মাঠে ফুটবল, ঘরে সংগ্রাম: ২৬ বছর পর সুব্রত কাপ বাংলার ঘরে
সুব্রত কাপ জয়ী এই দলে এরম অনেক ছোটু-ই আছে, যারা প্রতিদিন পরিস্থিতির সাথে লড়াই করেও, হার মানেনা, স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্যে অটল থাকে। এদের মধ্যে সবারই স্বপ্ন ভারতের হয়ে আন্তর্জাতিক মঞ্চে খেলার, হাজারও প্রতিকূলতার মাঝেও নিজেদের প্রতিভাকে শান দিয়ে আরও বড় মঞ্চের জন্য নিজেদের প্রস্তুত করছে এই ঝাড়গ্রামের এই তরুণ দল।

এক্সট্রাটাইম ওয়েবডেস্ক: মাঝে কেটে গেছে ২৬ টা বছর, দুই দশকেরও বেশি সময়, এই দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসানের পর, ঝাড়গ্রামের প্রত্যন্ত গ্রামের মানিকপাড়া বিবেকানন্দ বিদ্যাপীঠ ছাত্রদের হাত ধরে বাংলায় এলো সুব্রত কাপ। এই জয় শুধু একটি টুর্নামেন্ট জয় নয়, এই জয় লড়াই, আর্থিক অনটন, হাজারও প্রতিকূলতার মাঝে স্বপ্ন দেখা ও হার না মানার গল্প।
মনিকপাড়া স্কুলের হেডমাস্টার, শৈবাল মহাপাত্র বলেন, "চারটে ঘরে থাকে বাহাত্তর জন ছাত্র"। তাঁর কথা অনুযায়ী, অভাব ছিলো এই খেলোয়াড়দের নিত্যদিনের সঙ্গী; জায়গার অভাব, সুযোগের অভাব, আর্থিক অভাব, ছিলনা শুধু স্বপ্নের অভাব। অভাব কে ভুলে, এই স্বপ্ন আর জেতার খিদে কে সঙ্গী করেই মাঠে নেমেছিল বাংলার এই তরুণ খেলোয়াড়রা। অভাব অনটনের সাথে নিত্যদিনের জীবন যাপন করেও, ভারতের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ স্কুল ফুটবলের জাতীয় মঞ্চে শেষ হাসি হাসলো, মানিকপাড়া বিবেকানন্দ বিদ্যাপীঠের ছাত্ররা।
ঝাড়গ্রামের জয়ী দলের এই ছেলে গুলোর প্রায় সবাই আদিবাসী সম্প্রদায়ের, মাটির সংস্পর্শে তাদের বেড়ে ওঠা; তাদের দৈনন্দিন রুটিন বলতে মাঠে খেলাধূলা, বাবা মা কে চাষাবাদে সাহায্য। প্রকৃতির মাঝে বেড়ে ওঠা এবং রোজের জীবনযুদ্ধের সাথে মানিয়ে, ফুটবলই এই ছেলে গুলোর স্বপ্ন পূরণের একমাত্র রাস্তা।
ফাইনালের মঞ্চে যেই ছোটু রাম হেমব্রমের গোলে বাংলা দীর্ঘ ২৬ বছর পর সুব্রত কাপ পেলো, তার বাবাও চাষাবাদ করেন। ছোটু বলেন ৫ বছর বয়সে ফুটবলে হাতেখড়ি, কিন্তু ফুটবল নিয়ে উন্মাদনার কারণে বাড়িতে শুনতে হয়েছে খেলাধূলা করে কি হবে, সত্যিই তো, যেখানে নুন আনতে পান্তা ফুরায় সেখানে খেলোয়াড় হওয়ার স্বপ্ন যেন বিলাসিতা। কিন্তু ছোটুর এই জয় প্রমাণ করে দিলো ছেড়া কাঁথাতে শুয়েই লাখ টাকার স্বপ্ন দেখতে হয়। ছোটুর নিজের বাবাকে চাষে সাহায্য করে মাটির সাথে টান, হার না মানা জেদ, আর এক আকাশ সমান স্বপ্নই আজ তাকে পৌঁছে দিয়েছে জয়ের এই মঞ্চে।
সুব্রত কাপ জয়ী এই দলে এরম অনেক ছোটু-ই আছে, যারা প্রতিদিন পরিস্থিতির সাথে লড়াই করেও, হার মানেনা, স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্যে অটল থাকে। এদের মধ্যে সবারই স্বপ্ন ভারতের হয়ে আন্তর্জাতিক মঞ্চে খেলার, হাজারও প্রতিকূলতার মাঝেও নিজেদের প্রতিভাকে শান দিয়ে আরও বড় মঞ্চের জন্য নিজেদের প্রস্তুত করছে এই ঝাড়গ্রামের এই তরুণ দল।
২৬ বছর আগে বাংলার যে সাফল্য থেমে গেছিল, ঝাড়গ্রামের মানিকপাড়া বিদ্যাপীঠের ছাত্রদের হাত ধরে এতদিন পর বাংলা পেলো তাঁর হারানো ঐতিহ্য।
