অনূর্ধ্ব-২৩ থেকে সিনিয়র দল, বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের সামনে সানান-ম্যাকার্টনের বড় পরীক্ষা
বিশ্বমানের ফুটবলারদের বিরুদ্ধে খেলার গুরুত্ব সম্পর্কে যথেষ্ট সচেতন সানান ও নিকসন। তবে আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজেদের কৌশলগত দায়িত্ব ঠিকভাবে পালন করাই তাঁদের প্রধান লক্ষ্য। এর আগে ইউনিটি কাপে জামাইকা ও জিম্বাবোয়ের মতো দলের বিরুদ্ধে খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে নিকসনের। সেই অভিজ্ঞতা আসন্ন ম্যাচগুলোতে তাঁকে সাহায্য করবে বলে মনে করেন তিনি।

এক্সট্রাটাইম ওয়েবডেস্ক: পানামা, ব্রাজিল ও উরুগুয়ের বিরুদ্ধে ভারতের প্রতীক্ষিত প্রীতি ম্যাচের দিনক্ষণ এগিয়ে আসছে। এই কঠিন আন্তর্জাতিক চ্যালেঞ্জের জন্য ঘোষিত শক্তিশালী ভারতীয় দলে জায়গা করে নিয়েছেন বেশ কয়েকজন তরুণ ফুটবলার। তাঁদের মধ্যে অন্যতম মহম্মদ সানান ও ম্যাকার্টন নিকসন। অনূর্ধ্ব-২৩ শিবির থেকে একসঙ্গে পথচলা শুরু হয়েছিল এই দুই তরুণ প্রতিভার। এবার সিনিয়র জাতীয় দলের জার্সিতে কেরিয়ারের অন্যতম বড় পরীক্ষার জন্য প্রস্তুত তাঁরা।
আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর বেঙ্গালুরুর শ্রী কান্তিরাভা স্টেডিয়ামে পানামার বিরুদ্ধে ম্যাচ দিয়ে এই প্রীতি সিরিজ শুরু করবে ভারত। এরপর কলকাতার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে ৩ অক্টোবর পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল এবং ৬ অক্টোবর দু’বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন উরুগুয়ের মুখোমুখি হবে ব্লু টাইগার্সরা।
অনূর্ধ্ব-২৩ দলের একাধিক শিবিরে দীর্ঘদিন একসঙ্গে খেলার সুবাদে সানান ও নিকসনের মধ্যে তৈরি হয়েছে দারুণ বোঝাপড়া। সতীর্থের খেলার ধরন সম্পর্কে যথেষ্ট ওয়াকিবহাল দু’জনেই। নিকসনের সৃজনশীলতা এবং মাঝমাঠ থেকে রক্ষণভেদী পাস বাড়ানোর ক্ষমতা বিশেষভাবে মুগ্ধ করে সানানকে।
সানান বলেন, “ও যেভাবে খেলে, সেটা আমার খুব ভালো লাগে। বিশেষ করে ওর থ্রু পাস, ড্রিবলিং এবং প্রতিপক্ষকে ড্রিবল করে এগিয়ে যাওয়ার ক্ষমতা। আমরা অনেক দিন ধরে একসঙ্গে রয়েছি—প্রথমে অনূর্ধ্ব-২৩ শিবিরে, এখন সিনিয়র দলে। ওর যে বিষয়টা আমার সবচেয়ে ভালো লাগে, তা হল ওর বাড়ানো থ্রু পাসগুলো।”
অন্যদিকে, সানানের নির্ভীক আক্রমণাত্মক ফুটবলই নিকসনের সবচেয়ে বেশি পছন্দ। প্রতিপক্ষ যত বড়ই হোক, একের বিরুদ্ধে এক পরিস্থিতিতে সানানের আত্মবিশ্বাসী মনোভাব তাঁকে মুগ্ধ করে।
নিকসনের কথায়, “ও যেভাবে ভয়ডরহীনভাবে ডিফেন্ডারদের একের বিরুদ্ধে এক নেয়, সেটা আমার খুব ভালো লাগে। প্রতিপক্ষ যেই হোক না কেন, ও কাউকে ভয় পায় না। নিজের খেলাটা উপভোগ করে এবং সরাসরি ডিফেন্ডারদের চ্যালেঞ্জ জানায়। ওকে খেলতে দেখতে আমার সত্যিই ভালো লাগে।”
বিশ্ব ফুটবলের দুই শক্তিশালী দলের বিরুদ্ধে খেলতে নামার আগে চাপের বিষয়টি স্বীকার করলেও প্রস্তুতিতে কোনও পরিবর্তন আনতে চান না সানান। তাঁর মতে, কোচের নির্দেশ মেনে নিজেদের পরিকল্পনা অনুযায়ী খেলাই হবে ভারতের মূল লক্ষ্য।
সানান বলেন, “প্রস্তুতি একই থাকবে। আমরা নিজেদের উন্নতি করার জন্য কঠোর পরিশ্রম করছি। কোচের কথা শুনব এবং ম্যাচে তাঁর নির্দেশ পালন করার চেষ্টা করব। অবশ্যই ম্যাচগুলো কঠিন হবে, তবে আমাদের প্রস্তুতিতে কোনও পরিবর্তন আসবে না।”
বিশ্বমানের ফুটবলারদের বিরুদ্ধে খেলার গুরুত্ব সম্পর্কে যথেষ্ট সচেতন সানান ও নিকসন। তবে আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজেদের কৌশলগত দায়িত্ব ঠিকভাবে পালন করাই তাঁদের প্রধান লক্ষ্য। এর আগে ইউনিটি কাপে জামাইকা ও জিম্বাবোয়ের মতো দলের বিরুদ্ধে খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে নিকসনের। সেই অভিজ্ঞতা আসন্ন ম্যাচগুলোতে তাঁকে সাহায্য করবে বলে মনে করেন তিনি।
নিকসন বলেন, “ইউনাইটেড কিংডমে বড় দলগুলোর বিরুদ্ধে খেলার সুযোগটা দারুণ ছিল। এই ধরনের অভিজ্ঞতা আমাদের উন্নতি করতে সাহায্য করে। এবার ঘরের মাঠে আসন্ন চ্যালেঞ্জের জন্য আমরা প্রস্তুত।”
পারস্পরিক আস্থা, দীর্ঘদিনের বোঝাপড়া এবং আন্তর্জাতিক ফুটবলের অভিজ্ঞতাকে সঙ্গী করে ভারতের জার্সিতে নিজেদের ছাপ ফেলতে প্রস্তুত সানান ও নিকসন। বিশ্ব ফুটবলের দুই পরাশক্তির বিরুদ্ধে আসন্ন ম্যাচগুলোতে এই দুই তরুণের পারফরম্যান্সের দিকেও থাকবে ফুটবলপ্রেমীদের নজর।








