ট্রফি বিতর্কে ভারতকে নিশানা আফ্রিদির, ইউসুফের সমর্থন নকভিকে
ভারতীয় মহিলা দলের প্রধান কোচ অমল মুজুমদার স্পষ্ট জানিয়েছেন, এই ঘটনাকে দলের অভ্যন্তরীণ বিবাদ হিসেবে দেখা হচ্ছে না। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ট্রফি গ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল বিসিসিআই এবং ভারতীয় দল সেই সিদ্ধান্তের পাশে রয়েছে। তবে কোচের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল মাঠের সাফল্য। ভারত টুর্নামেন্ট জিতেছে, আর ট্রফি প্রদান অনুষ্ঠান ঘিরে তৈরি হওয়া পরিস্থিতি সেই সত্যকে বদলাতে পারে না।

এক্সট্রাটাইম ওয়েবডেস্ক: মাঠে ভারতীয় মহিলা দলের এশিয়া কাপ জয় সম্পূর্ণ হলেও, ট্রফি প্রদান অনুষ্ঠান ঘিরে বিতর্ক এখনও অব্যাহত। এই বিতর্কে এবার মুখ খুললেন প্রাক্তন পাকিস্তানি ব্যাটার মহম্মদ ইউসুফ। সমাজমাধ্যমে নিজের মতামত জানিয়ে এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের প্রধান মহসিন নকভির পাশে দাঁড়িয়েছেন তিনি।
রবিবার দুবাইয়ে শ্রীলঙ্কাকে ৭২ রানে হারিয়ে এশিয়া কাপের শিরোপা জেতে ভারত। তবে ম্যাচের পর ট্রফি প্রদান অনুষ্ঠান ঘিরে তৈরি হয় অস্বাভাবিক পরিস্থিতি। ভারতীয় দল এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের সভাপতি তথা পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভির কাছ থেকে ট্রফি গ্রহণ করতে মঞ্চে আসেনি। ফলে সেদিন রাতে চ্যাম্পিয়ন দলের হাতে ট্রফি তুলে দেওয়া সম্ভব হয়নি।
ভারতীয় মহিলা দলের প্রধান কোচ অমল মুজুমদার স্পষ্ট জানিয়েছেন, এই ঘটনাকে দলের অভ্যন্তরীণ বিবাদ হিসেবে দেখা হচ্ছে না। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ট্রফি গ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল বিসিসিআই এবং ভারতীয় দল সেই সিদ্ধান্তের পাশে রয়েছে। তবে কোচের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল মাঠের সাফল্য। ভারত টুর্নামেন্ট জিতেছে, আর ট্রফি প্রদান অনুষ্ঠান ঘিরে তৈরি হওয়া পরিস্থিতি সেই সত্যকে বদলাতে পারে না।
বিসিসিআই সচিব দেবজিৎ সইকিয়াও বোর্ডের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন। তিনি জানান, ফাইনালের আগেই ভারত নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছিল। পাশাপাশি, অন্য কোনও আধিকারিকের মাধ্যমে ট্রফি তুলে দেওয়ার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই বিকল্পগুলি গ্রহণ করা হয়নি বলে জানান সইকিয়া। ফলে বিতর্ক আরও জটিল হয়েছে।
ভারতীয় শিবিরের একাধিক মন্তব্যের মধ্যে উল্লেখযোগ্য অধিনায়ক হরমনপ্রীত কউরের বক্তব্য। তিনি দলের পারফরম্যান্সের উপরেই মনোযোগ রাখার কথা বলেছেন এবং বিতর্ক নিয়ে প্রকাশ্যে বড় কোনও মন্তব্য না করার ইঙ্গিত দিয়েছেন। প্রাক্তন ভারতীয় ক্রিকেটার মদন লালও প্রশ্ন তুলেছেন, ট্রফি প্রদান নিয়ে এমন পরিস্থিতি চলতে থাকলে ভারতের পাকিস্তানের বিরুদ্ধে খেলা উচিত কি না।
অন্যদিকে, প্রাক্তন পাকিস্তানি অধিনায়ক শাহিদ আফ্রিদি ট্রফি গ্রহণ না করার ঘটনায় ভারতীয় মহিলা দলের সমালোচনা করেছেন। তাঁর অভিযোগ, ভারতীয় দল বারবার পাকিস্তান ও সে দেশের আধিকারিকদের অসম্মান করছে। ট্রফি প্রদান অনুষ্ঠান ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্ককে তিনি দুই দেশের ক্রিকেট সম্পর্কের বৃহত্তর টানাপোড়েনের অংশ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
আফ্রিদির মন্তব্যের পাশাপাশি মহম্মদ ইউসুফের বক্তব্যও ভারত-পাকিস্তান ক্রিকেট সম্পর্কের উত্তেজনাপূর্ণ আবহে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। ভারতীয় দলের অবস্থান অবশ্য স্পষ্ট ট্রফি মাঠে জেতা হয়েছে। ফলে মাঠের সাফল্যকে সামনে রেখেই এগোতে চাইছে দল। তবে ফাইনালের পরেও ট্রফি বিতর্ক থামার কোনও লক্ষণ নেই।
