বৈভবের অভাবনীয় ব্যাটিংয়ে মুগ্ধ আক্রম, পাকিস্তানের ক্রিকেট কাঠামো নিয়ে বিস্ফোরক প্রশ্ন
ধারাবাহিক পারফরম্যান্স এবং নিরলস অনুশীলনের ওপর ভর করেই এগিয়ে চলেছে সূর্যবংশীর ক্রিকেটযাত্রা। অভিজ্ঞ বোলারদের বিরুদ্ধেও কোনও দ্বিধা ছাড়াই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করার ক্ষমতা তাঁকে আলাদা করে তুলেছে। মাত্র ১৫ বছর বয়সেই তাঁর এই পরিণত মানসিকতা এবং সাহসী ক্রিকেট নজর কেড়েছে ক্রিকেটমহলের। তাঁর অগ্রগতি আরও একবার তুলে ধরেছে ভারতীয় ক্রিকেটের বয়সভিত্তিক পরিকাঠামোর গুরুত্ব। বয়সভিত্তিক ক্রিকেট থেকে আইপিএল এবং সেখান থেকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে পৌঁছনোর যে পথ তরুণ ক্রিকেটারদের সামনে তৈরি রয়েছে, সূর্যবংশীর উত্থান তারই এক উজ্জ্বল উদাহরণ।

এক্সট্রাটাইম ওয়েবডেস্ক:বয়স কখনও সাফল্যের মাপকাঠি নয় তা আরও একবার প্রমাণ করে দিলো ভারতীর এই তরুণ প্রতিভা। মাত্র ১৫ বছর বয়সেই প্রমাণ করে দিয়েছেন, প্রতিভা, আত্মবিশ্বাস ও কঠোর পরিশ্রম করলে সাফল্য নিশ্চিত। নির্ভীক শট খেলা এবং বিস্ফোরক ব্যাটিংয়ের মাধ্যমে ইতিমধ্যেই নজর কেড়েছেন ভারতের তরুণ ব্যাটার বৈভব সূর্যবংশী। ক্রিকেটবিশ্বে অন্যতম প্রতিশ্রুতিমান তরুণ হিসেবে নিজের পরিচিতি তৈরি করছেন তিনি। সূর্যবংশীর দ্রুত উত্থান নজর এড়ায়নি পাকিস্তানের কিংবদন্তি ওয়াসিম আক্রমেরও। আর এই তরুণ প্রতিভার উত্থানকে উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরে পাকিস্তান ক্রিকেটের একটি গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন আক্রম, পাকিস্তানে তরুণ ব্যাটিং প্রতিভা উঠে আসার ধারাবাহিক ব্যবস্থা কি যথেষ্ট শক্তিশালী?
ধারাবাহিক পারফরম্যান্স এবং নিরলস অনুশীলনের ওপর ভর করেই এগিয়ে চলেছে সূর্যবংশীর ক্রিকেটযাত্রা। অভিজ্ঞ বোলারদের বিরুদ্ধেও কোনও দ্বিধা ছাড়াই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করার ক্ষমতা তাঁকে আলাদা করে তুলেছে। মাত্র ১৫ বছর বয়সেই তাঁর এই পরিণত মানসিকতা এবং সাহসী ক্রিকেট নজর কেড়েছে ক্রিকেটমহলের। তাঁর অগ্রগতি আরও একবার তুলে ধরেছে ভারতীয় ক্রিকেটের বয়সভিত্তিক পরিকাঠামোর গুরুত্ব। বয়সভিত্তিক ক্রিকেট থেকে আইপিএল এবং সেখান থেকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে পৌঁছনোর যে পথ তরুণ ক্রিকেটারদের সামনে তৈরি রয়েছে, সূর্যবংশীর উত্থান তারই এক উজ্জ্বল উদাহরণ।
ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে কোচিং ও মেন্টরিংয়ের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে ওয়াসিম আক্রমের। ২০১০ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত কলকাতা নাইট রাইডার্সের বোলিং কোচ ও মেন্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। সেই সময়ে দলের একাধিক সফল আইপিএল অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল তাঁর। পাকিস্তান সুপার লিগেও ইসলামাবাদ ইউনাইটেড, মুলতান সুলতানস এবং করাচি কিংসের সঙ্গে কাজ করেছেন আক্রম।
তরুণ ক্রিকেটারদের উত্থানের গুরুত্ব ভালোভাবেই বোঝেন এই প্রাক্তন পাকিস্তানি পেসার। তাই সূর্যবংশীর মতো প্রতিভার আবির্ভাবকে প্রশংসা করার পাশাপাশি পাকিস্তানের ক্রিকেটব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, একই রকম প্রভাব ফেলতে সক্ষম তরুণ ব্যাটার কি যথেষ্ট সংখ্যায় তৈরি করতে পারছে পাকিস্তান? দেশের ক্লাব ক্রিকেট ও ঘরোয়া ক্রিকেটের কাঠামোকে আরও শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছেন আক্রম। তাঁর মতে, এই সমস্যা দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নিতে হবে।
এক সাক্ষাৎকারে ওয়াসিম আক্রম বলেন, “পিএসএল শুরু হওয়ার এক দশক পরেও প্রতিভা তুলে আনার ব্যবস্থায় ভারসাম্যের অভাব স্পষ্ট। বিশ্বমানের ফাস্ট বোলার তৈরি করার ক্ষেত্রে আমরা দক্ষতা অর্জন করেছি। কিন্তু আমাদের ক্রিকেটব্যবস্থা এখনও এমন কোনও প্রজন্ম-নির্ধারক ব্যাটিং প্রতিভাকে তুলে আনতে পারেনি, যে দীর্ঘদিন ধরে ক্রিকেটে প্রভাব ফেলতে পারে। জাতীয় ক্রিকেটের প্রকৃত উন্নতি তখনই সম্ভব, যখন আমরা বিস্ফোরক প্রতিভাসম্পন্ন কিশোর ব্যাটারদের দ্রুত খুঁজে বের করে, পরিচর্যা করে এবং শুরু থেকেই তাঁদের ওপর আস্থা রাখব যাতে তাঁরা অন্য কোথাও গিয়ে পরিণত হওয়ার অপেক্ষা না করে।”
পাকিস্তানের এই সমস্যা শুধু সীমিত ওভারের ক্রিকেটেই সীমাবদ্ধ নয়। তরুণ ব্যাটারদের সম্পূর্ণ ক্রিকেটার হিসেবে গড়ে তুলতে লাল বলের ক্রিকেটের পরিকাঠামো আরও শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেছেন আক্রম। তাঁর মতে, ঘরোয়া ক্রিকেটে এমন পরিবেশ তৈরি করা জরুরি, যেখানে তরুণ প্রতিভারা নিয়মিত সুযোগ পাবে এবং দীর্ঘ পরিসরের ক্রিকেটের চ্যালেঞ্জ সামলে নিজেদের উন্নত করতে পারবে।
অন্যদিকে, সূর্যবংশীর উত্থান ভারতীয় ক্রিকেটের জন্য যথেষ্ট আশাব্যঞ্জক। তাঁর গল্প আরও একবার দেখিয়ে দিচ্ছে, তরুণ প্রতিভাকে সঠিক সময়ে সুযোগ দেওয়া হলে তারা নিজেদের মেলে ধরতে পারে, কঠিন প্রতিযোগিতার মধ্যে দিয়ে এগিয়ে যেতে পারে এবং শেষ পর্যন্ত ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় মঞ্চে জায়গা করে নিতে পারে। ভারতের জন্য এটি আশার বার্তা। আর পাকিস্তানের জন্য ওয়াসিম আক্রমের মন্তব্য এক গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা, পরবর্তী প্রজন্মের প্রতিভাদের বিকাশে এখনই মনোযোগ না দিলে দুই দেশের ক্রিকেটের ব্যবধান আরও বাড়তে পারে।
