেশি প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক। বাংলাদেশের ফুটবলারদের তুলনায় ভারতীয় ফুটবলাররা অনেক বেশি প্রতিভাবান এবং দক্ষ।“
“মোহনবাগান এবার আরও শক্তিশালী দল নিয়ে মাঠে নামবে। আমাদের বিদেশিদের মধ্যে আলবার্তো রদরিগেজ অসাধারণ ডিফেন্ডার। ওর বিরুদ্ধে খেলেছি। ওকে টপকানো কঠিন। খুব শক্তিধর, গতিশীল এবং আমার দেখা আইএসএলের অন্যতম সেরা ডিফেন্ডার।“
এভাবেই নিজের আবেগ ও উচ্ছ্বাসের কথা জানালেন মিগুয়েল। ব্রাজিল থেকে এখনই প্রতিশ্রুতি দিয়ে দিলেন, এবার আবেগে ভাসাবেন সমর্থকদের।
