পিছিয়ে পড়েও দুরন্ত কামব্যাক, কুয়েতের আল আরাবিকে ৪-১ গোলে হারিয়ে এএফসি চ্যাম্পিয়নস লিগ টু-র মূলপর্বে ইস্টবেঙ্গল
দুরন্ত প্রত্যাবর্তন। অসাধারণ লড়াই। পিছিয়ে পড়েও যেভাবে কুয়েতের শক্তিশালী আল আরাবিকে হারাল ইস্টবেঙ্গল, কোনও প্রশংসাই যথেষ্ট নয়। প্রথমে গোল খেয়েও ৪-১ গোলে দুরন্ত জয়ে এএফসি চ্যাম্পিয়নস লিগ টু-র মূলপর্বে চলে গেল লালহলুদ ব্রিগেড।

এক্সট্রাটাইম ওয়েব ডেস্ক
দুরন্ত প্রত্যাবর্তন। অসাধারণ লড়াই। পিছিয়ে পড়েও যেভাবে কুয়েতের শক্তিশালী আল আরাবিকে হারাল ইস্টবেঙ্গল, কোনও প্রশংসাই যথেষ্ট নয়। প্রথমে গোল খেয়েও ৪-১ গোলে দুরন্ত জয়ে এএফসি চ্যাম্পিয়নস লিগ টু-র মূলপর্বে চলে গেল লালহলুদ ব্রিগেড।
ম্যাচের আগে এমন ফল কেউ কল্পনাও করতে পারেনি। হাজার প্রতিকূলতা নিয়ে নেমেছিল হাবাসের দল। চোট আঘাত ফিটনেল সমস্যায় জর্জরিত। প্রথম দলে দু জনের বেশি বিদেশি রাখা যায়নি, সেখানে কুয়েতি দলটির পাঁচ বিদেশি। কিন্তু ইসল্টবেঙ্গল আবার বুঝিয়ে দিল যে কোনও পরিস্থিতিতে বিদেশি দলের বিরুদ্ধে কেন তারা সব সময়ই ভয়ঙ্কর। এদিন যুবভারতীতে আল জাওরা ম্যাচের স্মৃতি ফেরালো তারা। এভাবেই একদিন সবাইকে চমকে দিয়ে ইরাকের আল জাওরাকে ৬ গোল দিয়েছিল। এদিন কুয়েতের প্রিমিয়র লিগের রানার্স আল আরাবিকে দিল ৪ গোল।
প্রথমার্ধে ভারি মাঠে দুই দলই আক্রমণাত্মক খেললেও খেলাটা সেভাবে দানা বাঁধেনি। তারই মধ্যে প্রভসুখন গিল বার দুয়েক ইস্টবেঙ্গলের পতন রোখেন। খেলাটা জমল বিরতির পর। সন্দীপ মান্ডি বক্সের মধ্যে ফাউল করলে পেনাল্টি পায় আরাবি। পেনাল্টি থেকে গোল করে এগিয়েও যায়। তারপর গোল শোধের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে ইস্টবেঙ্গল। রশিদের পিন পয়েন্ট ফ্রিকিক থেকে হেডে গোল করে সমতা ফেরান জয় গুপ্ত। ৯০ মিনিটে ওই ১-১। নির্ধারিত সময়ে খেলার গতি বাড়ল। তবে শেষ ১৫ মিনিটে যেন ম্যাজিক দেখালেন লালহলুদ ফুটবলাররা। ওই শেষ লগ্নে আরাবিকে চমকে দিয়ে পরপর তিন গোল।
প্রথমে ড্রপ ভলিতে ২-১ করেন। তারপর মাথা ঠান্ডা রেখে দারুণ পরিণতিবোধের পরিচয় দিয়ে ৩-১ করেন ডেভিড। আর শেষ গোলটি ডেভিডের পাস থেকে করে যান রোহিত দানু। তবে রশিদের মত একজন ফুটবলার হাতে থাকলে মাঝমাঠ নিয়ে কোচের চিন্তা অনেকটাই যে কমে যায় সেটা এদিন আবার বোঝা গেল। কিছুক্ষণের জন্য মাঠে নেমে প্রথম দিন হতাশ করেননি ইকোনোমিডিস। সবচেয়ে বেশি কৃতিত্ব দিতে হবে ইস্টবেঙ্গল রক্ষণকে। যদিও ম্যাচের আগে আ্ল আরাবিকে নিয়ে যতটা হাইপ উঠেছিল, বোঝা গেল সেটা একেবারেই ফানুসের হাওয়া ছিল। তাদের বিদেশিরাও একেবারে মাঝারি মানের। তবু ইস্টবেঙ্গলের এই জয়ের কৃতিত্ব তাতে কমে না। চ্যাম্পিয়নস্ লিগ টু-র মূলপর্বে তো চলে গেলই একই সঙ্গে ওই শেষ ১৫ মিনিটের ফুটবল গোটা মরসুমের জন্য অনেকটাই অক্সিজেন দিয়ে গেল লালহলুদকে।
